আলী আক্কাস (মুন্সীগঞ্জ)
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড়ের কৃতী সন্তান, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও প্রবীণ রাজনীতিক জগলুল হালদার ভুতুর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৭ অক্টোবর। ২০২২ সালের এই দিনে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে টঙ্গীবাড়ীর রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল।
জগলুল হালদার ভুতু ছিলেন স্থানীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ। দিঘীরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তাঁর জনপ্রতিনিধির জীবন শুরু হয়। ১৯৭৭ সালে তিনি দিঘীরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯০ সালে প্রথমবার টঙ্গীবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওই সময় তিনি দেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে স্বর্ণপদক অর্জন করেন।
দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দ্বিতীয়বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন জগলুল হালদার ভুতু।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি টঙ্গীবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পারিবারিক জীবনেও তাঁর পরিচিতি ছিল। তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলাম হালদার ও লুৎফর হালদার খুকু স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাঁরা দিঘীরপাড় ও কামারখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
জগলুল হালদার ভুতুর মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন একজন অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধিকে হারায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক পথচলা, দায়িত্ব পালন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সম্পৃক্ততার স্মৃতি আজও তাঁর পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রয়াত এই জনপ্রতিনিধির রাজনৈতিক জীবন ও অবদান স্মরণ করছেন তাঁর স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা। দিঘীরপাড়ের এই কৃতী সন্তানের জীবন ও কর্ম স্থানীয় ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।