সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

চাচী ভাতিজার পরকীয়ার জেরে সাংবাদিককে হুমকি

সাদ্দাম হোসেন  (নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি): নরসিংদীর রায়পুরায় স্বামীর মৃত্যুর পর ভাতিজার সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়া। এ নিয়ে এলাকায় চলছে চাঞ্চল্য অবস্থা। এমনি এক ঘটনা উঠেছে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের গৌরীপুর এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী ফেরদৌসী বেগমের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে দুইটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাচী-ভাতিজার এমন পরকীয়ার ঘটনায় স্থানীয় বখাটেরা সাংবাদিককে হুমকিও দিচ্ছেন। মৃত মোহাম্মদ আলীর […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জানুয়ারী ২০২৫, ১৫:০২

সাদ্দাম হোসেন  (নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি):

নরসিংদীর রায়পুরায় স্বামীর মৃত্যুর পর ভাতিজার সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়া। এ নিয়ে এলাকায় চলছে চাঞ্চল্য অবস্থা। এমনি এক ঘটনা উঠেছে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের গৌরীপুর এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী ফেরদৌসী বেগমের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে দুইটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাচী-ভাতিজার এমন পরকীয়ার ঘটনায় স্থানীয় বখাটেরা সাংবাদিককে হুমকিও দিচ্ছেন।

মৃত মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম ভাতিজা দুলাল মিয়ার পরকীয়া খবর জানাজানি হলে গৌরীপুর এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। স্থানীয় এলাকাবাসীর হাতেনাতে ধরা পড়ার পর পরকীয়ার কথা স্বীকার করেন অভিযুক্ত ফেরদৌসী।

জানা যায়, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ আলীর সাথে তের বছর আগে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় একই উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের ইউনুছ মিয়ার মেয়ে ফেরদৌসীর।

এই দম্পত্তির ১ কন্যা ও ১ পুত্র সন্তান রয়েছে। তাদের সংসার ভালোই চলছিলো। কিন্তু হঠাৎ ২০১৭ সালে স্বামী মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর হয়।

এর পর থেকে দুই সন্তানের জননী ফেরদৌসী অনেকটা একাকিত্বে ভোগেন। চাচার মৃত্যুর পর ভাতিজা বাড়িতে যাওয়া আসা শুরু করে। ওই সময় ভাসুরের ছেলে দুলালের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন চাচী ফেরদৌসী বেগম। চাচী ও ভাতিজার মধ্যে তৈরি হয় পরকীয়া। দুলাল নিজেও বিবাহিত তারও রয়েছে চার সন্তান। তিন মাস আগে পরকীয়া করতে গিয়ে একসাথে একরুমে ধরা পড়েন ফেরদৌসী ও দুলাল। তখন স্থানীয় এলাকাবাসী তাদের আটক করলে তারা বিয়ের কাবিননামা দেখিয়ে বলেন তারা নাকি স্বামী স্ত্রী।

ভাতিজা দুলাল মিয়ার প্রথম স্ত্রী হাসি বেগম ভিডিও বক্তব্যে জানান, ২০১৭ সালে দুই সন্তানের জননী ফেরদৌসীর স্বামী মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর পর আমার স্বামীর সঙ্গে নিয়মিত পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। আমাদের দম্পতি জীবনে চার সন্তান রয়েছে। প্রায় তিন মাস পূর্বে পরকীয়া করতে গিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর হাতেনাতে ধরা পড়ে। ওই ঘটনায় তাদের বিচারের দাবি উঠলে এলাকাবাসী স্থানীয় একটি সালিসি দরবারে লিখিত স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারবদ্ধভাবে একে অপরকে তালাক দেওয়া দিয়ে ফেরদৌসীকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তাছাড়া তিনি আরও ভিডিও বক্তব্যে জানান, ফেরদৌসী বেগম কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি কামাল পাঠান, বিপ্লব ও ওয়াসিম সহ আরও কয়েকজন জড়িত থাকায় তাদের সহযোগিতায় ফেরদৌসী বেগম আবার তার মৃত স্বামী মোহাম্মদ আলীর ঘরের তালা ভেঙে উঠে। আমার স্বামী দুলাল মিয়া এখনও আমার সংসারে অশান্তি ও অত্যাচার করতে থাকে প্রতিনিয়তই।

ভাতিজা দুলাল মিয়ার চাচা আবু বক্কর জানান, বেশ কিছুদিন পূর্বে আবার হঠাৎ কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় আমার ভাই মৃত মোহাম্মদ আলীর ঘরের তালা ভেঙে ফেরদৌসী বাড়িতে উঠে। সে ফিরে আসাকে মেনে নিতে পারি নাই বলেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানায় অফিসার ইনচার্জের বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করি। এ নিয়ে আমাদের গ্রামে উত্তেজনা ও অশান্তি বিরাজমান করছে। এছাড়াও ফেরদৌসী আমাকে মিথ্যা বানোয়াট মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ফেরদৌসীকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে এ প্রতিনিধি মুঠোফোনে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ফেরদৌসী বেগম জানান, আমি কিছু বলতে পারবো না। কারণ কামাল পাঠান, মুসা পাঠান ও মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি তার বক্তব্য দিতে রাজি নন।

এরপর পরই একের পর এক, একজন বিভিন্ন সময়ে কামাল পাঠান,মামুন ও মুসা পাঠান এ প্রতিনিধিকে তারা পর্যায়ক্রমে তাদের নিজস্ব মুঠোফোনে জানান, এলাকার শান্তি বজায় রাখার জন্য আমরা এলাকাবাসী মিলে স্থানীয় একটি সালিসি দরবারে লিখিত স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারবদ্ধভাবে সমাধান করে দিছি। এখন এই বিষয়ে আমরা নাই।

তাছাড়া কামাল পাঠান তার নিজস্ব মুঠোফোনে প্রতিনিধিকে বলে তুমি কতবড় সাংবাদিক হয়েছো,আমি এটা দেখে নিবো। পারলে আমার সামনে আসো বলে আরও হুমকিস্বরূপ মন্তব্য করেন।

ভাতিজা দুলাল মিয়া তার নিজস্ব মুঠোফোনে প্রতিনিধিকে জানান, এ বিষয়ে স্থানীয় একটি সালিসি দরবারে লিখিত স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারবদ্ধভাবে সমস্যা সমাধান করে। যদি ফেরদৌসী বেগমের সঙ্গে আমার কোনোরকম ভবিষ্যতে সম্পর্ক প্রমাণিত হলে আমার জরিমানা দিতে হবে। এখন আমি আমার সংসার নিয়ে ব্যস্ত আছি। আর আমি এইসবের মধ্যে নাই। আমার প্রথম স্ত্রী হাসি বেগম আমার বিরুদ্ধে অযথা মিথ্যা বানোয়াট লিখিত অভিযোগ দায়ের করছে।

রায়পুরা থানা পুলিশ উপ-পরিদর্শক আল-মামুন জানান, আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিব। সাংবাদিককে হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সাংবাদিকদের রক্ষায় থানাপুলিশ কাজ করে যাচ্ছি।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।