শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

সুবর্ণচরে ডিলার সিন্ডিকেটে দ্বিগুণ দামেও পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি

(সুবর্ণচর প্রতিনিধি) নোয়াখালী নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি করায় সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে বিভিন্ন হাট বাজারে ঘুরে দেখা গেছে টাকা দিয়েও গ্যাস মিলছে না। ফলে পরিস্থিতি হয়ে উঠছে উত্তপ্ত। সুবর্ণচর উপজেলাসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ডিলার সিন্ডিকেটে […]

সুবর্ণচরে ডিলার সিন্ডিকেটে দ্বিগুণ দামেও পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০০:০২

(সুবর্ণচর প্রতিনিধি) নোয়াখালী

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি করায় সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে বিভিন্ন হাট বাজারে ঘুরে দেখা গেছে টাকা দিয়েও গ্যাস মিলছে না। ফলে পরিস্থিতি হয়ে উঠছে উত্তপ্ত।

সুবর্ণচর উপজেলাসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ডিলার সিন্ডিকেটে ইচ্ছে মতো এলপি গ্যাসের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। অধিকাংশ খুচরা বিক্রেতার দোকানে খালি সিলিন্ডারের বোতল দেখা যাচ্ছে।

তাদের দাবি ডিলার অতিরিক্ত দাম ছাড়া গ্যাস দিচ্ছে না। আর কোথাও মিললেও সরকার নির্ধারিত দামের প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, পরিবেশক পর্যায়ে সরবরাহ সংকট থাকায় তারা গ্যাস পাচ্ছেন না বলেই বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

গত কয়েক দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। জানা যায়, একই অবস্থা বিরাজ করছে জেলা পর্যায়েও। আবাসিক রান্নার জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডার সংকটে পড়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

চরবাটা ইউনিয়নের গৃহবধূ সাবিনা ইয়াসমিন এ প্রতিবেদকে জানান, আগে একটি সিলিন্ডার গ্যাস ১২ কেজির আমরা ১৩৭০ থেকে ১৪৫০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। এখন এ দামে গ্যাস পাচ্ছি না। ১৬০০শ থেকে ১৭০০শ পর্যন্ত দাম নিচ্ছে কিছু ব্যবসায়ী। শুনেছি সরকার গ্যাসের দাম ১৩০৬ টাকা করেছে। এটা কাগজে কলমে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। প্রশাসনের নিরবতায় আমাদের জিম্মি করে একটি সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন বলেন, গত মাসে ১২ কেজি ওজনের এলপি সিলিন্ডার কিনেছি ১ হাজার ৩৮০ টাকায়, সাথে ২০ টাকা পরিবহন খরচসহ। কিন্তুু এ মাসে বাসার জন্য গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে এসে কোনো দোকানেই গ্যাস পাচ্ছি না। পরে সমস্ত বাজার ঘুরে ভূঞারহাট বাজারের একটা দোকান থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হয়েছি।

চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় সুবর্ণচর উপজেলায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে দাবি ডিলারদের।

খুচরা ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম এ প্রতিদেককে জানান, আমার দোকানে আজ ৪/৫ দিন গ্যাস দিচ্ছে না সুবর্ণচরের সবচেয়ে বড় গ্যাস ডিলার। পরে আমি ফোন দিয়ে জানতে চাইলাম কেন তিনি দিচ্ছেন না গ্যাস, এরপর তিনি আমাকে বলেন অতিরিক্ত দাম হলে কিছু মাল দিতে পারবো। না হলে এখন গ্যাস নেই এ বলে ফোন কেটে দেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার জ্বালানি গ্যাসের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও ডিলার সিন্ডিকেট কৃত্তিম সংকট তৈরি করে গ্রাহকদের জিম্মি করে বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। এতে করে খুচরা দোকানে গ্যাস সরবরাহ না করে ডিলার সিন্ডিকেট ভোক্তাপর্যায়ে তীব্র সংকটে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

অনুসন্ধানে আরো জানাযায়, চরবাটার তালতলী নামক স্থানের পাশে সুবর্ণচরে বাবুল ট্রেডার্সের পেট্রোম্যাক্স ডিলার পয়েন্ট, সাদিয়া ট্রেডার্সের আই গ্যাস,ওমেরা, টোটাল গ্যাসসহ বিশাল গোডাউন রয়েছে চরমজিদ ভূঞারহাট জনবসতিপূর্ণ এলাকায়।

এছাড়াও বসুন্ধরা এলপি গ্যাস, হাতিয়ার হরনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘাটের ডিলার ফারুকের ডেলটা গ্যাস, সান গ্যাস সুবর্ণচরে পাওয়া যায়। এ সিন্ডিকেটের ডিলার চক্র ভোক্তাদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও নিরব দর্শক প্রশাসন! 

স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি সুবর্ণচর উপজেলায় গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক কাজে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় অনেক এলাকায় নির্ধারিত সময়ে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। 

এদিকে ভোক্তাপর্যায়ে চলতি জানুয়ারি মাসে এলপিজির দাম আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার ঘোষিত সর্বশেষ মূল্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে ১২ কেজি বোতলজাত এলপিজির দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ডিসেম্বর ২০২৫ মাসে একই পরিমাণ এলপিজির দাম ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা।

এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আকিব ওসমান জানান, আমরা দ্রুত বাজার গুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবো। ভোক্তাদের হয়রাণী কোনক্রমে সহ্য করা হবে না।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।