শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

অদম্য নরী উদ্যোক্তা লিজা ; অর্ধশত নারী পেল কর্মসংস্থান

“লিজা বুটিক হাউজ” নামের একটি সেলস সেন্টার যাত্রা শুরু করে। এরপর আফরোজার পন্য দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে আমেরিকা, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে। "লিজা বুটিকস হাউজ" পোশাক তৈরীতে বর্তমানে ৫০জনেরও বেশি নারী যুক্ত রয়েছেন।

নিউজ ডেস্ক

২৭ অক্টোবর ২০২৫, ২৩:৪২

নূরুল আলম কামাল, নেত্রকোনা :

আফরোজা আক্তার লিজা। নেত্রকোনা সদরের প্রত্যন্ত পঁচাশিপাড়া গ্রামে এক রক্ষণশীল পরিবারে জন্ম তাঁর। বিয়ের পর পারিবারিক টানাপোড়েনে স্বামীর সংসারেও টিকতে পারেননি আফরোজা। ভেঙে যায় সংসার নামক স্বর্গ নীড়। এক সন্তানকে নিয়ে স্বামীর সংসার থেকে হন বিতাড়িত। রক্ষণশীল পরিবারে শুরু হয় জীবন যুদ্ধ। এমন পরিস্তিতির পড়তে পড়তে বাঁধা ডিঙ্গিয়ে আজ সফল নারী উদ্যোক্তা আফরোজা। নিজেকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করেছেন, তাঁর হাতেখড়ি অর্ধশত অসচ্ছল নারীও পেয়েছেন আর্থিক সচ্ছলতা।

২০০৩ সালে এসএসসি পাশ করার পর অদম্য ইচ্ছা থাকার পরও পারিবারিক অনীহায় কলেজ জীবনে অধ্যয়ন করার সুযোগ হয়নি। কয়েক বছর বাবার পরিবারের দেখবাল করেন আফরোজা। এরপর ২০০৭ সালে পরিবারিকভাবে বিয়ে হয় তাঁর। শুরু হয় নতুন স্বপ্ন। স্বামীর পাশে থেকে আয় করার শক্তি সঞ্চালক হিসেবে অবদান রাখবেন। এরমধ্যে আফরোজার ঘর আলোকিত সন্তান জন্ম হয়। স্বপ্ন তখন আরও বিস্তৃত হতে শুরু করে। কিন্তু সেই স্বপ্ন বিষাদে পরিণত হয়। নেমে আসে তাঁর উপর স্বামীর অবহেলা ও পারিবারিক অবজ্ঞা। চেয়েছিলেন স্বামীর অবহেলা ও পারিবারিক নির্যাতনের বাঁধা পেরিয়ে সুখের সংসার গড়ে তোলার। লড়াইটা ৮ বছর করার পর পরাজিত হন আফরোজা। সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি ফিরে নেমে পড়েন জীবনের অসম যুদ্ধে। পঁচাশীপাড়া গ্রামের বাড়ি থেকে নেত্রকোনা শহরের মালনী পাটপট্রি এলাকার বাবার বাসায় উঠেন। শৈশবের রপ্ত থাকা সুঁই-সুতাকেই হাতে তুলে নেন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে বাটিক, বিউটিফিকেশন, সেলাইসহ বিভিন্ন কাজে নেন প্রশিক্ষণ। এছাড়াও বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) থেকে উদ্যোক্তার প্রশিক্ষণ নেন। নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলেন। উদ্যোক্তা হিসেবে বিসিকের নিবন্ধিত হন। পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে শুরু করেন কুশি-কাটা দিয়ে শিশুদের সহ বিভিন্ন বয়সী মেয়েদের জামা কাপড়। বিভিন্ন দোকানে পাইকারী মূল্যে বিক্রি করেন। খরচ বাদে কিছু আয় হতে থাকে। অদম্য নারী আফরোজা। আয়ের টাকা সঞ্চয় করে আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন বুনেন। ধীরে ধীরে সুঁই -সুতার কাজের পরিধি বাড়াতে থাকেন। কর্মসংস্থানহীন নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকেও নিজের কাজে সম্পৃক্ত করতে থাকেন। প্রশিক্ষিত হয়ে তারা বাড়িতে থেকেই কাজ করে পন্য সরবারহ করেন আফরোজার কাছে। সময়ের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে লিজাও এগিয়ে যেতে থাকেন। তাঁর তৈরী পোশাকের চাহিদাও বাড়তে থাকে ভোক্তাদের কাছে। ব্যবসার পরিধি বাড়াতে তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নেন। 

২০২৩ সালে শহরের নাগড়া শিববাড়ি এলাকায় নিজের পন্য নিয়ে “লিজা বুটিক হাউজ” নামের একটি সেলস সেন্টার যাত্রা শুরু করে। এরপর আফরোজার পন্য দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে আমেরিকা, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে। “লিজা বুটিকস হাউজ” পোশাক তৈরীতে বর্তমানে ৫০জনেরও বেশি নারী যুক্ত রয়েছেন। খরচ বাদে মাসে গড়ে প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা আয় হয় আফরোজার। তাঁর স্বপ্ন, শহরের প্রাণকেন্দ্রে বড় পরিসরে একটি শোরুম ও কারখানা গড়ে তোলার। তার কাজে আরো অনেক নারীকে সম্পৃক্ত করার।

আফরোজা শুধুই আর্থিক সক্ষমতায় নয়, নিজেকে সামাজিক কাজেও সম্পৃক্ত করেছেন। বিশেষ করে তাঁর সাথে কাজ করা নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানো, সন্তানদের শিক্ষাসহ নানা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিও করে চলেছেন। একইভাবে সরকারি দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে কৃষি বিপণন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বাল্য বিয়ের কুফল, শিশুদের সুরক্ষাসহ সমাজের প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্যে কাজ করছেন। 

লিজার বুটিকস হাউজের পন্য তৈরীতে যুক্ত নারী শহরের নাগড়া এলাকার কামরুন্নাহার বাবলী বলেন,“ আমার সংসারে অভাব-অনটন লাইগ্যাই আছিল। বছর দেড়েক আগে আফরোজা আপার সাথে দেখা অইছিল।

এর পর থেইক্যা আমার জীবনডা বদলে গেছে। তার সাথে কাজে যোগ দেয়। প্রশিক্ষণ নেই লিজা আপার কাছে। অহন সেখান থেইক্যা মাসে বেশ কিছু টাকা আয় হয়। সংসারে এই টাকা লাগাতে পারতাছি। ছেলে- মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাইতে পারতাছি। ” 

একই এলাকার আরেক নারী মিনা বেগম বলেন, “অভাবের সংসারে আমার দু:খের দিন ঘুচিয়েছে লিজা আপা। তার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে লিজা বুটিকস হাউজের পন্য তৈরী করি। অহন আমার জীবন অনেকটাই সহজ অইয়া গেছেগা। মাসে মাসে এইহান থেইক্যা যে ট্যাহা পাই এই দিয়া পোলাপান নিয়া ভালাই আছি।”

ডলি দেবনাথ দুই সন্তান আর স্বামীর সংসারে তিনিও ছিলেন অসচ্ছল। তিনি বলেন, স্বামীর আয়ে সংসার চলছিল না। লিজা আপাই আমারে ডাইক্যা কইলো কাজ করতে।

সেলাইয়ের কাজও শিখাইছে। অহন তার হাউজেই কাম করি। ট্যাহা পাই । আয় আইতাছে। সংসারেও অহন আর আগের মতো টানাটানি নাই।আমার মতন লিজা আপার কাছে ৫০ জনেরও বেশি মহিলা কাজ করেন।

বাবলী, ডলি ও মিনার মতো নেত্রকোনা শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার চৈতি সরকার, শিল্পী রায়,রুণা সরকার, ডলি দেবনাথ, কাঞ্চন দে, তন্নী সাহা, শিউলী সাহাসহ অর্ধশতাধিক নারী লিজা বুটিকস হাউজে কাজ করে চলেছেন।  

আফরোজা আক্তার লিজা বলেন, জীবনের শুরুতেই ধাক্কা লাগে আমার। সংসার জীবনে স্বামী মাদকাসক্ত ছিল। তার সাথে মানিয়ে চলার অনেক চেষ্টা করি। কিন্তু তা হয়ে উঠেনি। তখন আমি সিদ্ধান্ত নেই কিছু করার। ছোট বেলায় শেখা হাতের কাজ কুশি-কাটার সেলাই নিয়ে শুরু করি। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে প্রশিক্ষণ নিই। কুশি-কাটার পন্য তৈরী করে বিক্রি করতে থাকি। অন্য নারীদের সাথে নিয়ে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আমার কাজে যুক্ত করতে থাকি। তারাও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে থাকে। আমার পন্যও দিন দিন বিক্রি বাড়তে থাকে। অনলাইনেও বিক্রি হয়। এখন দেশের

বাইরেও আমার পন্য যেতে থাকে। মাত্র ৫হাজার টাকা নিয়ে যাত্রা শুরু করি। এখন লিজা বুটিকস হাউজ নামে সেলস সেন্টার ওপেন করি। এই সেলস সেন্টার থেকেই পন্য বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন মেলাতেও আমার পন্য নিয়ে অংশ নেই। আমার সাথে যুক্ত থাকা নারীরাও আর্থিকভাবে অনেকটা

স্বাচ্ছন্দ্যে চলছেন। এখন চেষ্টা করছি শহরে একটি বড় পরিসরে শোরুম দেয়ার। আমার কু্শিরা-কাটার পন্যের একটা ব্র্যান্ড করতে চাই। একটা বড় আকারে করাখানা করতে

চাই। সরকারের সহযোগীতা দরকার। স্বল্প ও সহজ পদ্ধতিতে ঋণ পেলে স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে পারবো।

অন্য নারীদের বিষয়ে লিজা বলেন, নারীরা শুধু ঘরে বসে না থেকে স্বাবলম্বী হতে কোন কাজ যেন করেন। তাহলে সংসারে ভুমিকা রাখতে পারেন। নিজে যেন পরের বোঝা না হন। তাহলে জীবনের যে সৌন্দর্য্য আছে তা উপলব্ধি করতে পারবেন। দেশের অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারবেন।

জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফারজানা পারভীন বলেন, আফরোজা আক্তার লিজা স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের পর যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সুই-সুতার পন্য তৈরী করে ব্যবসার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে পথ চলতে শুরু করেন। অদম্য ইচ্ছা শক্তিতে আজ তিনি সফল। গড়ে তোলেছেন “লিজা বুটিকস হাউজ”। নিজে স্বাবলম্বী হয়েছেন। সেখানে অনেক নারী কাজ করে তারাও অর্থনৈতিক সচ্ছলতায় ফিরছেন। এছাড়াও তিনি নিজেকে সামাজিক উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডেও জড়িত রেখেছেন। এতে করে সমাজে বিশেষ করে নারীরা সচেতন হচ্ছেন।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি  নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম […]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সেনবাগ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা অফিস কক্ষে প্রবেশের পর দুটি স্টিলের আলমিরা ও একটি ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।