সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের উৎসবমুখর পরিবেশে বার্ষিক বনভোজন সমপন্ন 

শাহরিয়ার আহমেদ শাওন (নবীগঞ্জ  প্রতিনিধি): “নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব” সদস্যদের মধ্যকার সৌহার্দ্য-সম্প্রতি আরো জোরদার করার প্রত্যয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো নবীগঞ্জের সাংবাদিকদের প্রাণের সংগঠন প্রেসক্লাব ‘নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব’ এর বার্ষিক বনভোজন। আমন্ত্রিত অতিথি আর ক্লাব কর্মকর্তা ও সদস্যগণ নিয়ে এতে যোগ দেয়ায় বনভোজনটি মিলন মেলায় পরিণত হয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ঘেরা মৌলভী বাজার রিসোর্ট রাঙাউটিতে বনভোজনের আয়োজন করা হয়। […]

নিউজ ডেস্ক

১৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:৪৬

শাহরিয়ার আহমেদ শাওন (নবীগঞ্জ  প্রতিনিধি):
“নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব” সদস্যদের মধ্যকার সৌহার্দ্য-সম্প্রতি আরো জোরদার করার প্রত্যয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো নবীগঞ্জের সাংবাদিকদের প্রাণের সংগঠন প্রেসক্লাব ‘নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব’ এর বার্ষিক বনভোজন। আমন্ত্রিত অতিথি আর ক্লাব কর্মকর্তা ও সদস্যগণ নিয়ে এতে যোগ দেয়ায় বনভোজনটি মিলন মেলায় পরিণত হয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ঘেরা মৌলভী বাজার রিসোর্ট রাঙাউটিতে বনভোজনের আয়োজন করা হয়।
দিনব্যাপী আয়োজিত বনভোজনের কর্মকান্ডের মধ্যে ছিলো শুভেচ্ছা বিনিময়, আড্ডা, হাড়ি ভাঙ্গা খেলাধুলা, মেধা কুইজ প্রতিযোগিতা, র‌্যাফেল ড্র সহ নানা আয়োজন। সেই সাথে ছিলো সকালের নাস্তা, দুপুরে মধ্যাহ্ন ভোজ আর বিকেলে চায়ের সাথে মিষ্টান্ন আড্ডা। আরো ছিলো আকর্ষণীয় র‌্যাফল ড্র আর গান।
‘নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব’ এর বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়। নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব বনভোজন উপ-কমিটির আহবায়ক অলিউর রহমান অলি ও সদস্য সচিব তৌহিদ চৌধুরী সঞ্চালনায় বিভিন্ন ইভেন্ট গুলো অনুষ্ঠিত হয়। বনভোজন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে ছিলেন বিটিভি ও বেতারের বৈদেশিক প্রতিনিধি সাংবাদিক মোঃ আশরাফ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন নবীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মুজিবুর রহমান চৌধুরী শেফু, লন্ডন প্রবাসী সমাজ সেবক শাহ্ মোঃ ছালিক মিয়া, ডিবিসি নিউজ এর গ্রীস প্রতিনিধি মতিউর রহমান মুন্না।
অতিথি ও ক্লাব কর্মকর্তাগণ দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে বনভোজন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। পরে বিকালে আলোচনা সভা ও সম্মানণা ক্রেষ্ট প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি এম.এ আহমদ আজাদ এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম তালুকদার এর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি ও বনভোজন আয়োজন কমিটির আহবায়ক অলিউর রহমান অলি।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে বিচারক ছিলেন, সভাপতি এম.এ আহমদ আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম তালুকদার, সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিঠু, উত্তম কুমার পাল হিমেল, দৈনিক বিবিয়ানা পত্রিকার সম্পাদক ফখরুল ইসলাম চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি এসআরচৌধুরী সেলিম, আনোয়ার হোসেন মিঠু, দৈনিক হবিগঞ্জ সময় পত্রিকার সম্পাদক মো: আলাউদ্দিন, মানব জমিনের স্টাফ রিপোর্টার এম.এ বাছিত, সাবেক সভাপতি এটিএম সালাম, উত্তম কুমার পাল হিমেল, রাকিল হোসেন, সরওয়ার শিকদার, দৈনিক বিবিয়ানা পত্রিকার সম্পাদক ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মিয়া, অর্থ সম্পাদক শওকত আলী, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব বন ভোজন উপ-কমিটির সদস্য সচিব তৌহিদ চৌধুরী, প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক মুরাদ আহমদ, আশাহিদ আলী আশা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সলিল বরণ দাশ, মহিবুর রহমান চৌধুরী তছনু, নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ সুলতান আহমেদ, এম মুজিবুর রহমান, হাবিবুর রহমান চৌধুরী শামীম, সাধারণ সদস্য আবু তালেব, মোঃ মুহিবুর রহমান, কিবরিয়া চৌধুরী, গৌছুজ্জামান চৌধুরী, ছনি আহমেদ চৌধুরী, শাহরিয়ার আহমদ শাওন, সাগর আহমদ, ইকবাল হোসেন তালুকদার, নিজামুল হক চৌধুরী, আলাল মিয়া, অঞ্জন রায়, জুয়েল আহমদ, হাসান চৌধুরী, স্বপন রবি দাস প্রমূখ।
বক্তরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, আমরা যার সমাজ, দেশ রাষ্ট্রকে ভালোবাসি, দেশের মানুষের সেবায় কাজ করতে চাই তাদের সবার একই পথ। সাংবাদিক সমাজও সেই পথের পথিক। তাই আমাদের সবাইকে একই পথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানুষের সেবায় আরো কাজ করতে হবে। সাংবাদিক সমাজ আর মিডিয়ার কল্যাণে সবার সাধ্যমতো সহযোগিতার আশ্বাস দেন। নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের কর্মকান্ডের ভূয়শী প্রশংসা এবং সার্বিক সফলতা কামনা করেন। ক্লাবের কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্যে সদস্যদের মধ্যকার সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি আরো জোরদারের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
সর্বশেষে অনুষ্ঠিত পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি ও ক্লাবের কর্মকর্তাগণ বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন। ২০২৪ সালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের ভবন নির্মানের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখার জন্য নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব বনভোজন উপ-কমিটির পক্ষ থেকে সম্মাণনা ক্রেষ্ট প্রদান করেন নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি এম.এ আহমদ আজাদ¡ ও সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম তালুকদার এবং নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের কার্যকরী কমিটির ১২ জন সদস্যকে যৌথ সম্মাণনা ক্রেষ্ট প্রদান করেন।
নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব বনভোজন উপ-কমিটির আহবায়ক অলিউর রহমান অলি, সদস্য সচিব তৌহিদ চৌধুরী, সদস্য উত্তম কুমার পাল হিমেল, সলিল বরণ দাশ, ছনি আহমদ চৌধুরী, মোঃ সাগর আহমদ, অঞ্জন রায়কে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সফল বনভোজন আয়োজন করার জন্য সম্মাণনা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়। নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.মছদ্দর আলীকে প্রবীন সাংবাদিক হিসাবে সম্মাণনা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।