বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছে—এমন অভিযোগ তুলেছে অভিভাবকদের সংগঠন অভিভাবক ঐক্য ফোরাম।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি মো. জিয়াউল কবির দুলু বলেন, সরকার পরীক্ষার খাতায় নম্বর ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে জিপিএ-৫-এর সংখ্যা কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে শিক্ষার মান নষ্ট করেছে।
তিনি জানান, চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলে বিপর্যয় ঘটেছে। গত বছরের তুলনায় এবার ১৫ শতাংশ বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে এবং ৪৩ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী কম জিপিএ ৫ পেয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে, এতদিন শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মূল্যায়ন না করে নম্বর দেওয়ার নামে শিক্ষাকে রাজনীতিকরণ ও বাণিজ্যিকরণ করা হয়েছে।
জিয়াউল কবির দুলু বলেন, “শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে গুরুত্ব না দিয়ে দলীয় রাজনীতি, ব্যক্তিস্বার্থ এবং কোচিং বাণিজ্যকে প্রসারিত করেছেন। এর দায় শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরও রয়েছে। সরকারের ছত্রছায়ায় এমন ভয়াবহ অনৈতিকতা চলেছে।”
বিবৃতিতে অভিভাবক ঐক্য ফোরাম চলতি বছরের ফলাফলের কারণ খুঁজে বের করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, “এই ফলাফলের বিপর্যয় কেবল পরীক্ষার্থীদের জন্য নয়, পুরো জাতির জন্য লজ্জার। শিক্ষার মান পুনরুদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অজ্ঞতায় নিমজ্জিত হবে।”
তারা আরও বলেন, শিক্ষাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার দরকার। “আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, শিক্ষাব্যবস্থাকে রাজনীতি ও বাণিজ্যের কবল থেকে মুক্ত করুন। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই, মানসম্মত ও ন্যায়সংগত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন।”