মোঃ হাচান আল মামুন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
জাতীয় শিশু দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে খাগড়াছড়ির শিশুদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় শিশুদের বিনোদনের জন্য খাগড়াছড়িতে আধুনিক মানের একটি শিশু পার্ক নির্মাণের দাবি জানানো হলে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে খাগড়াছড়ি সফরের কথাও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ ভার্চুয়াল মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশু শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
খাগড়াছড়ি প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া। জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছারসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
ভার্চুয়াল মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের ভবিষ্যৎ ভাবনা, প্রত্যাশা ও বিভিন্ন সমস্যার কথা জানতে চান। এ সময় শ্রাবস্তী নামের এক শিশু শিক্ষার্থী খাগড়াছড়িতে শিশুদের বিনোদনের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে একটি আধুনিক শিশু পার্ক নির্মাণের দাবি জানায়।
শিশুটির দাবির পাশাপাশি পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রধানমন্ত্রীকে খাগড়াছড়ি সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী খাগড়াছড়িতে আধুনিক মানের একটি শিশু পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সুবিধাজনক সময়ে খাগড়াছড়ি সফরে আসার কথাও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এমন আশ্বাসে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত শিশুদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়। এ সময় অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
পরে স্থানীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া পার্বত্য অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষা, মেধা বিকাশ ও সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি ভার্চুয়াল মতবিনিময়ের ফলে তারা নিজেদের প্রত্যাশা, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে। এ ধরনের আয়োজন শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।