পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার উত্তর কনকদিয়া গ্রামের আবুল কামাল (৪০) জীবিকার তাগিদে প্রায় ৩০ বছর ধরে ফতুল্লা এলাকায় বসবাস করতেন। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ছোট্ট সুখের সংসার ছিল তার। কিন্তু গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মুহূর্তেই নিভে গেল সেই পরিবারের পাঁচটি প্রাণ।
গত রোববার ভোরে ফতুল্লার ভাড়া বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় আবুল কামাল, তার স্ত্রী সায়মা (৩২), ছেলে মুন্না (৮) এবং দুই মেয়ে মুন্নি (১০) ও কথা (৭) গুরুতর দগ্ধ হন। পরে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে সবার মৃত্যু হয়।
সোমবার আবুল কামালকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। বাকি চারজনের মরদেহ বাড়িতে আনার প্রস্তুতি চলছে। আগামীকাল সকালে জানাজা শেষে কামালের কবরের পাশেই তাদের দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় উত্তর কনকদিয়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারি আর প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবুল কামাল ফতুল্লায় সবজির ব্যবসা করতেন। কয়েকদিন আগে তাদের বাসার গ্যাস লাইনে লিকেজ দেখা দিলেও বাড়ির মালিক ও দারোয়ানকে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে ছিল।
রোববার ভোরে তরকারি গরম করার জন্য লাইটার দিয়ে চুলা জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পরিবারের পাঁচ সদস্যই গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হন।
নিহত কামালের মেঝ ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, আবুল কামালের শরীরের ৯৫ শতাংশ, স্ত্রী সায়মার ৬০ শতাংশ, মেয়ে মুন্নির ৩৫ শতাংশ, কথার ৫২ শতাংশ এবং ছেলে মুন্নার ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
কামালের ভাইয়ের মেয়ে মেঘলা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“চাচা অনেক কষ্ট করে বাড়িতে একটি পাকা ঘর তুলেছিলেন। ছাদের কাজ এখনও বাকি ছিল। কোরবানির ঈদে এসে কাজ শেষ করে গ্রামে থাকার কথা ছিল। ঠিকই ফিরেছেন, তবে লাশ হয়ে। তার স্ত্রী-সন্তানেরাও ফিরছে লাশ হয়ে।”
স্থানীয় বাসিন্দা টিপু মুন্সী বলেন, “একই পরিবারের পাঁচজন মানুষ একসঙ্গে মারা যাওয়ার এই ঘটনা মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। পুরো পরিবারটাই শেষ হয়ে গেল।”
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাফন-কাফনে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”