বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

অদম্য নরী উদ্যোক্তা লিজা ; অর্ধশত নারী পেল কর্মসংস্থান

“লিজা বুটিক হাউজ” নামের একটি সেলস সেন্টার যাত্রা শুরু করে। এরপর আফরোজার পন্য দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে আমেরিকা, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে। "লিজা বুটিকস হাউজ" পোশাক তৈরীতে বর্তমানে ৫০জনেরও বেশি নারী যুক্ত রয়েছেন।

নিউজ ডেস্ক

২৭ অক্টোবর ২০২৫, ২৩:৪২

নূরুল আলম কামাল, নেত্রকোনা :

আফরোজা আক্তার লিজা। নেত্রকোনা সদরের প্রত্যন্ত পঁচাশিপাড়া গ্রামে এক রক্ষণশীল পরিবারে জন্ম তাঁর। বিয়ের পর পারিবারিক টানাপোড়েনে স্বামীর সংসারেও টিকতে পারেননি আফরোজা। ভেঙে যায় সংসার নামক স্বর্গ নীড়। এক সন্তানকে নিয়ে স্বামীর সংসার থেকে হন বিতাড়িত। রক্ষণশীল পরিবারে শুরু হয় জীবন যুদ্ধ। এমন পরিস্তিতির পড়তে পড়তে বাঁধা ডিঙ্গিয়ে আজ সফল নারী উদ্যোক্তা আফরোজা। নিজেকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করেছেন, তাঁর হাতেখড়ি অর্ধশত অসচ্ছল নারীও পেয়েছেন আর্থিক সচ্ছলতা।

২০০৩ সালে এসএসসি পাশ করার পর অদম্য ইচ্ছা থাকার পরও পারিবারিক অনীহায় কলেজ জীবনে অধ্যয়ন করার সুযোগ হয়নি। কয়েক বছর বাবার পরিবারের দেখবাল করেন আফরোজা। এরপর ২০০৭ সালে পরিবারিকভাবে বিয়ে হয় তাঁর। শুরু হয় নতুন স্বপ্ন। স্বামীর পাশে থেকে আয় করার শক্তি সঞ্চালক হিসেবে অবদান রাখবেন। এরমধ্যে আফরোজার ঘর আলোকিত সন্তান জন্ম হয়। স্বপ্ন তখন আরও বিস্তৃত হতে শুরু করে। কিন্তু সেই স্বপ্ন বিষাদে পরিণত হয়। নেমে আসে তাঁর উপর স্বামীর অবহেলা ও পারিবারিক অবজ্ঞা। চেয়েছিলেন স্বামীর অবহেলা ও পারিবারিক নির্যাতনের বাঁধা পেরিয়ে সুখের সংসার গড়ে তোলার। লড়াইটা ৮ বছর করার পর পরাজিত হন আফরোজা। সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি ফিরে নেমে পড়েন জীবনের অসম যুদ্ধে। পঁচাশীপাড়া গ্রামের বাড়ি থেকে নেত্রকোনা শহরের মালনী পাটপট্রি এলাকার বাবার বাসায় উঠেন। শৈশবের রপ্ত থাকা সুঁই-সুতাকেই হাতে তুলে নেন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে বাটিক, বিউটিফিকেশন, সেলাইসহ বিভিন্ন কাজে নেন প্রশিক্ষণ। এছাড়াও বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) থেকে উদ্যোক্তার প্রশিক্ষণ নেন। নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলেন। উদ্যোক্তা হিসেবে বিসিকের নিবন্ধিত হন। পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে শুরু করেন কুশি-কাটা দিয়ে শিশুদের সহ বিভিন্ন বয়সী মেয়েদের জামা কাপড়। বিভিন্ন দোকানে পাইকারী মূল্যে বিক্রি করেন। খরচ বাদে কিছু আয় হতে থাকে। অদম্য নারী আফরোজা। আয়ের টাকা সঞ্চয় করে আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন বুনেন। ধীরে ধীরে সুঁই -সুতার কাজের পরিধি বাড়াতে থাকেন। কর্মসংস্থানহীন নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকেও নিজের কাজে সম্পৃক্ত করতে থাকেন। প্রশিক্ষিত হয়ে তারা বাড়িতে থেকেই কাজ করে পন্য সরবারহ করেন আফরোজার কাছে। সময়ের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে লিজাও এগিয়ে যেতে থাকেন। তাঁর তৈরী পোশাকের চাহিদাও বাড়তে থাকে ভোক্তাদের কাছে। ব্যবসার পরিধি বাড়াতে তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নেন। 

২০২৩ সালে শহরের নাগড়া শিববাড়ি এলাকায় নিজের পন্য নিয়ে “লিজা বুটিক হাউজ” নামের একটি সেলস সেন্টার যাত্রা শুরু করে। এরপর আফরোজার পন্য দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে আমেরিকা, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে। “লিজা বুটিকস হাউজ” পোশাক তৈরীতে বর্তমানে ৫০জনেরও বেশি নারী যুক্ত রয়েছেন। খরচ বাদে মাসে গড়ে প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা আয় হয় আফরোজার। তাঁর স্বপ্ন, শহরের প্রাণকেন্দ্রে বড় পরিসরে একটি শোরুম ও কারখানা গড়ে তোলার। তার কাজে আরো অনেক নারীকে সম্পৃক্ত করার।

আফরোজা শুধুই আর্থিক সক্ষমতায় নয়, নিজেকে সামাজিক কাজেও সম্পৃক্ত করেছেন। বিশেষ করে তাঁর সাথে কাজ করা নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানো, সন্তানদের শিক্ষাসহ নানা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিও করে চলেছেন। একইভাবে সরকারি দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে কৃষি বিপণন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বাল্য বিয়ের কুফল, শিশুদের সুরক্ষাসহ সমাজের প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্যে কাজ করছেন। 

লিজার বুটিকস হাউজের পন্য তৈরীতে যুক্ত নারী শহরের নাগড়া এলাকার কামরুন্নাহার বাবলী বলেন,“ আমার সংসারে অভাব-অনটন লাইগ্যাই আছিল। বছর দেড়েক আগে আফরোজা আপার সাথে দেখা অইছিল।

এর পর থেইক্যা আমার জীবনডা বদলে গেছে। তার সাথে কাজে যোগ দেয়। প্রশিক্ষণ নেই লিজা আপার কাছে। অহন সেখান থেইক্যা মাসে বেশ কিছু টাকা আয় হয়। সংসারে এই টাকা লাগাতে পারতাছি। ছেলে- মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাইতে পারতাছি। ” 

একই এলাকার আরেক নারী মিনা বেগম বলেন, “অভাবের সংসারে আমার দু:খের দিন ঘুচিয়েছে লিজা আপা। তার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে লিজা বুটিকস হাউজের পন্য তৈরী করি। অহন আমার জীবন অনেকটাই সহজ অইয়া গেছেগা। মাসে মাসে এইহান থেইক্যা যে ট্যাহা পাই এই দিয়া পোলাপান নিয়া ভালাই আছি।”

ডলি দেবনাথ দুই সন্তান আর স্বামীর সংসারে তিনিও ছিলেন অসচ্ছল। তিনি বলেন, স্বামীর আয়ে সংসার চলছিল না। লিজা আপাই আমারে ডাইক্যা কইলো কাজ করতে।

সেলাইয়ের কাজও শিখাইছে। অহন তার হাউজেই কাম করি। ট্যাহা পাই । আয় আইতাছে। সংসারেও অহন আর আগের মতো টানাটানি নাই।আমার মতন লিজা আপার কাছে ৫০ জনেরও বেশি মহিলা কাজ করেন।

বাবলী, ডলি ও মিনার মতো নেত্রকোনা শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার চৈতি সরকার, শিল্পী রায়,রুণা সরকার, ডলি দেবনাথ, কাঞ্চন দে, তন্নী সাহা, শিউলী সাহাসহ অর্ধশতাধিক নারী লিজা বুটিকস হাউজে কাজ করে চলেছেন।  

আফরোজা আক্তার লিজা বলেন, জীবনের শুরুতেই ধাক্কা লাগে আমার। সংসার জীবনে স্বামী মাদকাসক্ত ছিল। তার সাথে মানিয়ে চলার অনেক চেষ্টা করি। কিন্তু তা হয়ে উঠেনি। তখন আমি সিদ্ধান্ত নেই কিছু করার। ছোট বেলায় শেখা হাতের কাজ কুশি-কাটার সেলাই নিয়ে শুরু করি। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে প্রশিক্ষণ নিই। কুশি-কাটার পন্য তৈরী করে বিক্রি করতে থাকি। অন্য নারীদের সাথে নিয়ে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আমার কাজে যুক্ত করতে থাকি। তারাও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে থাকে। আমার পন্যও দিন দিন বিক্রি বাড়তে থাকে। অনলাইনেও বিক্রি হয়। এখন দেশের

বাইরেও আমার পন্য যেতে থাকে। মাত্র ৫হাজার টাকা নিয়ে যাত্রা শুরু করি। এখন লিজা বুটিকস হাউজ নামে সেলস সেন্টার ওপেন করি। এই সেলস সেন্টার থেকেই পন্য বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন মেলাতেও আমার পন্য নিয়ে অংশ নেই। আমার সাথে যুক্ত থাকা নারীরাও আর্থিকভাবে অনেকটা

স্বাচ্ছন্দ্যে চলছেন। এখন চেষ্টা করছি শহরে একটি বড় পরিসরে শোরুম দেয়ার। আমার কু্শিরা-কাটার পন্যের একটা ব্র্যান্ড করতে চাই। একটা বড় আকারে করাখানা করতে

চাই। সরকারের সহযোগীতা দরকার। স্বল্প ও সহজ পদ্ধতিতে ঋণ পেলে স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে পারবো।

অন্য নারীদের বিষয়ে লিজা বলেন, নারীরা শুধু ঘরে বসে না থেকে স্বাবলম্বী হতে কোন কাজ যেন করেন। তাহলে সংসারে ভুমিকা রাখতে পারেন। নিজে যেন পরের বোঝা না হন। তাহলে জীবনের যে সৌন্দর্য্য আছে তা উপলব্ধি করতে পারবেন। দেশের অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারবেন।

জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফারজানা পারভীন বলেন, আফরোজা আক্তার লিজা স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের পর যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সুই-সুতার পন্য তৈরী করে ব্যবসার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে পথ চলতে শুরু করেন। অদম্য ইচ্ছা শক্তিতে আজ তিনি সফল। গড়ে তোলেছেন “লিজা বুটিকস হাউজ”। নিজে স্বাবলম্বী হয়েছেন। সেখানে অনেক নারী কাজ করে তারাও অর্থনৈতিক সচ্ছলতায় ফিরছেন। এছাড়াও তিনি নিজেকে সামাজিক উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডেও জড়িত রেখেছেন। এতে করে সমাজে বিশেষ করে নারীরা সচেতন হচ্ছেন।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।