সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবার পর এক কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন—“অবৈধ কাজ তো দূরের কথা, নিয়মের বাইরে কিছুই করা যাবে না।” কালিঘাট এলাকার হজরত শাহ নাসীরুদ্দীন জামে মসজিদে তিনি বলেন, এই সিলেটের মাটিতে অসংখ্য অলি-আউলিয়া শুয়ে আছেন, এ পবিত্র মাটিকে অপরাধ আর অসামাজিক কর্মকাণ্ডে কলুষিত হতে দেওয়া যাবে না।
ডিসি সারওয়ার আলম প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন, সিলেট শহরের বিভিন্ন স্থানে চলা তীর-শিলং জুয়ার আসর বন্ধ করতে হবে অবিলম্বে। তিনি বলেন,
“আমি খোঁজ নিচ্ছি, কোন কোন স্পটে খেলা হয়, কারা পরিচালনা করে। যারা চালাচ্ছেন কিংবা খেলছেন, তারা কাল থেকেই বন্ধ করে দেন। অন্যথায় আইনের আওতায় এসে দেখে নেবেন কত ধানে কত চাল।”
তিনি স্পষ্ট করে জানান, অপরাধী শুধু সেই নয় যে জুয়া খেলে, বরং যারা সহযোগিতা করে তারাও সমান অপরাধী।
এ সময় জেলা প্রশাসক সিলেটের আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ীদের দিকেও আঙুল তোলেন। তিনি বলেন, অনেক হোটেল লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা করছে, যা আইনত সম্পূর্ণ অবৈধ।
“লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা চলতে দেওয়া হবে না। আগামী সপ্তাহেই নোটিশ জারি করা হবে। রোববারই আদেশ আসবে। এরপর যাদের পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশাসকের এই বক্তব্য সিলেটবাসীর কাছে এক শক্ত বার্তা—এই শহর পুণ্যভূমি, এখানে অসামাজিক কাজ চলতে পারে না। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ-প্রশাসনের ছত্রছায়ায় তীর-শিলং জুয়া আর অবৈধ হোটেল ব্যবসা চলে আসছিল। ডিসির প্রকাশ্য ঘোষণার পর পরিস্থিতি বদলাবে কি না, এখন সেটিই সবার নজরে।