বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে আসা ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তিনি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি সম্মান জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি কয়েক মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মরণ করেন। পরে স্মৃতিসৌধের ভিজিটরস বুকে স্বাক্ষর এবং প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শনিবার সকালেই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় পৌঁছান। তাকে বহনকারী ড্রুকএয়ারের বিশেষ বিমানটি সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এইচএসআইএ) অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। গার্ড অব অনার প্রদর্শন ও জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর মাধ্যমে তাকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়।
বাংলাদেশ–ভুটান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক হিসেবে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের এই সফরে বাণিজ্য, জলবিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, জনশক্তি এবং আঞ্চলিক সংযোগ নিয়ে একাধিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাত ও বাণিজ্য সম্প্রসারণকে এই সফরের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সফরকালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন, কূটনৈতিক সাক্ষাৎ এবং বিশেষ রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশগ্রহণ।
ভুটানের এই সফরকে বাংলাদেশ সরকার দুই দেশের ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছে।