বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

বেকার তরুণ–তরুণীদের কর্মমুখী করতে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে স্যাপ–বাংলাদেশ

‘ছোট উদ্যােগে মানব সক্ষমতার বিকাশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে স্বল্পশিক্ষিত বেকার তরুণ–তরুণীদের কর্মমুখী করে তুলতে পটুয়াখালী অঞ্চলে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘রিকভারি এন্ড এডভান্সমেন্ট অফ ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (রেইজ)’ প্রকল্পের আওতায় (ওস্তাদ–শাগরেদ) মডেল বাস্তবায়ন করছে সাউথ এশিয়া পার্টনারশিপ–বাংলাদেশ (স্যাপ–বাংলাদেশ)। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকাল থেকে স্যাপ বাংলাদেশের গলাচিপা এরিয়া অফিস […]

বেকার তরুণ–তরুণীদের কর্মমুখী করতে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে স্যাপ–বাংলাদেশ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৫ নভেম্বর ২০২৫, ২০:৩০

‘ছোট উদ্যােগে মানব সক্ষমতার বিকাশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে স্বল্পশিক্ষিত বেকার তরুণ–তরুণীদের কর্মমুখী করে তুলতে পটুয়াখালী অঞ্চলে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘রিকভারি এন্ড এডভান্সমেন্ট অফ ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (রেইজ)’ প্রকল্পের আওতায় (ওস্তাদ–শাগরেদ) মডেল বাস্তবায়ন করছে সাউথ এশিয়া পার্টনারশিপ–বাংলাদেশ (স্যাপ–বাংলাদেশ)।

এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকাল থেকে স্যাপ বাংলাদেশের গলাচিপা এরিয়া অফিস চত্বরে ওস্তাদদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে মাস্টার ক্রাফটসপার্সন ওরিয়েন্টেশনের মধ্যে দিয়ে দুইদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন হয়েছে। যেখানে দুইটি ব্যাচে ৪০ জন ওস্তাদ প্রশিক্ষণে অংশ নেয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, স্যাপ বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির এড়িয়া ম্যানেজার মো. সাইদুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন, প্রকল্প সমন্বয়কারী মো রফিকুল ইসলাম, কেস ম্যানেজমেন্ট অফিসার তাবির আহমেদ ও লাইফ স্কিল এন্ড এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট অফিসার এম এ রাজ্জাক প্রমুখ। 

প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় তরুণ ছোট উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, উদ্যোগ উন্নয়ন এবং বিভিন্ন ট্রেডের বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ পরিচালনার বিষয়ে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে। বিশেষভাবে এই দুইদিন প্রশিক্ষণে পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি, কারিগরি কোর্স ব্যবস্থাপনা, ক্লাস পরিচালনা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া বিষয়ে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা দেওয়া হচ্ছে।

উদ্দেশ্য একটাই, আগামী ছয় মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেওয়া আগ্রহী বেকার তরুণ–তরুণীদের সফলভাবে কর্মমুখী দক্ষতাসম্পন্ন করে তোলা, যাতে তারা চাকরি অথবা আত্মকর্মসংস্থানে এগিয়ে যেতে পারে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ওস্তাদ প্রশিক্ষণ শেষে তাদের মাধ্যমে শাগরেদের সেলাই–দর্জি, বিউটি পার্লার, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন এন্ড মাল্টিমিডিয়া, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, ইলেকট্রিশিয়ান, ফ্রিজ–এসি রিপেয়ারিং, বেকিং ও পেষ্ট্রি প্রিপারেশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে ছয় মাসের বিনামূল্যের কারিগরি প্রশিক্ষণ ক্লাস শুরু হবে।

কোর্স শেষে সার্টিফিকেটের পাশাপাশি চাকরি সংস্থান, উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধাও দেওয়া হবে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য রয়েছে যাতায়াত ভাতাও। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য সমাজের পিছিয়ে পড়া স্বল্প আয়ের বেকার তরুণ–তরুণী ও প্রতিবন্ধীদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি করে মজুরি ভিত্তিক ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা।

এ লক্ষ্যেই ‘গুরু–শিষ্য/ওস্তাদ–শাগরেদ’ মডেল চালু করে ৬ মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পটুয়াখালী অঞ্চলে ২০০ ওস্তাদ ও ৪০০ তরুণ -তরুণীদের প্রশিক্ষণ আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। যার মধ্যে ৩৫ শতাংশ নারী যাদেরকে তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর বিভিন্ন বিষয়ে ২৬ টি ট্রেডের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরবর্তী এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সাইমুন রহমান বলেন, এই ট্রেনিং আমাদের কাজকে আরও পেশাদার ও মানসম্পন্ন করবে। আমরা চাই প্রতিটি তরুণ–তরুণী দক্ষ হয়ে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে শাহিনা আক্তার নামে এক উদ্যােক্তা জানান, এ ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের কাজে নতুন দিক উন্মোচন করবে এবং তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ দিতে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। ফলে আত্মকর্মসংস্থান বাড়বে।

প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বেকার তরুণ–তরুণীদের নতুন কর্মসংস্থানের পথ তৈরি হবে। স্যাপ–বাংলাদেশ ও পিকেএসএফ রেইজ প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার দারিদ্র্যপীড়িত যুবসমাজকে দক্ষ করে তুলতে কাজ করছে।

পটুয়াখালী অঞ্চলের গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, পটুয়াখালী সদর ও দশমিনা এ ৪টি উপজেলায় প্রকল্পের কাজ চলবে। আমরা আশা করব এ অঞ্চলের সকল বেকার যুবক-যুবতী এ প্রশিক্ষণের আওতায় আসবে এবং কর্মসংস্থান গড়ে তুলবে। সকলকে দক্ষ হতে হবে কারণ অদক্ষ জনশক্তি যেমন দেশের বোঝা, দক্ষ জনশক্তি তেমন দেশের সম্পদ। 

স্থানীয়রা আশা করছেন, এই উদ্যোগ পটুয়াখালী অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে এবং বেকার তরুণ–তরুণীদের স্বপ্ন পূরণে নতুন দিগন্ত তৈরি করবে।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।