বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

লালমোহনে আইনশৃঙ্খলার ভঙ্গুর , আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

ভোলার লালমোহন উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি চুরি, ইভটিজিং, মাদক বিক্রি ও অবৈধ দখলের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, দিনে-দুপুরেও এখন আর নিরাপদ বোধ করা যাচ্ছে না।

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯:৩৮

লালমোহন (ভোলা)

ভোলার লালমোহন উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি চুরি, ইভটিজিং, মাদক বিক্রি ও অবৈধ দখলের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, দিনে-দুপুরেও এখন আর নিরাপদ বোধ করা যাচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্র জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের চরকচুয়াখালী এলাকায় মো. আবু বক্কর (৫৫) নামে এক অটোরিকশা চালককে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশের এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড দালাল বাজার এলাকায় দিনে দুপুরে একটি অটোরিকশা চুরি হয়। যদিও পরবর্তীতে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ ঐ অটোরিকশাসহ চোরকে আটক করেন । এছাড়া কালমা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড লেজ ছকিনা গ্রামে পৃথক দুটি অটোরিকশা চুরির ঘটনাও ঘটে। চরভুতা ইউনিয়নের বাংলাবাজারে ৩ জানুয়ারি ভোর রাতে কীটনাশকের সার্টারের তালা ভেঙ্গে দোকানের ক্যাশ থেকে নগদ ২ লাখ টাকা ও ৩ লাখ টাকার কীটনাশক নিয়ে যায় চোরচক্র।  

গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ২৬ ডিসেম্বর বদরপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড হাজিরহাট এলাকায় রহমান সিউলির বাড়িতে খাবারে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে ১০ ভরি স্বর্ণ ও নগদ দেড় লাখ টাকা লুট করা হয়। পরদিন একই এলাকার জমাদার বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার সুপারি চুরি হয়। ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড কামাল হাওলাদারের ঘরে নেশাজাতীয় স্প্রে ব্যবহার করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। একই তারিখে ২নং ওয়ার্ডে প্রতিবন্ধী জাকিরের একটি ছাগল চুরি হয় এবং ৯নং ওয়ার্ডে তৈয়ব মাওলানার নয় বস্তা সিদ্ধ ধান চুরি এছাড়া ৯নং ওয়ার্ডে হেলার মাঝির নৌকা থেকে সোলার ব্যাটারি চুরি । ২৯ ডিসেম্বর ওই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড পুলিশ ক্যাম্পের পাশে মোসলেহ উদ্দিন মিয়ার বাড়ি থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়।

অন্যদিকে শুক্রবার (২ জানুয়ারী) দিবাগত রাতে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চর উমেদ গ্রামের আজাহার রোড এলাকার আফির উদ্দিন বাড়ীর মৃত বাবুলের বসত ঘরে, ওমর আলী হাজী বাড়ীর মাকসুদ উল্লাহ মিয়ার ঘরে প্রবেশ করে তার ছেলে সেকান্তর ও তার স্ত্রীর নগদ টাকা, স্বর্নের চেইন, একই বাড়ীর মিজান খলিফা, বিডিপি প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম ও জামায়াতের উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুল হক এর গ্রামের বাড়ীর বসত ঘরে সিঁধেল কেটে হানা দেয় চোরের দল। 

এছাড়া লালমোহন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বেড়েছে। লালমোহন পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের করিম রোড, থানার মোড় ও আশপাশ এবং লালমোহন করিমুন্নেছা–হাফিজ মহিলা কলেজের সামনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়েও ইভটিজিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুল ছাত্রী বলেন, সকালে বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যাওয়ার সময় করিম রোডের সামনে ঠিক থানার অপজিটে কিশোর গ্যাং এর একটি দল মেয়েদের উত্যক্ত করেন, সেদিন আমার আম্মুকেও ওরা উত্যক্ত করা থেকে রেহায় দেইনি। 

এছাড়া ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের সিন্নিখোলা, বাতিরখাল এলাকা, আজহাররোড ও চতলা বাজার সড়কের মধ্যবর্তী কালভার্টে প্রকাশ্যে গাঁজা বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৌরসভার সাবেক পল্লীবিদ্যুৎ অফিস সড়ক, মডেল সমজিদ সংলগ্ন পৌরসভার গেট এলাকায়, ভুইল্লালাগো কান্দি, নয়ানীগ্রাম, আড়াই আনি সড়ক, লেংগার দোকান, বর্নালী সড়ক, গুচ্ছ গ্রাম, হাইস্কুল মাঠ, কল্লাকাটা রোড, পাটওয়ারী কান্দি, পৌরসভার গোল মার্কেটের ছাদের উপর, পলিটেকনিক্যাল কলেজের পিছনের রোড়, জেলেপাড়া, পাকার মাথাসহ বিভিন্ন স্পটে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ রয়েছে। একই চিত্র দেখা মেলে কালমা ইউনিয়নের তরুল্যা সেন্টার ও ডাওরী বাজারের দক্ষিণ পূর্ব পাশে চরলক্ষী এলাকায়, চরছকিনা, আলম বাজার, ফরাজির দোকান, মেম্বারের দোকান এলাকায় মাদক বেচাকেনা চলছে অহরহ। লালমোহন ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড উত্তর ফুলবাগিচা এলাকায় গুচ্চগ্রামে মাদক প্যাকেটজাত, সেবন ও বিক্রি হচ্ছে নিয়মিত। 

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, লালমোহন থানার সোর্স যারা রয়েছেন তাদের মাধ্যমে লালমোহনের দায়িত্বরত এসআই ও এএসআইদের একটি চক্র এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, থানায় সাধারণ ডায়েরি বা অভিযোগ করতে গেলে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা দিতে হয়। তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে আলাদাভাবে বাদী ও বিবাধেী থেকে ২-৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর থানার ভেতর ও আশপাশে সালিশ বাণিজ্য চলার কথাও উঠে এসেছে।

স্থানীয় এক সমাজ কর্মী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, লালমোহন থানায় গেলে দেখবেন এসআই ও এএসআইদের নেতৃত্বে থানার গোল ঘরে সন্ধ্যায় পর থেকে চলে রমরমা সালিশ বাণিজ্য, তারা নারী ও শিশু ডেস্কটিও সালিশ বানিজ্যে ব্যবহার করেন। থানায় এই সালিশ বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছে এক শ্রেণির দালাল সার্ভেয়ার। এদের মধ্যে রয়েছে যুবলীগ নেতা সার্ভেয়ার কবির, শরিফসহ কয়েকজন। তিনি আরও জানান, থানায় একটি জিডি বা অভিযোগ লিখতে হলে দিতে হয় ২০০ থেকে ৫০০ টাকা। সূত্র জানয়, পূর্বের ওসি সিরাজুল ইসলাম এই সালিশ বাণিজ্যে রুখে দিয়েছিলেন। তিনি থানা থেকে সালিশের টুলটেবিল গুলো অপসারণ করেছিল। 

স্থানীয় সচেতন মহলের একাদিক সুত্র বলছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নিয়মিত টহল, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং মাদক ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সমাজে চরম বিশৃঙ্খলতা দেখা দিবে। 

আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, চুরি, মাদক ও থানায় সালিশ বানিজ্য এবং ইভটিজিং সংক্রান্ত বিষয়ে লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলার অবনির মতো কোন ধরনের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে চুরির ঘটনা বেড়েছে। ভুক্ত ভোগীর অভিযোগের আলোকে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অটো রিকশা চালককে হত্যার ঘটনাটি উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। থানার মধ্যে সালিশ বানিজ্যের বিষয়টি আমার জানা নেই। থানায় অভিযোগ বা জিডি এবং ঘটনার তদন্ত করতে টাকা নেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন ভুক্তোভোগী অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। দু:খের বিষয় হলো অধিকাংশ ঘটনার ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করতে অনিহা প্রকাশ করেন। আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত যে কোন ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। মাদকের ব্যাপারে থানা পুলিশ জিরো টলারেন্স হিসেবে কাজ করছি, তবে কাজের গতিটা আরো বাড়ানো দরকার।

সারাদেশ

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের […]

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

ডেস্ক রিপোর্ট

২৮ জুন ২০২৬, ১০:৩০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার (৪২) এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি রাসেল (৩০)। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর মৃধা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সন্ধ্যায় পৌর শহরের বাংলাবাজার এলাকা থেকে দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ৪০-৫০টি মোটরসাইকেল নিয়ে নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি নাজিরপুর ইউনিয়নের ডালিমা ও কালাইয়া বন্দর বেইলী ব্রিজ হয়ে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম খোকন অভিযোগ করে বলেন, রিয়াজ, হেলাল রাড়ী, সালাম, রাব্বি, রাসেল ও হেলালের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মোটরসাইকেলের বহরে এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা কালাইয়া ও দাশপাড়া ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী এবং সমর্থক। হামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী আহত হয় এবং ২০-২৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। ঘটনা জানার পর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার আহত নেতাকর্মীদের দেখতে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।