সাজেদুল ইসলাম ,ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি:
মায়ের জন্মের ১০ মাস আগে মেয়ের জন্ম! সাধারণ যুক্তিতে বিষয়টি অসম্ভব ও অবিশ্বাস্য মনে হলেও, সরকারি নথিপত্রের ভুলে এমন এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায়।
উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের রুহুলী গ্রামের বাসিন্দা কমলা বেগম এবং তার মেয়ে জুলিয়া বেগমের স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) এই চরম অসঙ্গতি দেখা গেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী মা ও মেয়ের বয়সের
মেয়ের জন্মতারিখ (এনআইডি অনুযায়ী): ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬০
মায়ের জন্মতারিখ (এনআইডি অনুযায়ী): ২০ ডিসেম্বর ১৯৬০
প্রকৃত বয়স (শিক্ষাগত সনদ অনুযায়ী): মেয়ের অষ্টম শ্রেণীর সার্টিফিকেট অনুযায়ী তার জন্ম ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩ (বর্তমান বয়স প্রায় ৩৩ বছর)। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, মায়ের জন্মের প্রায় ১০ মাস আগেই মেয়ের জন্ম হয়েছে! শুধু এনআইডি কার্ডেই নয়, ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধনেও জুলিয়ার বয়স দেখানো হয়েছে ৬৪ বছর। ভোগান্তিতে ভুক্তভোগী পরিবার এই অদ্ভুত ভুলের কারণে নানামুখী নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন জুলিয়া বেগম।
ভুক্তভোগী জুলিয়া বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: ”স্মার্ট আইডি কার্ডের এই বিশাল ভুলের কারণে আমি দীর্ঘদিন ধরে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছি। সংশোধনের জন্য বারবার ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়েছি। কিন্তু কর্মকর্তারা বলছেন এটা নাকি সংশোধন করা সম্ভব নয়। ভুলটা করলেন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা, আর তার খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে।”
মেয়ের আইডি কার্ডের এমন ভুল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মা কমলা বেগমও। তিনি বলেন, “কাগজ-কলমে আমি নাকি আমার নিজের মেয়ের চেয়ে ১০ মাসের ছোট! এই ভুল সংশোধনের জন্য কত জায়গায় ঘুরলাম, কিন্তু কেউ কোনো সমাধান দিচ্ছে না।”
এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার নার্গিস সুলতানা জানান:
”মায়ের চেয়ে মেয়ে ১০ মাসের বড় হওয়াটা অবশ্যই একটি গুরুতর ভুল। আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”