রাশিমুল হক রিমন, নিজস্ব প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনা জেলার আমতলী পৌর শহরের বাঁধঘাট এলাকার চাওড়া ও বাসুগী খাল দখল করে সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে চৌরাস্তার কালভার্টের মুখ বালুর বস্তা দিয়ে আটকে রাখায় দুই খালের পানি প্রবাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ফলে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আমতলী পৌরসভার একাংশসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত কালভার্টের মুখ খুলে পানি চলাচল স্বাভাবিক করা, খালের দুই তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং খাল খননের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে আমতলী উপজেলা শহর রক্ষায় চাওড়া খালের ওপর একটি ক্লোজার নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকেই চাওড়া নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে চাওড়া, কুকুয়া, হলদিয়া, আমতলী সদর ইউনিয়ন এবং পৌরসভার একাংশের বাসিন্দারা বছরের পর বছর জলাবদ্ধতা ও পচা পানির দুর্ভোগে ভুগছেন।
পরে পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক করতে ২০১৫ সালে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড আমতলী বাঁধঘাট চৌরাস্তায় ৪৩/১ পোল্ডারের আওতায় চাওড়া ও বাসুগী খালের সংযোগস্থলে একটি কালভার্ট নির্মাণ করে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই কালভার্টসংলগ্ন এলাকা, দুই খালের তীর এবং খালের অংশবিশেষ দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ীরা স্থাপনা গড়ে তোলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১১ বছরে খালের দুই তীরে সহস্রাধিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কাঁচাবাজার, মাছ বাজার ও কসাইখানার বর্জ্য নিয়মিত খালে ফেলায় খাল ভরাট হয়ে পড়েছে। এর ওপর কালভার্টের এক পাশে বালুর বস্তা ফেলে পানি চলাচল বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে সাম্প্রতিক টানা ১০ দিনের বৃষ্টিতেও কালভার্ট দিয়ে এক ফোঁটা পানিও নামেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা নকিব ও খালেক মিয়া বলেন, “চাওড়া খালের পানি নিষ্কাশনের জন্যই কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের স্থাপনা রক্ষার জন্য কালভার্টের মুখ বালুর বস্তা দিয়ে আটকে রেখেছেন। পানি চলাচল স্বাভাবিক হলে তাদের অবৈধ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
সোমবার (১৩ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, আমতলী বাঁধঘাট চৌরাস্তার কালভার্টের আশপাশ এবং চাওড়া ও বাসুগী খালের দুই তীরজুড়ে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। খালের ওপর ও তীরজুড়ে কাঁচাবাজার, মাছ বাজার ও কসাইখানা পরিচালিত হচ্ছে।
বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনায় খাল প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। দুর্গন্ধে পরিবেশও মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। কালভার্টের মুখ বালুর বস্তা দিয়ে আটকে রাখা থাকায় পানি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, “খুব দ্রুত কালভার্টের মুখ থেকে বালুর বস্তা সরিয়ে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি খালের পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হান্নান প্রধান বলেন, “খালের পাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য ইতোমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে খাল খননের কাজ শুরু করা হবে।”