রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

চাচী ভাতিজার পরকীয়ার জেরে সাংবাদিককে হুমকি

সাদ্দাম হোসেন  (নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি): নরসিংদীর রায়পুরায় স্বামীর মৃত্যুর পর ভাতিজার সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়া। এ নিয়ে এলাকায় চলছে চাঞ্চল্য অবস্থা। এমনি এক ঘটনা উঠেছে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের গৌরীপুর এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী ফেরদৌসী বেগমের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে দুইটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাচী-ভাতিজার এমন পরকীয়ার ঘটনায় স্থানীয় বখাটেরা সাংবাদিককে হুমকিও দিচ্ছেন। মৃত মোহাম্মদ আলীর […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জানুয়ারী ২০২৫, ১৫:০২

সাদ্দাম হোসেন  (নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি):

নরসিংদীর রায়পুরায় স্বামীর মৃত্যুর পর ভাতিজার সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়া। এ নিয়ে এলাকায় চলছে চাঞ্চল্য অবস্থা। এমনি এক ঘটনা উঠেছে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের গৌরীপুর এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী ফেরদৌসী বেগমের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে দুইটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাচী-ভাতিজার এমন পরকীয়ার ঘটনায় স্থানীয় বখাটেরা সাংবাদিককে হুমকিও দিচ্ছেন।

মৃত মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম ভাতিজা দুলাল মিয়ার পরকীয়া খবর জানাজানি হলে গৌরীপুর এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। স্থানীয় এলাকাবাসীর হাতেনাতে ধরা পড়ার পর পরকীয়ার কথা স্বীকার করেন অভিযুক্ত ফেরদৌসী।

জানা যায়, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ আলীর সাথে তের বছর আগে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় একই উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের ইউনুছ মিয়ার মেয়ে ফেরদৌসীর।

এই দম্পত্তির ১ কন্যা ও ১ পুত্র সন্তান রয়েছে। তাদের সংসার ভালোই চলছিলো। কিন্তু হঠাৎ ২০১৭ সালে স্বামী মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর হয়।

এর পর থেকে দুই সন্তানের জননী ফেরদৌসী অনেকটা একাকিত্বে ভোগেন। চাচার মৃত্যুর পর ভাতিজা বাড়িতে যাওয়া আসা শুরু করে। ওই সময় ভাসুরের ছেলে দুলালের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন চাচী ফেরদৌসী বেগম। চাচী ও ভাতিজার মধ্যে তৈরি হয় পরকীয়া। দুলাল নিজেও বিবাহিত তারও রয়েছে চার সন্তান। তিন মাস আগে পরকীয়া করতে গিয়ে একসাথে একরুমে ধরা পড়েন ফেরদৌসী ও দুলাল। তখন স্থানীয় এলাকাবাসী তাদের আটক করলে তারা বিয়ের কাবিননামা দেখিয়ে বলেন তারা নাকি স্বামী স্ত্রী।

ভাতিজা দুলাল মিয়ার প্রথম স্ত্রী হাসি বেগম ভিডিও বক্তব্যে জানান, ২০১৭ সালে দুই সন্তানের জননী ফেরদৌসীর স্বামী মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর পর আমার স্বামীর সঙ্গে নিয়মিত পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। আমাদের দম্পতি জীবনে চার সন্তান রয়েছে। প্রায় তিন মাস পূর্বে পরকীয়া করতে গিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর হাতেনাতে ধরা পড়ে। ওই ঘটনায় তাদের বিচারের দাবি উঠলে এলাকাবাসী স্থানীয় একটি সালিসি দরবারে লিখিত স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারবদ্ধভাবে একে অপরকে তালাক দেওয়া দিয়ে ফেরদৌসীকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তাছাড়া তিনি আরও ভিডিও বক্তব্যে জানান, ফেরদৌসী বেগম কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি কামাল পাঠান, বিপ্লব ও ওয়াসিম সহ আরও কয়েকজন জড়িত থাকায় তাদের সহযোগিতায় ফেরদৌসী বেগম আবার তার মৃত স্বামী মোহাম্মদ আলীর ঘরের তালা ভেঙে উঠে। আমার স্বামী দুলাল মিয়া এখনও আমার সংসারে অশান্তি ও অত্যাচার করতে থাকে প্রতিনিয়তই।

ভাতিজা দুলাল মিয়ার চাচা আবু বক্কর জানান, বেশ কিছুদিন পূর্বে আবার হঠাৎ কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় আমার ভাই মৃত মোহাম্মদ আলীর ঘরের তালা ভেঙে ফেরদৌসী বাড়িতে উঠে। সে ফিরে আসাকে মেনে নিতে পারি নাই বলেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানায় অফিসার ইনচার্জের বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করি। এ নিয়ে আমাদের গ্রামে উত্তেজনা ও অশান্তি বিরাজমান করছে। এছাড়াও ফেরদৌসী আমাকে মিথ্যা বানোয়াট মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ফেরদৌসীকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে এ প্রতিনিধি মুঠোফোনে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ফেরদৌসী বেগম জানান, আমি কিছু বলতে পারবো না। কারণ কামাল পাঠান, মুসা পাঠান ও মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি তার বক্তব্য দিতে রাজি নন।

এরপর পরই একের পর এক, একজন বিভিন্ন সময়ে কামাল পাঠান,মামুন ও মুসা পাঠান এ প্রতিনিধিকে তারা পর্যায়ক্রমে তাদের নিজস্ব মুঠোফোনে জানান, এলাকার শান্তি বজায় রাখার জন্য আমরা এলাকাবাসী মিলে স্থানীয় একটি সালিসি দরবারে লিখিত স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারবদ্ধভাবে সমাধান করে দিছি। এখন এই বিষয়ে আমরা নাই।

তাছাড়া কামাল পাঠান তার নিজস্ব মুঠোফোনে প্রতিনিধিকে বলে তুমি কতবড় সাংবাদিক হয়েছো,আমি এটা দেখে নিবো। পারলে আমার সামনে আসো বলে আরও হুমকিস্বরূপ মন্তব্য করেন।

ভাতিজা দুলাল মিয়া তার নিজস্ব মুঠোফোনে প্রতিনিধিকে জানান, এ বিষয়ে স্থানীয় একটি সালিসি দরবারে লিখিত স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারবদ্ধভাবে সমস্যা সমাধান করে। যদি ফেরদৌসী বেগমের সঙ্গে আমার কোনোরকম ভবিষ্যতে সম্পর্ক প্রমাণিত হলে আমার জরিমানা দিতে হবে। এখন আমি আমার সংসার নিয়ে ব্যস্ত আছি। আর আমি এইসবের মধ্যে নাই। আমার প্রথম স্ত্রী হাসি বেগম আমার বিরুদ্ধে অযথা মিথ্যা বানোয়াট লিখিত অভিযোগ দায়ের করছে।

রায়পুরা থানা পুলিশ উপ-পরিদর্শক আল-মামুন জানান, আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিব। সাংবাদিককে হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সাংবাদিকদের রক্ষায় থানাপুলিশ কাজ করে যাচ্ছি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।