ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিভাগের স্নাতক ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ২০ ও ২১ আগস্ট মঞ্চস্থ হয়েছে নাটক “শালবৃক্ষের মৃত্যু”। নাটকটির নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ মামুন রেজা।
সেলিনা হোসেনের “মৃত্যুর সূত্র কী” ও মহাশ্বেতা দেবীর “শিকার” গল্প অবলম্বনে নির্মিত এ নাটকটি বন, আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবন, শালবনের অস্তিত্ব সংকট এবং শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের এক গভীর মানবিক দলিল হিসেবে দর্শকের সামনে হাজির হয়।
নাটকটি বন ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবন, সংস্কৃতি ও সংগ্রামের দলিল। এতে শোষণ, বনভূমি ধ্বংস এবং আদিবাসীদের টিকে থাকার লড়াইকে প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। চলেশ, মেরী ও চলেশের মায়ের মতো চরিত্রের মাধ্যমে আদিবাসীদের পূর্বপুরুষের ভূমি রক্ষার সংগ্রাম, মিথ্যা মামলা ও নিপীড়নের করুণ চিত্র এবং তাদের আত্মপরিচয়ের সংকট ফুটে উঠেছে। নাটকটি দেখায়—শালবন কেবল গাছ নয়, বরং আদিবাসী জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির জীবন্ত প্রতীক, যার ধ্বংস মানে ইতিহাস ও পরিচয়ের ধ্বংস।
নাটকে আদিবাসীদের প্রকৃতির সাথে গভীর সম্পর্ক, শিকার উৎসবের মতো সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ এবং শালবনকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যার মৃত্যু তাদের অস্তিত্ব ও আত্মপরিচয়ের সংকটকে নির্দেশ করে।
এবিষয়ে নাটকের নির্দেশক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সৈয়দ মামুন রেজা বলেন, শক্তিশালী গোষ্ঠীর হাতে দুর্বল জনগোষ্ঠীর উপর দীর্ঘদিন ধরে চলা শোষণ, অত্যাচার ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদই এই নাটকের মূল বক্তব্য।
বিশ্বের নানা জাতিগোষ্ঠীর মতোই আদিবাসীরাও ক্ষমতাশালী পক্ষের দমননীতির শিকার হয়েছে, হারিয়েছে তাদের স্বকীয়তা ও অস্তিত্ব। মহাশ্বেতা দেবী ও সেলিনা হোসেনের গল্প থেকে অনুপ্রাণিত এই নাটকটি অবিরাম শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামী মানুষের আত্মত্যাগের কাহিনী। এ নাটকটি মূলত তীব্র প্রতিবাদের প্রতিচ্ছবি।