বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

চাকরিজীবন শেষে হাতির পিঠে চড়ে বিদায় দিলেন প্রধান শিক্ষকে

‘তোমরা দেশে-বিদেশে যে যেখানেই থাকো না কেন, আমাকে ভালোবেসে যেভাবে সব সময় পাশে থেকেছো, আমি এই বিদ্যালয় থেকে চলে যাওয়ার পরেও তোমাদের বিদ্যালয়ের সুখে-দুখে পাশে থেকো।’

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ২১:৫৫

ছাইদুল ইসলাম, ধামইরহাট

শিক্ষকতায় ৩৯ বছরের চাকরিজীবনের ইতি টানেন চকময়রাম সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম খেলাল-ই রব্বানী। বিদ্যালয়কে জাতীয়করণসহ শিক্ষকতাই সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ বিদ্যালয়ের সহকর্মীরা চোখের অশ্রু ঝরিয়ে তাকে দিয়েছেন রাজকীয় বিদায়। সনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে এগারোটায় উপজেলার চকময়রাম সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

সরজমিনে দেখা যায়, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আয়োজনে চকময়রাম সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে আব্দুল কুদ্দুস মন্ডলের সভাপতিত্বে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এসএম খেলাল-ই রব্বানীসহ অবসরপ্রাপ্ত অন্যান্য শিক্ষকদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ শেষে সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ফুলের তোড়া দিয়ে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এসএম খেলাল-ই রব্বানী এবং এর আগে অবসরপ্রাপ্ত শারীরিক শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক রেজাউল করিম, হিন্দু ধর্ম বিষয়ক শিক্ষক অসীম চন্দ্র কুন্ডু, অফিস সহকারি আব্দুস ছাত্তারসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দদেরকে স্বাগত জানানো হয়। এসময় প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দিতে গিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন।

এরপর বিকেলে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে চকময়রাম এলাকা থেকে আমাইতাড়া বাজার মোড় এবং নিমতলী বাজার হয়ে ধামইরহাট পূর্ব বাজার পর্যন্ত প্রধান শিক্ষককে হাতির পিঠে চড়ে ও কাঁধে করে বাড়ি পৌঁছে দেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। এবং অন্যান্য শিক্ষকদের ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এসএম খেলাল-ই রব্বানী ১৯৮৭ সালে বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরে তিনি ২০০১ সালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর তার কর্মজীবন শেষ হয়।

বিদ্যালয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ৯৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী রবিউল হক বলেন, ‘এক সময় আমিও এই স্কুলের একজন শিক্ষার্থী ছিলাম। আমাদের সময় প্রিয় শিক্ষক ছিলেন এসএম খেলাল-ই রব্বানী স্যার। স্যারের বেতের বাড়ি খেয়ে ভালো শিক্ষার্থী হতে পেরেছিলাম বলেই আজ আমি ধামইরহাট কেজি স্কুলের একজন শিক্ষক হতে পেরেছি। স্যারের দীর্ঘায়ু কামনা করছি।’

অপর প্রাক্তন শিক্ষার্থী হারুন আল রশিদ, আশিফ ইলাহী, মমিনসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। এসময় একরকম আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এসএম খেলাল-ই রব্বানী বলেন, ‘অসম্ভব শক্ত উচু নিচু পথ এবং আবর্জনা পাড়ি দিতে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। এর ফলে গ্রামের মধ্য থেকে একটি স্বপ্ন নিয়ে এই বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করতে পেরেছি। বিদ্যালয়ের সকল সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গুণীজনদের সার্বিক সহযোগিতায় তা সম্ভব হয়েছিল। আজ আমি তাদের কাছে চির ঋণী হয়ে রইলাম।’

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন,

‘তোমরা দেশে-বিদেশে যে যেখানেই থাকো না কেন, আমাকে ভালোবেসে যেভাবে সব সময় পাশে থেকেছো, আমি এই বিদ্যালয় থেকে চলে যাওয়ার পরেও তোমাদের বিদ্যালয়ের সুখে-দুখে পাশে থেকো।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার কাজল কুমার সরকার, মজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলমগীর কবির, দাতা সদস্য আব্দুল গণি মন্ডল, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তাইমুর রহমান, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীসহ বিভিন্ন ব্যাচের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

বিষয়ঃ

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।