সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে জনতা ব্যাংকে প্রবেশ করে চেক ছিনতাই ও ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় ওসি আসলাম আলীর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মামলা না নিয়ে উল্টো অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা শুকুর আলীর পক্ষে মামলা গ্রহণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আহত ব্যবসায়ী আমির হামজা।
অভিযুক্ত শুকুর আলী শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।
ব্যবসায়ী আমির হামজা জানান,
“শুকুর আলীর কাছে আমার ৯৬ লাখ টাকা পাওনা ছিল। সেই টাকার জন্য তিনি জনতা ব্যাংক বাঘাবাড়ি শাখার একটি চেক দিয়েছিলেন। ২০ জুলাই অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় আমি চেক ডিজঅনারের জন্য ব্যাংকে যাই। ঠিক তখনই শুকুর আলীসহ ১০-১২ জন ব্যাংকে ঢুকে পড়ে। তার ভাতিজা সেলিম ব্যাংক কর্মকর্তার হাত থেকে চেক ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে এবং বাধা দিলে আমাকে চেয়ার ও হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়।”
ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন,
“আমির হামজা চেক ডিজঅনারের জন্য এলে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ঠিক সেই সময় শুকুর আলীর ভাতিজা সেলিম এসে আমার হাত থেকে চেক ছিঁড়ে নেয় এবং সেখানে ধস্তাধস্তি হয়।”
ব্যাংকের ম্যানেজার আলমগীর হোসেন জানান,
“ঘটনার পরদিন আমরা থানায় জিডি করেছি। কিন্তু ওসি নানা অজুহাত দেখিয়ে মামলা নেননি। বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।”
আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে শাহজাদপুর থানাকে এফআইআর হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দিয়েছে।
তবে ওসি আসলাম আলী দাবি করেন,
“শুকুর আলীর পক্ষের একজনের মাথা ফেটে যাওয়ায় মামলা হয়েছে। ব্যাংকের পক্ষ থেকে জিডি হয়েছে, তারা মামলা না করে আদালতে গেছেন। দুটি মামলাই তদন্ত করা হবে।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) মো. কামরুজ্জামান বলেন,
“মামলা নেওয়া বা না নেওয়ার এখতিয়ার ওসির। কেন ব্যাংকের মামলা নেওয়া হয়নি তা ওসিকেই জিজ্ঞেস করতে হবে।”