মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

টার্গেট নির্বাচন! আওয়ামীলীগ হয়ে উঠেছে কথিত সাংবাদিক, টাকা দিয়ে চলছে পূর্ণবাসন

একটি রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম সম্মানজনক পেশা হচ্ছে সাংবাদিকতা। তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে,সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ করা গেছে,নাটোরের নলডাঙ্গায় ইদানিং সাংবাদিক হওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সেখানে কার্যকম নিষিন্ধ আওয়ামীলীগ এছারা মেকার,সেলর্সম্যান,দোকানদার,হয়ে উঠেছে,কথিত সাংবাদিক! এমন কি একটি অফিস থেকে তাদের নিয়মিত অর্থ প্রদানও করা হচ্ছে।

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০০:০২

মনিরুল ইসলাম তালুকদার, নাটোর

একটি রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম সম্মানজনক পেশা হচ্ছে সাংবাদিকতা। তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে,সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ করা গেছে,নাটোরের নলডাঙ্গায় ইদানিং সাংবাদিক হওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সেখানে কার্যকম নিষিন্ধ আওয়ামীলীগ এছারা মেকার,সেলর্সম্যান,দোকানদার,হয়ে উঠেছে,কথিত সাংবাদিক! এমন কি একটি অফিস থেকে তাদের নিয়মিত অর্থ প্রদানও করা হচ্ছে।

অশিক্ষিত,সার্টিফিকেট বিহীন,ভূয়া তথ্য অফিসে কতিপয় কিছু নামধারি সাংবাদিক আইডি কার্ড এনে কোমরে ঝুলিয়ে,গাড়ীর সামনে প্রেস লিখে উপজেলায় ঘুরঘুর করছে। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এদেরকে দেখা যায়। নামধারী এসব সাংবাদিকদের মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন অর্পকমের সাথে জড়িত বলে জানা যায়।

তাছারা রাজনৈতিক দলের নেতারা তাদের ফাঁদে পা দিয়ে হচ্ছে বিতকৃত। আওয়ামীলীগের একটি চক্র তাদের,রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রেখে,প্রসাশন সাথেও করেছে মিটিং। তাদের নিয়মিত দেখা যাচ্ছে,বিভিন্ন সংস্থার কর্মশালায়।

আবার অনেকে নিজের মিডিয়াই খবর প্রকাশ না করে প্রতিদিনের একাধিক ঘটনা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছে। এসব স্ট্যাটাস কিছু কিছু ফেসবুক বন্ধু লাইক কমেন্ট করে বিরুপ মন্তব্য করে কথিত সাংবাদিকদেরকে উৎসাহ দিচ্ছে। এরা কারো কারো সাথে বা সন্মানী ব্যক্তিদের সাথে সেলফি বা ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়ে নিজেদেরকে বড় সাংবাদিক প্রচার করে। কিন্তু সেসব রাজনৈতিক নেতারা জানেনই না,তারা গোপনে একটি দলের এজেন্ট হিসাবে কাজ করছে।

গণহারে বেড়ে যাওয়া লেবাসধারী এসব লোকেরা রাস্তায় বাহির হলেই বীরদর্পে অকপটে পরিচয় দেয় আমিও সাংবাদিক। যার ফলে সাধারন মানুষ সংবাদকর্মীদের এখন উপহাস করে অকপটে বলে ফেলেন ঐ যে সাংঘাতিক। তাছাড়া এসব কথিত সাংবাদিকদের ফাঁদে পড়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এমন কি তারা প্রসাশনের দাপট দেখিও চলছে।

বিভিন্ন গ্রামে মাদক,নারী ঘটিত বিষয়সহ ইত্যাদি ঘটনায় বিশেষ সুবিধা নিতে সাংবাদিকতায় আগ্রহী হয়ে উঠেছে এক শ্রেণির ব্যাক্তিরা। তারা মনে করেন,সাংবাদিক হলেই প্রশাসনে ও পুলিশ বিভাগে বিশেষ সুবিধা নেওয়া যায়। যার ফলে এ পেশায় আগ্রহী হয়ে উঠেছে তারা। সম্প্রতি সময়ে পুলিশ প্রসাশনকে ভুয়া পরিচয় দিয়ে,মিটিং করেছে,কার্যকম নিষিন্ধ আওয়ামীলীগের একটি চক্র।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মোটরসাইকেলে প্রেস লিখে সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন বেশ কিছু কার্ডধারী সাংবাদিক। অনেকে দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা,নিউজ পোটাল আইডি কার্ড সংগ্রহ করে সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছেন। আসলে তারা কি সাংবাদিক না সাংঘাতিক!অনেক মহলের প্রশ্ন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়,নিজেদের অনেক অর্পকম আড়াল করতে অনেকে হয়েছেন কার্ডধারী সাংবাদিক। তাদেরকে নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে,বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন। এদিকে সাংবাদিক পরিচয় বহনকারী কার্ডধারী সাংবাদিকরা স্থানীয় গন্যমান্য কয়েকজন ব্যক্তির সাথে সখ্য গড়ে তুলেছে । এ ব্যাপারে বিভিন্ন মহল এসব কার্ডধারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে সরকার বিরোধী একটি চক্র,বিভিন্ন পরিচয়ে নির্বাচনী মাঠে সরকার নিষিন্ধ রাজনৈতিক দলসহ শক্তিশালী মহলকে মাঠে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের অন্যতম সদস্য ও রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিচালক,সাবেক নলডাঙ্গা উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান বলেন,সাংবা‌দিকতা মহান পেশা। এই পেশাটা‌কে যত্রতত্র পাত্রস্ত ক‌রে নষ্টামীর পর্যা‌য়ে নি‌য়ে যাওয়া হ‌চ্ছে‌। সমা‌জের কিছু মানুষও এর দায় এড়া‌তে পা‌রে না। মূলধারার সাংবাদিক ও প্রশাসনের ঐক্যমত থাকা জরুরী। যে হারে নাটোরের নলডাঙ্গায় কার্ডধারীদের দৌরাত্ম বাড়ছে তাতে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সাইকেলে বা গাড়ীতে “PRESS” লেখা নিষেধ আরও কয়েক বছর আগে থেকেই। শুধু মিডিয়ার নাম লিখতে পারবেন। মূল ধারার সাংবা‌দিকরা মোটরসাই‌কে‌লের সাম‌নে(প্রেস) লিখে না। কোম‌রে কার্ড ঝু‌লি‌য়ে প্রশাস‌নের সাম‌নে ভাব ধ‌রে না। সাধারণ মানুষ‌কে নি‌জের প‌রিচয় উচ্চক‌ণ্ঠে সাংবা‌দিক উ‌ল্লেখ ক‌রে না।

মূলধারার সাংবা‌দিক‌দের লেখনী ও কাজেই প্রমান ক‌রে তার প‌রিচয় কি। নামসর্বস্ব ভুঁই‌ফোঁড় গণমাধ্যম এর প‌রিচয় দি‌য়ে টাকার বি‌নিম‌য়ে প্রেসকার্ড অর্জন ক‌রে অনেকে বিপথগামী হ‌য়ে যা‌চ্ছে। এরা বু‌ঝে না বু‌ঝে নি‌জেদের অ‌তির‌ঞ্জিত উপস্থাপনা কর‌তে গি‌য়ে গণমাধ্যম‌কে বিত‌র্কিত ক‌রে দি‌চ্ছে।

দৈনিক সকাল পত্রিকার নাটোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম ডাবলু বলেন,যারা সাংবাদিকতায় আছেন তাদের অনেকেই কোন কোন সময় একটা কার্ড এনে দেওয়ার জন্য কাছের মানুষের রিকুয়েস্ট পান। কিন্তু সাংবাদিকতা যে কার্ডে নয় বাই নেইমের নিউজে পরিচয় তা বুঝানোও মুসকিল। মূল ধারার সাংবা‌দিক‌দের দেখ‌লে প্রশাসন ঠিকই আন্দাজ কর‌তে পা‌রে। সাংবা‌দিকরাও যু‌ক্তিসঙ্গত বিষয়া‌দি নি‌য়ে প্রশাস‌নে কর্মরত ব্য‌ক্তি‌দের সা‌থে আলাপ ক‌রেন। কিন্তু,ইদানিং নলডাঙ্গায় সাংবাদিক হওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

এশিয়ান টিভি ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার নলডাঙ্গা প্রতিনিধি বলেন,গুরুত্বপূর্ণ কোন ক্ষেত্রে তাদের কোন ভূমিকা না থাকলেও বিভিন্ন প্রোগামে কার্ডধারীদের উপস্থিতি ব্যাপক,এক কথায় তারা কর্পোরেট সাংবাদিকতায় মূখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। এই কার্ডধারীরা কোন জনদূর্ভোগ বা এলাকার সমস্যা নিয়ে তারা কোন সংবাদ প্রকাশ করেনা। তাদের কাছে নেই কোন তথ্য নেই কোন উপাত্ত। তবুও তারা সাংবাদিক। অনেকে দেওয়ালে নিজেকে মেকার সাংবাদিক দিয়ে প্রচারনা করে।

এনটিভি অনলাইন ও দৈনিক দিনকাল পত্রিকার নলডাঙ্গা প্রতিনিধি রানা আহম্মেদ বলেন,যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক চালানোর সঠিক নিয়ম জানে না,তারা যদি জাতির বিবেক সেজে নাম সর্বস্থ রেজিঃষ্টেশন বিহীন অনলাইন পত্রিকার কার্ড নিয়ে সমাজের কোন উপকারে আসবে সেটা ভাবনার বিষয়! সাংবাদিকতার মত মহৎ এ পেশাকে পুঁজি করে যারা ব্যাক্তিগত সুবিধা আদায় করছে,তাদের তালিকা তৈরি করে আইনের আওতায় আনা দরকার। সাংবাদিকতা করতে হলে অবশ্যই নিয়ম কানুন মেনে করুন।

বৈশাখী টিভির নাটোর প্রতিনিধি মোঃ ইসাহক আলী বলেন,অননুমোদিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল,আইপি টিভি গুলো অনভিজ্ঞ ধান্দাবাজ প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে,তাতে অবিলম্বে গণমাধ্যমগুলোর উপরে আস্থা হারাবে জনগণ। এখনই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ জরুরী প্রয়োজন।

এখন টিভির নাটোরের রিপোর্টার মাহবুব হোসেন বলেন,নাম সর্বস্ব অনলাইন পত্রিকার কারনে সাংবাদিক নামধারিদের দৌরাত্ব বেড়েছে। এতে করে প্রকৃত সাংবাদিকরা কোনঠাসা হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ কার্ডধারি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অপর্কম করছে। অসাংবাদিকদের কারনে মহান পেশা কুলষিত হচ্ছে। এদের লাগাম এখনই টেনে ধরতে হবে।

নাটোর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তর এর নাটোর প্রতিনিধি শহীদুল হক সরকার বলেন,সাংবাদিকতার মতো মহান পেশায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা খুবই জরুরী। অনেকেই এসবের ধার ধারেন না। কেউ কেউ আবার দুটি বাক্য লিখলে তার মধ্যে পাঁচটি ভাষাগত ভুল করেন,তাঁরাও এখন বড় মাপের সাংবাদিক! সাংবাদিকতা পেশার যে কতগুলো “Code of ethics” রয়েছে সে বিষয়ে সকলের সচেতন হওয়া উচিত। বেশির ভাগ সাংবাদিকই আবার বিভিন্ন ব্যক্তির অনুসারী হিসেবে পরিচিত হয়ে গর্ব অনুভব করছেন। সাংবাদিকতা পেশার প্রতি মানুষের যে সম্মানবোধ ছিলো সেটা পূনঃরুদ্ধার করতে প্রকৃত সাংবাদিকদের সচেতনতার সাথে ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার।

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা মো.আল এমরান খাঁন বলেন,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্নয় করে,প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।