বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার সন্তান ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিনের অবিরাম নির্যাতন, জেল-জুলুম এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফলে আজ দেশনেত্রীর জীবন চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় পৌঁছেছে। তিনি আল্লাহর কাছে তার মায়ের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং এই পরিস্থিতিকে ‘দুঃশাসনের নির্মম পরিণতি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তারেক রহমান বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময় ‘গণতন্ত্রের মা’ খালেদা জিয়ার ওপর পরিকল্পিতভাবে নেমে এসেছিল নিপীড়ন ও অত্যাচারের ভয়াবহতা। একইসঙ্গে দেশের লাখ লাখ জাতীয়তাবাদী নেতাকর্মীকে নিপীড়নের চক্রে ফেলা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি—পুরো দেশকেই একসময় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল, যার প্রভাব এখনো বহন করছে গণতান্ত্রিক কাঠামো।
ঐতিহাসিক ৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে দেওয়া পোস্টে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসও স্মরণ করেন। তারেক রহমান বলেন, ১৯৯০ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে পরাজিত হয়েছিল এরশাদের স্বৈরতন্ত্র। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, সেই শেকড় ধ্বংস করেছিল এরশাদের শাসন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নয় বছরের নিরন্তর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছিল।
তারেক রহমান আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আরেক হিংস্র ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটে। তার ভাষায়, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ বরাবরই গণতন্ত্রের ভয়ংকর শত্রু”—এ অভিযোগ নতুন করে তুলেছেন তিনি। গণতন্ত্রের পূর্ণ পুনরুজ্জীবনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
এই স্মরণীয় দিনে তিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আত্মদানকারী সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং গণতন্ত্রের হেফাজতে জনগণকে সবসময় সজাগ থাকার আহ্বান করেন।