সজিব রেজা, দিনাজপুর প্রতিনিধি;
দিনাজপুরে প্রাণ ফিরে পেয়েছে লিচুর বাজার। দেশের অন্যতম লিচু উৎপাদনকারী জেলা দিনাজপুরে মৌসুমের শুরুতেই সরগরম হয়ে উঠেছে লিচুর বাজার। জেলার বিভিন্ন বাগান থেকে মাদ্রাজি, বেদানা, বোম্বাই ও চায়না-থ্রি জাতের লিচু বাজারে আসতে শুরু করায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েকগুণ।
জেলার বৃহত্তম লিচুর বাজার দিনাজপুর শহরের নিউমার্কেট এলাকায় প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে জমজমাট বেচাকেনা। বাজারজুড়ে সারিবদ্ধভাবে সাজানো লিচুর ঝুড়ি, পাইকারদের আনাগোনা এবং দর-কষাকষিতে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, লিচুভর্তি ভ্যান, ইজিবাইক ও ছোট ট্রাক নিয়ে বাজারে ভিড় করছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। স্থান সংকটের কারণে অনেককে সড়কের পাশে অপেক্ষা করেও বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লিচুর আকার, রং ও মান বেশ ভালো হয়েছে। যদিও ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা এখনও পুরোপুরি বাজারে না আসায় দাম কিছুটা কম রয়েছে। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পাইকারদের উপস্থিতি বাড়লে বাজারে মূল্যও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৫ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ৪১৮টি বাণিজ্যিক লিচুবাগান রয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৩১ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া জেলার বসতবাড়ি ও ব্যক্তিগত বাগানে রয়েছে প্রায় সাত লাখ লিচুগাছ।
ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বলছেন, বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে ক্রেতাদের মতে, গত বছরের তুলনায় তুলনামূলক কম দামে উন্নত জাতের লিচু কেনার সুযোগ মিলছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতিবৃষ্টি ও আবহাওয়ার প্রভাবে উৎপাদন কিছুটা কম হতে পারে। তবে ফলের গুণগত মান সন্তোষজনক হওয়ায় বাজারমূল্য ভালো থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের আশা, মৌসুমের শেষ পর্যন্ত চাষিরা লাভজনক দাম পাবেন।
এদিকে লিচুর মৌসুমকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাজার, আড়ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ী, পাইকার ও বাগান মালিকদের নিরাপদে বেচাকেনা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।