রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

চাকরিজীবন শেষে হাতির পিঠে চড়ে বিদায় দিলেন প্রধান শিক্ষকে

‘তোমরা দেশে-বিদেশে যে যেখানেই থাকো না কেন, আমাকে ভালোবেসে যেভাবে সব সময় পাশে থেকেছো, আমি এই বিদ্যালয় থেকে চলে যাওয়ার পরেও তোমাদের বিদ্যালয়ের সুখে-দুখে পাশে থেকো।’

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ২১:৫৫

ছাইদুল ইসলাম, ধামইরহাট

শিক্ষকতায় ৩৯ বছরের চাকরিজীবনের ইতি টানেন চকময়রাম সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম খেলাল-ই রব্বানী। বিদ্যালয়কে জাতীয়করণসহ শিক্ষকতাই সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ বিদ্যালয়ের সহকর্মীরা চোখের অশ্রু ঝরিয়ে তাকে দিয়েছেন রাজকীয় বিদায়। সনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে এগারোটায় উপজেলার চকময়রাম সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

সরজমিনে দেখা যায়, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আয়োজনে চকময়রাম সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে আব্দুল কুদ্দুস মন্ডলের সভাপতিত্বে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এসএম খেলাল-ই রব্বানীসহ অবসরপ্রাপ্ত অন্যান্য শিক্ষকদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ শেষে সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ফুলের তোড়া দিয়ে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এসএম খেলাল-ই রব্বানী এবং এর আগে অবসরপ্রাপ্ত শারীরিক শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক রেজাউল করিম, হিন্দু ধর্ম বিষয়ক শিক্ষক অসীম চন্দ্র কুন্ডু, অফিস সহকারি আব্দুস ছাত্তারসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দদেরকে স্বাগত জানানো হয়। এসময় প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দিতে গিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন।

এরপর বিকেলে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে চকময়রাম এলাকা থেকে আমাইতাড়া বাজার মোড় এবং নিমতলী বাজার হয়ে ধামইরহাট পূর্ব বাজার পর্যন্ত প্রধান শিক্ষককে হাতির পিঠে চড়ে ও কাঁধে করে বাড়ি পৌঁছে দেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। এবং অন্যান্য শিক্ষকদের ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এসএম খেলাল-ই রব্বানী ১৯৮৭ সালে বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরে তিনি ২০০১ সালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর তার কর্মজীবন শেষ হয়।

বিদ্যালয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ৯৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী রবিউল হক বলেন, ‘এক সময় আমিও এই স্কুলের একজন শিক্ষার্থী ছিলাম। আমাদের সময় প্রিয় শিক্ষক ছিলেন এসএম খেলাল-ই রব্বানী স্যার। স্যারের বেতের বাড়ি খেয়ে ভালো শিক্ষার্থী হতে পেরেছিলাম বলেই আজ আমি ধামইরহাট কেজি স্কুলের একজন শিক্ষক হতে পেরেছি। স্যারের দীর্ঘায়ু কামনা করছি।’

অপর প্রাক্তন শিক্ষার্থী হারুন আল রশিদ, আশিফ ইলাহী, মমিনসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। এসময় একরকম আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এসএম খেলাল-ই রব্বানী বলেন, ‘অসম্ভব শক্ত উচু নিচু পথ এবং আবর্জনা পাড়ি দিতে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। এর ফলে গ্রামের মধ্য থেকে একটি স্বপ্ন নিয়ে এই বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করতে পেরেছি। বিদ্যালয়ের সকল সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গুণীজনদের সার্বিক সহযোগিতায় তা সম্ভব হয়েছিল। আজ আমি তাদের কাছে চির ঋণী হয়ে রইলাম।’

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন,

‘তোমরা দেশে-বিদেশে যে যেখানেই থাকো না কেন, আমাকে ভালোবেসে যেভাবে সব সময় পাশে থেকেছো, আমি এই বিদ্যালয় থেকে চলে যাওয়ার পরেও তোমাদের বিদ্যালয়ের সুখে-দুখে পাশে থেকো।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার কাজল কুমার সরকার, মজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলমগীর কবির, দাতা সদস্য আব্দুল গণি মন্ডল, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তাইমুর রহমান, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীসহ বিভিন্ন ব্যাচের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

বিষয়ঃ

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।