মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

বানিজ্য

১ শতাংশ চালও ভারত থেকে আমদানি করেননি ব্যবসায়ীরা

ভারত থেকে ৩ লাখ ৯২ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করতে ৯২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছিল সরকার। তবে গত ১৭ নভেম্বর থেকে এ চাল আমদানির শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আমদানি করা হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৩২০ মেট্রিক টন চাল। অর্থাৎ ২৫ দিনে সরকারি অনুমোদনের মাত্র শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘ আড়াই বছর […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ২১:৩২

ভারত থেকে ৩ লাখ ৯২ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করতে ৯২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছিল সরকার। তবে গত ১৭ নভেম্বর থেকে এ চাল আমদানির শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আমদানি করা হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৩২০ মেট্রিক টন চাল। অর্থাৎ ২৫ দিনে সরকারি অনুমোদনের মাত্র শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

দীর্ঘ আড়াই বছর পর ব্যবসায়ীরা চাল আমদানির অনুমতি পেলেও ভারতে দামের ঊর্ধ্বগতি আর স্বল্প সময়ের কারণে এবার বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের আগ্রহ ছিল কম। এতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাল আসেনি দেশে।

ভারত থেকে চাল আমদানির শেষ দিন ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত গত ২৫ দিনে বেনাপোল স্থলবন্দরে মাত্র তিন হাজার ৩২০ টন চাল আমদানি হয়েছে।

এর আগে সরকার দেশের ৯২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন শর্ত দিয়ে তিন লাখ ৯২ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি দেয়। ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল চাল আমদানি।

বেনাপোল চেকপোস্ট কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা জানান, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মাহবুবুল আলম ফুড প্রোডাক্ট, অর্ক ট্রেডিং এবং সর্দার এন্টারপ্রাইজসহ আটটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসব চাল আমদানি করেছে।

তিনি আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা পর্যন্ত সময়ে সবশেষ তিনটি ট্রাকে করে ১০৫ টন চাল আমদানি হয়েছে। এ নিয়ে ১৭ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর রাত ১০টা পর্যন্ত সময়ে ৯৭ ট্রাকে ৩ হাজার ৩২০ টন চাল আমদানি হয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাথ জানান, ২০২৩ সালের ২০ জুলাই থেকে দেশের বাইরে সিদ্ধ ও আতপ চাল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার। তার আগে ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ ছিল। সেই সময় চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে চালের ওপর ৬২ শতাংশ শুল্ককর আরোপ করা হয়। এরপর থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আর চাল আমদানি হয়নি।

সরকার চালের শুল্ককর প্রত্যাহার করে নেয়ায় গত ১৭ নভেম্বর থেকে আবার চাল আমদানি শুরু হয়। অর্থাৎ গত ১৭ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর রাত ১০টা পর্যন্ত সময়ে তিন হাজার ৩২০ টন চাল ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে।

এছাড়া অনান্য বন্দর দিয়েও কম-বেশি আমদানি হয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

যে সময় চাল আমদানির অনুমতি মিলেছে তখন দেশীয় বাজারে সরবরাহ অনেকটা স্বাভাবিক ছিল। এছাড়া ভারতের বাজারেও চালের দাম চড়া থাকায় লাভ নিয়ে শঙ্কা বাড়ায় অনেকেই আর আমদানি করেনি।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে বেসরকারিভাবে চাল আমদানির অনুমতি দেয়া হয় ৯২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে।

দুই লাখ ৭৩ হাজার টন সিদ্ধ চাল এবং এক লাখ ১৯ হাজার টন আতপ চাল আমদানির অনুমতি দেয়া হয়। সরকার মাত্র ২৫ দিন সময় নির্ধারণ করে দেয়ায় অনেক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এই স্বল্প সময়ের মধ্যে চাল আমদানি করতে পারেনি।

বানিজ্য

বাজারের ব্যাগ ভরতে বাড়তি খরচ, ডিমের হালি ৫৫ টাকা

রাজধানীর বাজারে ডিম, সবজি ও বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। ফার্মের ডিমের ডজন ১৬৫ টাকা এবং অধিকাংশ সবজি কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিউজ ডেস্ক

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৪০

রাজধানীর বাজারে একই সঙ্গে বেড়েছে ডিম, সবজি ও সয়াবিন তেলের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা যোগ হয়েছে। ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে হালিপ্রতি ৫৫ টাকায়। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও লিটারে ৫ টাকা বেড়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের খুচরা দামে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়।

আমিষের সাশ্রয়ী উৎস হিসেবে পরিচিত ফার্মের ডিমের দাম এখন প্রতি ডজন ১৬৫ টাকা। চারটি ডিম কিনতে খরচ হচ্ছে ৫৫ টাকা। বিক্রেতাদের ভাষ্য, ডজন হিসেবে কিনলেও এখন আর আগের মতো দাম কম রাখার সুযোগ নেই।

তেল-সবজিতেও বাড়তি চাপ

নতুন দাম নির্ধারণের পরও খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। গত সপ্তাহের তুলনায় লিটারে ৫ টাকা বেড়ে তেল বিক্রি হচ্ছে ২০৪ টাকায়।

সবজির মধ্যে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলের দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে রয়েছে। আগাম শিম কিনতে সবচেয়ে বেশি খরচ করতে হচ্ছে। প্রতি কেজির দাম উঠেছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়।

সাধারণ শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া গেলেও দেশি শসার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। লম্বা বেগুন ১০০ টাকা ও গোল বেগুন ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর দাম ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। বরবটি, ঝিঙে, করলা ও কচুরমুখির কেজি ৮০ টাকা। আকারভেদে প্রতিটি লাউয়ের দাম রাখা হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা।

এক সপ্তাহ আগে কাঁচা মরিচের কেজি ছিল ১২০ টাকা। এখন একই পরিমাণ মরিচ কিনতে দিতে হচ্ছে ১৬০ টাকা। তবে পেঁপের দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা থাকায় এই সবজিতে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন ক্রেতারা।

বাজার করতে আসা ইব্রাহিম জানান, প্রায় প্রতিটি সবজির দাম অন্তত ১০ টাকা করে বেড়েছে। ৮০ টাকার নিচে খুব কম সবজি পাওয়া যাচ্ছে। টমেটো ও বেগুনের মতো নিয়মিত কেনা পণ্যের কেজিও ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে।

শাকের দামে তুলনামূলক স্বস্তি

অন্যান্য সবজির তুলনায় শাকের দাম কম রয়েছে। লাল ও কলমি শাক প্রতি আঁটি ২০ টাকা, কচু শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং ডাঁটা শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি আঁটি পুঁইশাকের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং লাউ শাকের দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা।

মাংস স্থির, মাছের বাজার চড়া

মুরগি ও গরুর মাংসের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং গরুর মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছ কিনতেও ক্রেতাদের বড় অঙ্কের টাকা গুনতে হচ্ছে। তেলাপিয়ার কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা। রুই-কাতলা পাওয়া যাচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকায়। বড় রুইয়ের দাম ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা হলেও মাঝারি রুই বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়।

চিংড়ির কেজি আকারভেদে এক হাজার থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ট্যাংরা ও শোল ৭০০ টাকা এবং ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কইয়ের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।

চাষের কই প্রায় ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং চাষের শিং আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। রূপচাঁদা ও নদীর বেলে মাছসহ কয়েক ধরনের মাছের দাম কেজিপ্রতি এক হাজার টাকা ছাড়িয়েছে।

মাঝারি রুইয়ের কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। দেশি ও বেশি চাহিদাসম্পন্ন মাছের দাম তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে নদীর বেলে মাছ কিনতে এক হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে।

বানিজ্য

চুপ্পুর বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ঋণের নামে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও এস আলমসহ মোট ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। সোমবার দুপুরে দুদকের কার্যালয়ে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট […]

চুপ্পুর বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১০ আগস্ট ২০২৬, ১৬:১৮

ঋণের নামে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও এস আলমসহ মোট ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।

সোমবার দুপুরে দুদকের কার্যালয়ে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামের একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে ১০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। পরবর্তীতে সেই অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।

অ্যাননটেক্স গ্রুপের ইউনুস বাদলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের অনুকূলে অবৈধভাবে ঋণ বরাদ্দ পাইয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন ব্যবসায়ী এস আলম।

আর তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন, ব্যাংকের সাবেক তিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলা, আব্দুল হামিদ মিয়া ও মাহবুব উল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই অনৈতিক কাজের অনুমোদন দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ৪টি অডিট ফার্মের মাধ্যমে ঘটনার তদন্ত করে এসব অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে বলেও দুদকে পাঠানো অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।