বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

খুনিয়াপালংয়ে বিএনপি সভাপতির সহযোগিতায় ‎শতবর্ষী কবরস্থান দখলের পাঁয়তারা ‎সাজানো মামলায় প্রতিবাদী গ্রামবাসীকে এলাকা ছাড়ার অভিযোগ

‎কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং এলাকায় শত বছরের একটি কবরস্থান দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে একটি চিহ্নিত দখলবাজ চক্র—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। কবরস্থান দখল পাকাপোক্ত করতে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তারা। ওই মামলায় সত্তরোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ কারাগারে পাঠালেও পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র […]

খুনিয়াপালংয়ে বিএনপি সভাপতির সহযোগিতায় ‎শতবর্ষী কবরস্থান দখলের পাঁয়তারা ‎সাজানো মামলায় প্রতিবাদী গ্রামবাসীকে এলাকা ছাড়ার অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯:৩৯

‎কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং এলাকায় শত বছরের একটি কবরস্থান দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে একটি চিহ্নিত দখলবাজ চক্র—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। কবরস্থান দখল পাকাপোক্ত করতে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তারা।

ওই মামলায় সত্তরোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ কারাগারে পাঠালেও পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্ব ধেছুয়াপালং আল হাসান মসজিদের সংলগ্ন একটি বিশাল ও প্রাচীন কবরস্থান দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী ব্যবহার করে আসছে। সম্প্রতি ওই কবরস্থানের ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে খুনিয়াপালং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এস এম ফরিদ, তার ভাই এস এম জসিম ও জয়নাল আবেদীনসহ একটি গোষ্ঠীর। তারা কবরস্থান দখলের চেষ্টা চালালে স্থানীয়রা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।

‎কিন্তু কবরস্থান দখলের প্রতিবাদ করায় সত্তরোর্ধ্ব এজাহার মিয়াসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২০–৩০ জনকে আসামি করে জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, প্রতিবাদকারী গ্রামবাসীকে আসামি করে এলাকা ছাড়া করতেই পরিকল্পিতভাবে এই সাজানো মামলা করা হয়েছে। তারা অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

‎সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, কবরস্থান দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, একটি কবরস্থান দখলের ঘটনায় রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততা থাকায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি বিএনপির ঘরানার লোকজনের মধ্যেও এ নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

‎ভুক্তভোগী এজাহার মিয়া জানান, দখলবাজ চক্র ইতিমধ্যে কবরস্থানের একটি অংশ দখল করে সেখানে বসতি স্থাপন করেছে এবং রোহিঙ্গাদের ভাড়া দিয়েছে। বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে জানালে ইউএনও স্থানীয় ভূমি অফিসে প্রতিবেদন চেয়ে পাঠান। পরে ভূমি কর্মকর্তা জমিটিকে কবরস্থান ও জানাজার মাঠ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেন।

‎স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কবরস্থানের জায়গায় তিন থেকে চারটি কাঁচা ঘর রয়েছে, যেখানে রোহিঙ্গারা বসবাস করছে।

‎খুনিয়াপালং ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সলিম উল্লাহ সরেজমিন তদন্ত শেষে প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি কবরস্থান ও জানাজার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

‎‎এব্যাপারে খুনিয়াপালং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এসএম ফরিদ বলেন, ‘যে জমিটি নিয়ে বিরোধ চলছে সেটি আমার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন নয়; বরং এটি আমার চাচাতো ভাইদের দখলে থাকা সম্পত্তি। প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বছর ধরে আমার চাচারা ওই জমি দখল ও ভোগ করে আসছেন।’

‎‎তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে ওখানে জানাযার মাঠ ঠিকই আছে। কবর দেওয়ার জন্য মসজিদের পাশে পর্যাপ্ত জায়গাও রয়েছে। ২০০০ সালে আমার দাদার কবর সেখানে দেওয়া হয়। এবং সেখানেই সবার কবর দেওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু তা অমান্য করে প্রতিপক্ষ গায়ের জোরে বিচারাধীন জমিতে প্রবেশ করে অযথা ঝামেলা সৃষ্টি করছে। ২০২১ সালে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে এসে দখলীয় জমির সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। অথচ ২০২৫ সালে এসে তারা আবারও ওই জমি নিজেদের দাবি করে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা শুরু করেছে।’

‎এসএম ফরিদ অভিযোগ করে বলেন, ‘অন্যের দখলীয় জমিতে এসে বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পায়তারা করা হচ্ছে। ভাঙচুরের ঘটনার সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতেই অভিযুক্তরা নিজেরাই চিহ্নিত হয়ে মামলার আসামি হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে এসেছে।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের পর এ বিষয়ে একটি বৈঠক বসার কথা থাকলেও প্রতিপক্ষ তা মানছে না। বরং প্রতিনিয়ত হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে থানা পুলিশ শিগগিরই এ বিষয়ে একটি বৈঠক বসবে বলে উভয় পক্ষকে আশ্বস্ত করেছে।’

‎অন্যদিকে এলাকাবাসী কবরস্থান উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।