বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে তারা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ অংশ হিসেবে শাহবাগ থেকে যমুনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। তবে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়।
শিক্ষার্থীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয় এবং এক পর্যায়ে লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, বাতাসে টিয়ারশেলের গন্ধ ছড়িয়ে যায় এবং যান চলাচলেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।
ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাইয়াজ। বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “হাসিনা গেল, কিন্তু হাসিনার পুলিশ গেল না।” ফাইয়াজের দাবি, মিন্টো রোড এলাকায় পুলিশের ডিসি মাসুদ আলম শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিকভাবে হামলা চালান। তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গলা চেপে ধরা, ঘুষি ও লাথি মারার অভিযোগও তোলেন।
ফাইয়াজ আরও জানান, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে পেছনে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। এতে অনেক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন, এমনকি একজনের মেরুদণ্ডে স্প্রিন্টার ঢুকে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
ফেসবুক পোস্টে ফাইয়াজ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “ছাত্রদের ওপর হামলার পর যদি সবাই চুপ থাকত, তাহলে আজ হাসিনার সরকারই টিকে থাকত। অথচ সত্য হলো, ছাত্ররা আগে হামলা করেছে—এর প্রমাণ জুলাইয়ে ২০০০ পুলিশ নিহত হওয়ার দাবি থেকেও বেশি অবাস্তব।”