বুধবার, ২০ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

আবাসিক সংকট থেকে লাইব্রেরি সুবিধা বৃদ্ধি, উপাচার্যের কাছে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

আবু তাহের, জাককানইবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নবনিযুক্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। তার যোগদানের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে অষ্টম উপাচার্য। তার নিয়োগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা। নবনিযুক্ত উপাচার্যকে নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং […]

নিউজ ডেস্ক

১৯ মে ২০২৬, ২৩:৫৯

আবু তাহের, জাককানইবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নবনিযুক্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। তার যোগদানের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে অষ্টম উপাচার্য। তার নিয়োগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা।

নবনিযুক্ত উপাচার্যকে নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।

প্রত্যাশার কথা জানিয়ে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার প্রমি বলেন, আমার প্রত্যাশা থাকবে ক্যাম্পাসে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন যেন একক আধিপত্য বিস্তার না করে, সে বিষয়ে উপাচার্য যেন সজাগ দৃষ্টি রাখেন।

সবার ভালো উদ্যোগে যেন সমর্থন করেন। ক্যাম্পাসকে বহিরাগত ও অন্যান্য স্থানীয়দের বিরুপ প্রভাব মুক্ত রাখাতে ও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীবান্ধব(ভয়-ভীতি মুক্ত) পরিবেশ বজায় রাখতে তৎপর থাকবেন। মত ও দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রত্যাশী। এছাড়াও বৃক্ষনিধন বন্ধ করা ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন কাজ এবং অপরিকল্পিত প্রকল্প যাচাই-বাছাই করবেন।

বিশেষ প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বাজেট আসে শিক্ষার্থীদের ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য তার হিসাব, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে সংরক্ষণ করা ও শিক্ষার্থীদের অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া। পরিশেষে প্রত্যাশা থাকবে, ভিসি মহোদয় তাঁর প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার সাথে আমাদের জন্য নিরাপদ ও চির-সুন্দর ক্যাম্পাস গঠনে ভূমিকা রাখবেন।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার জামান খান লেলিন বলেন, আর পাঁচটা সাধারণ শিক্ষার্থীর মতো আমারও খুব সাধারণ একটা চাওয়া আছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্যের কাছে ৷ আমি চাই আমাদের ক্যাম্পাসের শিক্ষা ও গবেষণার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি যেনো পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন যেনো করা হয়।

আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাওয়াটি হলো আমাদের ক্যাম্পাসের প্রাণ-প্রকৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আমরা আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি আমাদের ক্যাম্পাসের পরিকল্পনা বিভাগের অদূরদর্শী ও পরিবেশ বিদ্বেষী পরিকল্পনার বলি হতে হয়েছে আমাদের ক্যাম্পাসের প্রাণ ও প্রকৃতিকে এবং অতীত সকল উপাচার্যের কাছেই আমার এই বিষয়ে দাবি উত্থাপন করেছি এবং এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকরী সমাধান পাইনি।

আমি আশা করি আমাদের নবনিযুক্ত উপাচার্য এই ক্যাম্পাসের প্রাণ ও প্রকৃতিকে নিরাপত্তা দিবেন কেননা যখন আমাদের প্রাণ – প্রকৃতি থাকে হুমকির মুখে তখন আসলে শিক্ষা ও গবেষণার কথা চিন্তা করাও অবান্তর। আশা করি নবনিযুক্ত উপাচার্য মহোদয়ের মঙ্গল হোক এবং তাঁর হাত ধরে আমাদেরও মঙ্গল হোক।

চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী আনিকা নওশিন দ্রুতি বলেন, নতুন উপাচার্যের কাছে আমাদের প্রত্যাশা হলো একটি শিক্ষার্থীবান্ধব, আধুনিক ও মানবিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার মান, গবেষণা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আমরা চাই সেশনজট, আবাসন সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার মতো সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান হোক, যাতে শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর ও স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ পায়। একই সঙ্গে আমরা চাই ক্যাম্পাসের সবুজ পরিবেশ রক্ষা করা হোক।

উন্নয়নের নামে নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলা কখনোই টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় শুধু তার ভবন নয়, তার প্রকৃতি, পুরোনো গাছ এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশও। তাই আমরা বিশ্বাস করি, পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে প্রকৃতি সংরক্ষণ করেও বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও আধুনিক করা সম্ভব।

আমাদের আশা, নতুন উপাচার্য নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন একটি ক্যাম্পাসে পরিণত করবেন, যেখানে শিক্ষা, মানবিকতা ও পরিবেশ সবকিছুর মধ্যে সুন্দর ভারসাম্য থাকবে।

আইন ও বিচার বিভাগ শিক্ষার্থী শোভন সরকার উপাচার্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমরা আশা করি নতুন উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোতে আরও এগিয়ে যাবে। তার নেতৃত্বে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও ফার্মেসির মতো বিভাগ চালু, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক জার্নালে অ্যাক্সেস, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও ক্যাম্পাসজুড়ে ফ্রি ওয়াইফাই নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি নবনির্মিত হল ও টিএসসি দ্রুত চালু এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকবে।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুন ফেরদৌস রোমা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে, বিশেষত নারী শিক্ষার্থী হিসেবে সদ্য যোগদানকৃত উপাচার্যের নিকট নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের অরাজকতা ও বহিরাগতদের উপদ্রোব রোধে তৎপর ভূমিকা প্রত্যাশা করি। এছাড়া আশা রাখছি হল সংকট ও লাইব্রেরি সেবা আধুনিকায়নের বিষয়টিও উপাচার্য মহোদয় সুনজরে নিবেন।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রাহুল বলেন, আমরা প্রত্যাশা রাখি নতুন উপাচার্য একজন সত্যিকারের শিক্ষার্থীবান্ধব উপাচার্য হবেন, যিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও সমস্যাকে গুরুত্ব দেবেন। যার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও এগিয়ে যাবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। […]

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১:১৪

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, তারা পূর্বে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ডিভিএম এবং অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রি বাতিল করে তাদের বি.এস.সি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ১৭৩১৮/২০২৫ মামলার রায়ে পৃথকভাবে ডিভিএম ও বি.এসসি এএইচ (অনার্স) ডিগ্রি বাতিলের সিদ্ধান্তকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হয় এবং স্বতন্ত্র কোর্সসমূহ সমান্তরালভাবে চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। রায়ের আলোকে শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় পূর্বের ডিভিএম ডিগ্রি দাবি জানায়।

এ বিষয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সৈকত হাসান বলেন, “আমাদের যখন কম্বাইন্ড ডিগ্রির আওতায় আনা হয়েছিল, তখন জানানো হয়েছিল যে সারা দেশে একক কম্বাইন্ড ডিগ্রি বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি বাস্তবায়ন করা হবে।

কিন্তু বাস্তবে তা আর কার্যকর হয়নি। এখন হাইকোর্টের রায় আমাদের পূর্বের ডিগ্রি ডিভিএম-এ ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে। যেহেতু ডিভিএম একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রি, তাই আমরা আমাদের মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন অনুযায়ী ডিভিএম ডিগ্রি পুনঃবাস্তবায়ন চাই।”

এ সময় অপর আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “ডিভিএম ডিসিপ্লিনে প্রত্যাবর্তনের পেছনে একাডেমিক ও পেশাগত কয়েকটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে ডিগ্রির স্বীকৃতি, পেশাগত নিবন্ধন ও উচ্চশিক্ষায় সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানো ,ক্রেডিট সমন্বয় বা প্রশাসনিক রূপান্তরজনিত কারণে সেশন জট কিংবা একাডেমিক বিভ্রান্তি দূর করা, মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন ও একাডেমিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখা এবং পেশাগত পরিচয় ও কর্মজীবনের পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা।”

শিক্ষার্থীরা তাদের আবেদনকে আইনসম্মত ও একাডেমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও প্রশাসনিক সমাধান প্রত্যাশা করেছেন। আদালতের রায় যথাযথ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাদের ডিভিএম ডিসিপ্লিনে পুনঃঅন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সদয় বিবেচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।