বরগুনার বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদ ইউনিয়নের সহকারী তহশিলদার (ভূমি) অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্রের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তিনি ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করেন না এবং ঘুষের নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা না দিলে ফাইল দিনের পর দিন তার টেবিলে পড়ে থাকে।
চান্দখালী বাজারে অবস্থিত কাজিরাবাদ ইউনিয়নের ভূমি অফিসে জমি সংক্রান্ত খাজনা, রেকর্ড সংশোধন ও অন্যান্য সেবা প্রদান করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই অফিসে উপসহকারী কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্রের কাছে ফাইল আসলে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা না দিলে তা সামনে এগোয় না।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান, তার ৪৪/৪৫ মামলার তদন্ত বরগুনা আদালত থেকে চান্দখালি ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তার কাছে আসে। কিন্তু তিনি কোনো পক্ষকে নোটিশ না দিয়ে মাসের পর মাস মামলা ফেলে রাখেন। অবশেষে, পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার পরই তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন।
এলাকার সাধারণ গরিব কৃষক ও দিনমজুররা জমি সংক্রান্ত কাজের জন্য তার কাছে গেলে তিনি নানা অজুহাতে ঘুষ নেওয়ার কৌশল খাটান এবং বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেন। তারপরও সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হয়।
এছাড়া, এর আগেও তিনি বুড়ামজুমদার ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালীন সময় ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছিলেন। ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা মাসুদ খানসহ অনেকেই তার বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের অভিযোগ করেছেন।
দুর্নীতির বিষয়ে চান্দখালী উপসহকারী দুলাল চন্দ্রর কাছে জানতে চাইলে তিনি অনিয়ম ও ঘোষ বাণিজ্যর কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমাকে অনেক সময় উভয়পক্ষ গাড়ি ভাড়া হিসাবে দিয়ে থাকেন, অথবা এক পক্ষ দিয়ে থাকেন। এটাকে ঘুষ বাণিজ্য বলে না।
এ বিষয় বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বশির গাজী বলেন, ‘তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’