সজিব রেজা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে জমি কেনাবেচা ও গরুর খামারের ব্যবসার কথা বলে ৬০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে উজ্জ্বল মিয়া (৪১) নামের যুবদলের এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই মামলায় তার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগও আনা হয়েছে।
সোমবার ( ২ নভেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে পৌর শহর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার উজ্জ্বল মিয়া উপজেলার ওসমানপুর ছয়ঘট্টি গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে। তিনি ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
এ ঘটনায় উপজেলার কাশিয়াতলা শিধলগ্রামের বাসিন্দা রিফাত কবীর (২৩) বাদী হয়ে সোমবার রাতে ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করেন। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান।
মামলার এজাহার ও বাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ঘোড়াঘাট উপজেলার সাগরপুর মৌজায় নিজের ৫৭ শতাংশ জমি উজ্জ্বল মিয়ার কাছে ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন রিফাত।
এ সময় জমির মূল্য বাবদ ১০ লাখ টাকা নগদ পরিশোধ করেন উজ্জ্বল। বাকি ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ না করে তিনি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে রিফাতের গরুর খামারের জন্য ৫০টি গরু সরবরাহের কথা বলে ৮ মার্চ থেকে ২ মে পর্যন্ত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা অগ্রিম এবং ১৮ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে নেন উজ্জ্বল।
বাদীর দাবি, জমি ও গরুর খামারসংক্রান্ত লেনদেন মিলিয়ে তার কাছ থেকে মোট ৬০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গরু সরবরাহ না করায় তিনি টাকা ফেরত চান। এরপর থেকে উজ্জ্বল তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করেন রিফাত।
এ নিয়ে গত ৮ জুন স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে উজ্জ্বল ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেন এবং বাকি টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। এ সময় জমির বায়নানামা, গরু কেনার বায়নানামা ও দায় স্বীকারোক্তিমূলক অঙ্গীকারনামায় স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এরপরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি টাকা পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ বাদীর। বরং পাওনা টাকা চাইতে গেলে তার কাছে আরও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে রাস্তাঘাটে পেলে খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন তিনি।
জীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দাবিকৃত চাঁদার মধ্যে ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন রিফাত।
এজাহারে আরও বলা হয়, একই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হুমায়ুন রাইস মিল থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার সময় রিফাতের পথরোধ করা হয়। এ সময় তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত এবং তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
এতে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি রিফাত ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ এবং প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধনের হুমকি দেওয়ার কথাও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
বাদী রিফাত কবীর বলেন, সালিশ বৈঠকে পাওনা টাকার বিপরীতে ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করে বাকি টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার করেছিলেন উজ্জ্বল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও টাকা ফেরত দেননি।
পরে টাকা চাইতে গেলে আর কোনো টাকা দেবেন না বলে জানান। উল্টো তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এর মধ্যে ৫ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
রিফাতের দাবি, জমি ও ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া টাকা ফেরত না পাওয়ার পাশাপাশি চাঁদা দাবি, মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
এ বিষয়ে যুবদলের দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক এ কে এম মাসুদুল ইসলাম বলেন, দলীয় পরিচয়ে কেউ অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই সাজার আওতায় আসতে হবে।
তবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। উজ্জ্বল মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, প্রতারণার মামলায় উজ্জ্বল মিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।