শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

ধামইরহাটকে মডেল উপজেলা করার আক্ষেপ নিয়ে চলে গেলেন- ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান

ছাইদুল ইসলাম, ধামইরহাট নওগাঁ প্রতিনিধি  নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলাকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হলো না উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমানের। মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাতে বদলিজনিত বিদায় অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদ নিজ কার্যালয়ে একান্ত সৌজন্য সাক্ষাতকারের সময় গণমাধ্যম কর্মীদের এ কথা বলেন ইউএনও মোস্তাফিজুর। ধামইরহাটকে একজন গণমাধ্যম বান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলার তিনটি প্রেস ক্লাবকে তিনি একত্রিত করেন […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১২ মার্চ ২০২৫, ২০:০৬

ছাইদুল ইসলাম, ধামইরহাট নওগাঁ প্রতিনিধি 

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলাকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হলো না উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমানের। মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাতে বদলিজনিত বিদায় অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদ নিজ কার্যালয়ে একান্ত সৌজন্য সাক্ষাতকারের সময় গণমাধ্যম কর্মীদের এ কথা বলেন ইউএনও মোস্তাফিজুর। ধামইরহাটকে

একজন গণমাধ্যম বান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলার তিনটি প্রেস ক্লাবকে তিনি একত্রিত করেন এবং প্রেসক্লাবের বাইরে থাকা সাংবাদিকদেরও সমান গুরুত্ব দিয়ে একই চোখে দেখেছেন। উপজেলার উন্নয়ন ভাবনাসহ যেকোনো বিষয় সবার সাথে উন্মুক্তভাবে শেয়ার ও আলোচনা করে সবার মতামত নিতে চেষ্টা করেছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ৩১ অক্টোবর ধামইরহাট উপজেলায় যোগদান করেন তিনি এবং চার মাসের মাথায় গত ৫ মার্চ বিভাগীয় কমিশনার রাজশাহীর এক আদেশ বলে তাকে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় বদলি করা হয়।

গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে আমরা দেখেছি তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের একই সাথে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ক) ধামইরহাট পৌরসভার প্রশাসক, খ) ধামইরহাট উপজেলার প্রশাসক, গ) সহকর্মী কমিশনার ভূমি এর অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং ঘ) উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্বসহ প্রায় ৫টি পদের দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করেছেন। 

গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে খোলামেলা আলাপকালে তিনি পৌরসভার আয় ব্যায়ের বিষয়ে বলেন, এর আগে যেখানে প্রতি মাসের পৌরকর আদায় হত গড়ে ৫ লাখ টাকার মত, সেখানে তিনি পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নভেম্বর মাসে আদায় করেছি ৯ লাখ ৫০ হাজার ৩০৮ টাকা, এছাড়াও ডিসেম্বর মাসে ৭ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৫ টাকা, জানুয়ারি মাসে ১৫ লাখ ৭৮ হাজার ৩৯০, ফেব্রুয়ারি মাসে আদায় ১১ লাখ ৬১ হাজার ৫৩৮ এবং চলতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ৭৮০ টাকা। গাণিতিকভাবে তুলনা করলে দেখা যায় যা এই পৌরসভার পূর্বের পৌরকর আদায়ের প্রায় ৩গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ এর মধ্যে দিয়ে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তিনি এও বলেন, এই আয় থেকে যেখানে পৌর মেয়রকে সরকারি সম্মানি ভাতা হিসেবে দিতে হতো মাসে ৪০ হাজার টাকা। সেখানে পৌর প্রশাসক হিসেবে এই সরকারি আয়ের ১ টাকাও প্রতিমাসের আমাকে সম্মানী দিতে হয়নি। পুরো টাকাটাই পৌরসভার উন্নয়ন কাজে ব্যয় করার পথ প্রশস্ত হয়েছে। 

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থ বছরে উপজেলার আমায়তাড়া হাট-বাজার ইজারার প্রায় অর্ধেক টাকা বাকী ছিলো, যা তিনি পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে আদায় করেছেন। এছাড়াও ধামইরহাট বাজারের ইজারা মূল্যের সরকারি নির্ধারিত দরের চেয়েও এই বছর প্রায় ১২ লাখ টাকা বেশি আদায় করা সম্ভব হয়েছে শুধু এই পৌর প্রশাসকের তৎপরতায়।

এছাড়াও গত বছর এই পৌরসভার হাটের ইজারা থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যাতীত অন্যান্য আয় ছিলো ১কোটি ১৫ লাখ টাকা সেখানে চলতি বছরের ৮ মাসেই অন্যান্য আয় হয়েছে ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এটা শুধু এই পৌর প্রশাসকে তার বিভিন্ন রকম তৎপরতার কারণেই সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও ইউএনও ও পৌর প্রশাসক আমাদের পৌরসভার জন্য ল্যান্ডফিল বা ময়লার ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।

স্যারের বদলি জনিত বিদায়ের কারণে এই কাজগুলো হয়তো গতি হারাবে বা হয়তো হবেই না। ২০০৪ সাল থেকে এই পৌরসভা গঠিত হলেও ধামইরহাট পৌরসভার নিজেদের কোনো ভবন নেই। ফলে সেবা প্রার্থীদের স্থান অভাবে সঠিকভাবে সেবা দেওয়া যায় না।

পৌর প্রশাসক স্যার জয়েন করার পরেই বিষয়টি অনুধাবন করে দ্রুত কিভাবে পৌরসভার নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা যায় সেই উদ্যোগ গ্রহণ করেন। স্যারের বদলি হওয়ায় পৌরসভার নিজস্ব ভবন নির্মাণ কাজ অনেকটা পিছিয়ে যাবে।

পৌর বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান বলেন, মাত্র চার মাসের মধ্যে উপজেলায় দুর্নীতি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, অবৈধ পুকুর খনন, ইটভাটা নির্মাণ ও মাদকসহ অসংখ্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মধ্য দিয়ে তিনি উপজেলায় মানবিক ইউএনও হিসেবে দুস্থ, অসহায় ও সাধারণ মানুষদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। হঠাৎ তার বিদায়ের কারণে এই কাজগুলো থমকে গেল।

মানব সেবার সভাপতি রাসেল মাহমুদ বলেন, প্রতি মাসের সপ্তাহে একদিন শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ২০০ জন ভিক্ষুক ও প্রতিবন্ধীদের খাবারের আয়োজন করা হয়ে থাকে। বিষয়টি ইউএনও স্যার জানতে পেরে আমার সংগঠনের ভিক্ষুকদের মুখে নিজ হাতে খাবার তুলে দিতেন। 

তিনি আরও বলেন, দাপ্তরিক কাজের বাহিরে দুস্থ ও সাধারণ মানুষদের কাতারে গিয়ে নানান ধরনের সাহায্য ও সহযোগিতার মধ্যে অল্প সময়ে উপজেলা সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করছে সক্ষম হয়েছেন তিনি। এমন জনবান্ধব ইউএনও দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রয়োজন। তার অনাকাঙ্খিত বদলি জনিত বিদায়ের কারণে উপজেলার ভীষণ ক্ষতি হলো।

ইউএনও মোস্তাফিজুর বলেন, নওগাঁর ১১ তম উপজেলা হিসেবে ধামইরহাটকে এক নম্বর উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলায় ছিল আমার মূল লক্ষ্য। এরই ধারাবাহিকতায় অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এ উপজেলাকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে সাত জন নারীকে প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে সরকারি খরচে বিদেশে পাঠিয়েছি। যুবক এবং নারী খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে জেলা চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপ অর্জন করা হয়েছে। বিভাগে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এছাড়াও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জেলা এবং বিভাগে যেনো প্রথম স্থান অর্জন করতে পারে এ কারণে উপজেলা পরিষদ চত্বরে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস নেওয়া হয়। এতে করে শিক্ষার্থীরা যৌক্তিক মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার পাশাপাশি একজন ভালো বিতর্কিক হয়ে গড়ে উঠছিল।

তিনি আরও বলেন, উপজেলায় একটি পৌর ভবন এবং একটি বাস টার্মিনাল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা আমার ভীষণ ইচ্ছে ছিল। এ কারণে পরিদর্শন করে জায়গা নির্ধারণের কাজ চলছে এখন। এছাড়া উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে এবং প্রান্তিক আয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কিছুটা হলেও আর্থিক চাপ কমাতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণিতে এই বছর ভর্তি হওয়া প্রায় ৩৫০০ জন শিক্ষার্থীদেরকে স্কুল ব্যাগ, খাতা সহ নানা উপকরণ দেওয়ার ইচ্ছে ছিল, সময়ের অভাবে সেই কাজটি করা সম্ভব হলো না।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।