মতের ভিন্নতা বা বিরোধের অজুহাতে কোনো সংবাদমাধ্যম বা প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়ার মানসিকতাকে হঠকারিতা ও নিছক ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। রোববার (২১ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী লেখেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার নামে কোনো সংবাদমাধ্যম ধ্বংসের অপচেষ্টা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি বলেন, শুধুমাত্র মতের অমিল বা বিরোধের কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু বানানো চরম অসহিষ্ণুতা ও বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ।
সাবেক এই সাংবাদিক আরও উল্লেখ করেন, দেশে ও বিদেশে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মুক্তমতের পক্ষে অবস্থান নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। জাতিসংঘ ও হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে ধারাবাহিকভাবে কথা বলেছেন বলেও তিনি তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত মুশফিক বলেন, তিনি কখনোই এমন কোনো উদ্দেশ্যে নিজেকে উজাড় করেননি, যেখানে সংবাদমাধ্যম বা কোনো প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়। বরং মতের ভিন্নতা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য—এ কথা আন্তর্জাতিক পরিসরেও বারবার তুলে ধরেছেন বলে জানান তিনি।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি আরও লেখেন, সংবাদমাধ্যমের কোনো প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়ার অপতৎপরতাকে ন্যায্যতা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণতন্ত্র, মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার মন্তব্যকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে একটি শক্ত অবস্থান হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে এই বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।