মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

পড়ার টেবিলে থাকা শিক্ষার্থীদের হাতে ময়লার বস্তা, পরিবেশ রক্ষায় গ্রীন ভয়েসের অভিযান

ইরফান উল্লাহ, ইবি প্রতিনিধি: বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, গবেষণা, ক্লাস এসবই শিক্ষার্থীদের প্রধান কাজ তবুও ক্যাম্পাসে দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য। কেউ হাতে ময়লার বস্তা, কেউ প্লাস্টিক কুড়োচ্ছে, আর কেউ রাস্তার ধারে পড়ে থাকা পলিথিন তুলে বস্তাবন্দি করছে। পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ থেকে পড়ার টেবিলে থাকা শিক্ষার্থীরা নেমেছে পরিচ্ছন্নতার মাঠে। “যুবরাই লড়বে, সবুজ পৃথিবী গড়বে” প্রতিপাদ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় […]

পড়ার টেবিলে থাকা শিক্ষার্থীদের হাতে ময়লার বস্তা, পরিবেশ রক্ষায় গ্রীন ভয়েসের অভিযান

ছবি সংগ্রহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ নভেম্বর ২০২৫, ২০:০৮

ইরফান উল্লাহ, ইবি প্রতিনিধি:

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, গবেষণা, ক্লাস এসবই শিক্ষার্থীদের প্রধান কাজ তবুও ক্যাম্পাসে দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য। কেউ হাতে ময়লার বস্তা, কেউ প্লাস্টিক কুড়োচ্ছে, আর কেউ রাস্তার ধারে পড়ে থাকা পলিথিন তুলে বস্তাবন্দি করছে। পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ থেকে পড়ার টেবিলে থাকা শিক্ষার্থীরা নেমেছে পরিচ্ছন্নতার মাঠে।

“যুবরাই লড়বে, সবুজ পৃথিবী গড়বে” প্রতিপাদ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে পলিথিন মুক্তকরণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন ভয়েস।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বেলা ১১টায় বটতলা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে অংশ নেন গ্রীন ভয়েস ইবি শাখার উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আব্দুল আল মোহিত, সংগঠনটির সভাপতি ইমতিয়াজ আহাম্মেদ ইমন, সাবেক সভাপতি এস. এম. সুইট, মাজিদুল ইসলাম উজ্জ্বলসহ অর্ধশতাধিক সদস্য।

এদিন অংশগ্রহণকারীরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক, ক্রিকেট মাঠ, শাহ আজিজুর রহমান হল, প্যারাডাইস রোড, জুলাই ৩৬ হল, ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবন এবং টিএসসিসি এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় ময়লা-আবর্জনা, পলিথিন, অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বিস্কুটের প্যাকেটসহ বিভিন্ন বর্জ সংগ্রহ করে বস্তাবন্দি করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হয়। সদস্যরা মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাবস পরিধানসহ পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য বিধি মেনে এ কাজ করেন।

অংশগ্রহণকারী লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রহিমা আক্তার বলেন, “আজকের এই অভিযানটা আমাদের সবার মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে সাহায্য করছে। আমরা সবাই ক্যাম্পাস নোংরা করি। আমরা কোনোকিছু খেয়ে সেখানে খোসা বা খাবারের বাড়তি অংশটা ফেলে দেই।

কিন্তু আমরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সচেতন নই, পরিচ্ছন্নতার কাজটা আমরা কেউই করি না। সেজন্য এই উদ্যোগটা নেওয়া হয়েছে। আমরা সবার মধ্যে এই বার্তাটা পৌঁছে দিতে চাই যেন আমরা নোংরা না করে ক্যাম্পাসকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবো।”

আরেক অংশগ্রহণকারী অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, “আমাদের পরিবেশ যদি সুস্থ না থাকে, আমাদের সুস্থ থাকার সম্ভাবনা অনেক কম। অতএব আমাদের পরিবেশটাকে ভালো রাখতে হবে। এজন্য আমাদের যেসব অপচনশীল দ্রব্য আছে, যেমন পলিথিন, প্লাস্টিকসহ যা আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। এসব থেকে আমাদের পরিবেশকে মুক্ত রাখতে হবে।”

সংগঠনটির সভাপতি ইমতিয়াজ আহাম্মেদ ইমন বলেন, “আসলে ক্যাম্পাস পলিথিনমুক্তকরণ বা পরিচ্ছন্নতা অভিযান এগুলো আমাদের মূল কাজ নয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা আর গবেষণার জন্য এসেছি। আমরা একজন শিক্ষার্থী এবং প্রথম শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দায়িত্ববোধ থেকে এই কাজটা করছি। আমরা প্রতি বছরই একটা নমুনা কাজ হিসেবে এটা করি, তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই কর্মসূচি। আমরা গ্রীন ভয়েস এজন্যই করি যাতে ভবিষ্যতে এই সংগঠন কারো না করতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, এই নমুনা কাজ করে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এই মেসেজটাই দিতে চাই যে, ক্যাম্পাসকে পলিথিনমুক্ত করতে হবে এবং যা পরিচ্ছন্ন আছে, তার চেয়ে আরো বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।

ইতোমধ্যে আমরা প্রক্টর স্যার, ছাত্র উপদেষ্টা এবং মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর স্যারের সাথে একাধিকবার কথা বলেছি। তারা আশাবাদী এবং আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে তারা এই কাজে সহায়তা করবেন।”

সংগঠনটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আব্দুল আল মোহিত বলেন “পরিবেশের সবচেয়ে ক্ষতিকর যেটা, সেটার প্রধান কারণ হলো পলিথিন। যেখানে-সেখানে এই পলিথিন ফেলে দেওয়া হয়। এগুলো মাটির উর্বরতা নষ্ট করে, মাটির যে স্বাভাবিকতা আছে সেটা নষ্ট করে দেয়।

এবং সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই পলিথিন যেখানে-সেখানে ফেলার কারণে আমাদের পুরো ক্যাম্পাসটা আসলে পলিথিনময় হয়ে গেছে। এখন আমাদের উচিত, আমরা যেখানে-সেখানে যেখানেই পলিথিন ফেলবো না।

যেখানে একটা নির্দিষ্ট ডাস্টবিনের ব্যবস্থা আছে, সেখানে পলিথিনটা ফেলবো। সবার মধ্যে এই সচেতনতাটা জাগিয়ে তুলতে হবে, যেন তারা পরিবেশের গুরুত্বটা বুঝতে পারে এবং পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখার জন্য নিজে থেকে কাজ করে।”

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ […]

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:৩৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হামলায় রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব ও শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে একদল ছাত্রদল নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে যান। তাদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় সেখানে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে কয়েকজন সাংবাদিককে হলের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে দ্য ডেইলি স্টার ও আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আহত হন। আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথায় আঘাত লাগে। অন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে তাদের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বলে জানা গেছে। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য ঘিরে রাকিবুল নামের একজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।

আহসান হাবীব অভিযোগ করেন, ওই মন্তব্যে তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করা হয়েছে। অন্যদিকে রাকিবুল দাবি করেন, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছিল। পরে দুজনই ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

এ পরিস্থিতির মধ্যে রোববার বিকেলে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী অবস্থান নেন। তাদের কারও কারও হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। এরপর উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং একপর্যায়ে হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে জানানো হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।