আবু তাহের, জাককানইবি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নবনিযুক্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। তার যোগদানের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে অষ্টম উপাচার্য। তার নিয়োগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা।
নবনিযুক্ত উপাচার্যকে নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।
প্রত্যাশার কথা জানিয়ে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার প্রমি বলেন, আমার প্রত্যাশা থাকবে ক্যাম্পাসে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন যেন একক আধিপত্য বিস্তার না করে, সে বিষয়ে উপাচার্য যেন সজাগ দৃষ্টি রাখেন।
সবার ভালো উদ্যোগে যেন সমর্থন করেন। ক্যাম্পাসকে বহিরাগত ও অন্যান্য স্থানীয়দের বিরুপ প্রভাব মুক্ত রাখাতে ও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীবান্ধব(ভয়-ভীতি মুক্ত) পরিবেশ বজায় রাখতে তৎপর থাকবেন। মত ও দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রত্যাশী। এছাড়াও বৃক্ষনিধন বন্ধ করা ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন কাজ এবং অপরিকল্পিত প্রকল্প যাচাই-বাছাই করবেন।
বিশেষ প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বাজেট আসে শিক্ষার্থীদের ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য তার হিসাব, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে সংরক্ষণ করা ও শিক্ষার্থীদের অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া। পরিশেষে প্রত্যাশা থাকবে, ভিসি মহোদয় তাঁর প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার সাথে আমাদের জন্য নিরাপদ ও চির-সুন্দর ক্যাম্পাস গঠনে ভূমিকা রাখবেন।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার জামান খান লেলিন বলেন, আর পাঁচটা সাধারণ শিক্ষার্থীর মতো আমারও খুব সাধারণ একটা চাওয়া আছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্যের কাছে ৷ আমি চাই আমাদের ক্যাম্পাসের শিক্ষা ও গবেষণার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি যেনো পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন যেনো করা হয়।
আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাওয়াটি হলো আমাদের ক্যাম্পাসের প্রাণ-প্রকৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আমরা আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি আমাদের ক্যাম্পাসের পরিকল্পনা বিভাগের অদূরদর্শী ও পরিবেশ বিদ্বেষী পরিকল্পনার বলি হতে হয়েছে আমাদের ক্যাম্পাসের প্রাণ ও প্রকৃতিকে এবং অতীত সকল উপাচার্যের কাছেই আমার এই বিষয়ে দাবি উত্থাপন করেছি এবং এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকরী সমাধান পাইনি।
আমি আশা করি আমাদের নবনিযুক্ত উপাচার্য এই ক্যাম্পাসের প্রাণ ও প্রকৃতিকে নিরাপত্তা দিবেন কেননা যখন আমাদের প্রাণ – প্রকৃতি থাকে হুমকির মুখে তখন আসলে শিক্ষা ও গবেষণার কথা চিন্তা করাও অবান্তর। আশা করি নবনিযুক্ত উপাচার্য মহোদয়ের মঙ্গল হোক এবং তাঁর হাত ধরে আমাদেরও মঙ্গল হোক।
চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী আনিকা নওশিন দ্রুতি বলেন, নতুন উপাচার্যের কাছে আমাদের প্রত্যাশা হলো একটি শিক্ষার্থীবান্ধব, আধুনিক ও মানবিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার মান, গবেষণা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আমরা চাই সেশনজট, আবাসন সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার মতো সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান হোক, যাতে শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর ও স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ পায়। একই সঙ্গে আমরা চাই ক্যাম্পাসের সবুজ পরিবেশ রক্ষা করা হোক।
উন্নয়নের নামে নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলা কখনোই টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় শুধু তার ভবন নয়, তার প্রকৃতি, পুরোনো গাছ এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশও। তাই আমরা বিশ্বাস করি, পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে প্রকৃতি সংরক্ষণ করেও বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও আধুনিক করা সম্ভব।
আমাদের আশা, নতুন উপাচার্য নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন একটি ক্যাম্পাসে পরিণত করবেন, যেখানে শিক্ষা, মানবিকতা ও পরিবেশ সবকিছুর মধ্যে সুন্দর ভারসাম্য থাকবে।
আইন ও বিচার বিভাগ শিক্ষার্থী শোভন সরকার উপাচার্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমরা আশা করি নতুন উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোতে আরও এগিয়ে যাবে। তার নেতৃত্বে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও ফার্মেসির মতো বিভাগ চালু, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক জার্নালে অ্যাক্সেস, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও ক্যাম্পাসজুড়ে ফ্রি ওয়াইফাই নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি নবনির্মিত হল ও টিএসসি দ্রুত চালু এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকবে।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুন ফেরদৌস রোমা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে, বিশেষত নারী শিক্ষার্থী হিসেবে সদ্য যোগদানকৃত উপাচার্যের নিকট নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের অরাজকতা ও বহিরাগতদের উপদ্রোব রোধে তৎপর ভূমিকা প্রত্যাশা করি। এছাড়া আশা রাখছি হল সংকট ও লাইব্রেরি সেবা আধুনিকায়নের বিষয়টিও উপাচার্য মহোদয় সুনজরে নিবেন।
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রাহুল বলেন, আমরা প্রত্যাশা রাখি নতুন উপাচার্য একজন সত্যিকারের শিক্ষার্থীবান্ধব উপাচার্য হবেন, যিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও সমস্যাকে গুরুত্ব দেবেন। যার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও এগিয়ে যাবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।