ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেলের ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক প্রার্থী রূপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গা অভিযোগ করেন, তার পরিচিত এক ভোটার বুথে গিয়ে দেখেন— ব্যালট পেপারে আগে থেকেই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম এবং এজিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের পক্ষে ‘ক্রস’ দেওয়া। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টিএসসি ভোটকেন্দ্রের টেবিল নম্বর ১-এ।
অভিযোগের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. নাসরিন সুলতানা বলেন, “ব্যালট পেপার নিয়ে বুথে ঢোকার পর এমন অভিযোগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা সব ব্যালট পেপার চেক করেছি, কোথাও এ ধরনের সমস্যা পাইনি।
তারপরও ওই শিক্ষার্থীকে একটি নতুন ব্যালট পেপার দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, সকালেই ওই কেন্দ্রে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়ে গেছে। তার মতে, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য হয়তো এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে, কিংবা ভোটার নিজেই ভুল করেছেন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। দুপুর ২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগটিকে ‘কাঁচা নাটক’ বলে অভিহিত করেন। তার ভাষায়, “আগে টিক দেওয়া ব্যালট শিক্ষার্থীর হাতে কেন দেবে? ধরা খাওয়ার জন্য? খুব কাঁচা নাটক হয়ে গেলো না?”
এর আগে আরেকটি পোস্টে তিনি কটাক্ষ করে লেখেন, “যাদের ঠকা কনফার্ম হইছে, তারা দ্রুত সম্মিলিত বয়কট পর্ষদ ঘোষণা করুন।” তবে সর্বশেষ দুপুর ২টা ২১ মিনিটে দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি শিক্ষার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে লেখেন, “ঢাবির ভাই-বোনেরা, যারা এখনো ভোট দেননি, দ্রুত গিয়ে আপনার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। ডাকসু বানচাল রুখে দিন।”
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আটটি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথে ভোটগ্রহণ চলছে। এবারের নির্বাচনে ডাকসুর ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৪৭১ জন প্রার্থী, যার মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ৬২ জন।