নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
নেত্রকোনার মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (এমটি ল্যাব) শিউলি সরকারের বিরুদ্ধে রোগীকে হেপাটাইটিস বি (এইচবিএসএজ) পজেটিভ রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী স্বামী মোঃ হামিম চৌধুরী মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তবে শিউলি সরকারের দাবি তিনি কোন ভুল রিপোর্ট দেননি। টেকনিক্যালি হয়তো কোন ভুল রিপোর্ট আসতে পারে।
ভুক্তভোগী তামান্না খানম রুম্পা উপজেলা তিয়শ্রী ইউনিয়নের শিবটাশা গ্রামের মোঃ হামিম চৌধুরীর স্ত্রী।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হামিম চৌধুরীর স্ত্রী শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ২১ মে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। পরে ডাক্তার চিকিৎসা পত্রে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা দেন। রুম্পা এসব পরীক্ষা মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজিতে করান।
পরে রিপোর্ট অনুযায়ী তামান্না খানম রুম্পা জানতে পারেন তিনি হেপাটাইটিস বি রোগে আক্রান্ত। এরপর শুরু হয় তার বিভীষিকাময় কষ্টের সময়। তার সাথে পরিবারের সদস্যরা এমনকি স্বামী সন্তানরাও সাথে দূরত্ব বজায় রাখে। ভিন্ন ভিন্ন রিপোর্টের কারণে তার স্ত্রী ও পরিবার চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই।
বিশেষ করে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং চরম মানসিক কষ্টের সম্মুখীন হন। পরে ২৩ মে রুম্পার পরিবার তার উন্নত চিকিৎসা করার জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর তার শরীরে হেপাটাইটিস নেগেটিভ রিপোর্ট আসে।
ভুক্তভোগী তামান্না খানম রুম্পা বলেন, এইচবিএজ পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়ার পর আমার জীবনের বিভীষিকাময় সময় পার করি। পরিবারের সবাই আমার সাথে এমনকি স্বামী সন্তানও দূরত্ব বজায় রাখে। এই দুশ্চিন্তায় আমার চার মাসের গর্ভ নষ্ট হয়ে যায়। এই ভুল রিপোর্ট এর কারণ আমার যা ক্ষতি হয়েছে এর সঠিক বিচার চাই।
অভিযুক্ত প্যাথলজি এমটি শিউলি সরকার বলেন, রিপোর্টে আসছে এইচবিএজ পজেটিভ। আমি তাই রিপোর্ট দিয়েছি। ৪মাসের গর্ভ নষ্টের বিষয়ে তো আমি কিছু বলতে পারব না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তায়েফ হোসেন বলেন, স্যার আসলে বিষয়টা নিয়ে বসবো। পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মোঃ নাদির হোসেন শামীম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে
নেত্রকোনা সিভিল সার্জন ডাক্তার মোঃ গোলাম মাওলা বলেন, অভিযোগের কপি পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।