সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের সখীপুরে একটি দোয়া মাহফিলে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের সমালোচনা করতে গিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম। এ সময় উত্তেজিত বিএনপির নেতা-কর্মীরা দাঁড়িয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
আজ বুধবার বিকেলে সখীপুর পৌর এলাকার কাদের সিদ্দিকীর বাসভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম স্বতন্ত্র প্রার্থী ও লাবীব গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে নিয়ে নিজ বাসভবনে একটি সমন্বয় সভা আহ্বান করেন।
তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই বাসভবনের সামনের একটি মসজিদের মাঠে স্থানীয় বিএনপি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। ওই অনুষ্ঠানের কয়েকটি মাইক কাদের সিদ্দিকীর বাসভবনের সামনেও টাঙানো হয়।
বিকেল ৪টার দিকে কাদের সিদ্দিকী বাসভবনে পৌঁছে পরিস্থিতি অবলোকন করেন। পরে তিনি প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং নিজের সমন্বয় সভা স্থগিত করে পরদিন (বৃহস্পতিবার) আয়োজনের ঘোষণা দেন।
এরপর কাদের সিদ্দিকী বিএনপির দোয়া মাহফিলে উপস্থিত হয়ে বলেন, আপনারা দোয়ার আয়োজন করেছেন এটা আমি জানতাম না। আপনাদের সম্মান জানিয়ে আমি আজকের মিটিং কালকে দিয়েছি। আমি চাই, সুষ্ঠু ও সুন্দর ভোট হোক।
তিনি আরও বলেন, আমি বিএনপির বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরকে সমর্থন করি নাই। তবে এই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধাকে মারার কথা বলেছেন, অপমান করেছেন এবং একজন মুক্তিযোদ্ধার পিঠের চামড়া তোলার মতো বক্তব্য দিয়েছেন। এ কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে আমি অবস্থান নিয়েছি।
এ বক্তব্যের পর উপস্থিত বিএনপির নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে কাদের সিদ্দিকী দোয়া মাহফিলের স্থান ত্যাগ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. নাসির উদ্দিন বলেন, আমাদের দোয়া মাহফিলটি পূর্বনির্ধারিত ছিল। কাদের সিদ্দিকী সেখানে কথা বলতে চাইলে আমরা সম্মান জানিয়ে সুযোগ করে দিই। কিন্তু তিনি এমন একটি বক্তব্য দেন, যা আমাদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম সম্প্রতি স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন।
এ বিষয়ে তিনি একাধিকবার বলেছেন, আমরা বিএনপির বিরুদ্ধে নই। তবে এই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অপমানজনক বক্তব্য দেওয়ায় আমরা তাঁর বিরোধিতা করছি।