রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

জামায়াতের দেওয়া সেলাই মেশিন ফেরত দিলেন সেই বিএনপি নেতার স্ত্রী

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রয়াত এক বিএনপি নেতার অসচ্ছল পরিবারকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে উপহার দেওয়া সেলাই মেশিন ফেরত দেওয়ার ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপহার দেওয়ার ছবি ও খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মেশিনটি ফেরত দেন ওই নেতার স্ত্রী। তবে এ ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক চাপ ছিল কি না, তা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত […]

জামায়াতের দেওয়া সেলাই মেশিন ফেরত দিলেন সেই বিএনপি নেতার স্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৭

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রয়াত এক বিএনপি নেতার অসচ্ছল পরিবারকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে উপহার দেওয়া সেলাই মেশিন ফেরত দেওয়ার ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপহার দেওয়ার ছবি ও খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মেশিনটি ফেরত দেন ওই নেতার স্ত্রী। তবে এ ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক চাপ ছিল কি না, তা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর জামষাইট গ্রামে প্রয়াত বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলামের বাড়ি থেকে সেলাই মেশিনটি ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে সাইফুল ইসলামের স্ত্রী ঝুমা আক্তারের হাতে সেলাই মেশিনটি তুলে দেন স্থানীয় জামায়াত নেতারা। সাইফুল ইসলাম বনগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যুর পর তিন মেয়েকে নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েন স্ত্রী ঝুমা আক্তার। তাকে স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিনটি উপহার দেওয়া হয়েছিল বলে জানান জামায়াত নেতারা।

তবে উপহার দেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি বদলে যায়।

এক ভিডিও বার্তায় ঝুমা আক্তার বলেন, তিনি প্রথমে জানতেন, তার প্রয়াত স্বামীর এক বন্ধু ব্যক্তিগতভাবে সেলাই মেশিনটি দিয়েছেন। এটি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।

পরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রচারিত হলে মেশিনটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। একই সঙ্গে নিজেকে বিএনপি পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন ঝুমা আক্তার।

এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মাওলানা মো. ইদ্রিস আলী বলেন, বনগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে পরিবারটিকে সেলাই মেশিনটি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারটি মনে করে, এতে তাদের পারিবারিক সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

তিনি জানান, ঝুমা আক্তার নিজেই ফোন করে মেশিনটি ফিরিয়ে নিতে বলেন। পরে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সেটি ফেরত আনা হয়। এ সময় বনগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেন, পরিবারটির আর্থিক অসচ্ছলতার কথা বিবেচনা করে মানবিক সহায়তা হিসেবে সেলাই মেশিনটি দেওয়া হয়েছিল। এর আগেও গোপনে পরিবারটিকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মানবিক সহায়তার কারণে পরিবারটি কোনো রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক চাপের মুখে পড়ুক, তা তারা চান না।

অন্যদিকে, বনগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের দাবি, প্রয়াত সাইফুল ইসলামের বন্ধু হিসেবে মাওলানা ইদ্রিস আলী ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেলাই মেশিনটি দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে এটিকে জামায়াতের সাংগঠনিক সহায়তা হিসেবে প্রচার করা হয়। এতে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

তবে রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, মেশিনটি ফেরত দেওয়ার পেছনে কোনো রাজনৈতিক চাপ ছিল না।

তার দাবি, প্রয়াত বিএনপি নেতার এক বন্ধু ব্যক্তিগতভাবে সেলাই মেশিনটি দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরে জামায়াতের পক্ষ থেকে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করায় ঝুমা আক্তার ক্ষুব্ধ হন এবং সেটি ফেরত দেন।

সংসদ সদস্য আরও জানান, ওই পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে ইতোমধ্যে বাড়ি মেরামত, শৌচাগার নির্মাণ ও নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঝুমা আক্তারের কর্মসংস্থানের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী জানান, সেলাই মেশিন ফেরত দেওয়ার ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

তিনি বলেন, জামায়াত রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ধর্ম-বর্ণ বিবেচনা না করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। তবে বিএনপির কেউ চাপ দিয়ে মেশিনটি ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করে থাকলে, সেটি তাদের বিষয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চললেও সেলাই মেশিন ফেরত দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক চাপ ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, স্বামীকে হারিয়ে তিন মেয়েকে নিয়ে আর্থিক সংকটে থাকা ঝুমা আক্তারের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি  নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম […]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সেনবাগ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা অফিস কক্ষে প্রবেশের পর দুটি স্টিলের আলমিরা ও একটি ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।