বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের হামলা, মামলা ও নির্যাতনের পরও তিনি কখনো শেখ হাসিনার কাছে মাথানত করেননি। আন্দোলনের পথে থেকে বারবার জেলে গিয়েছেন, বাড়িতে হামলার শিকার হয়েছেন, কিন্তু সবকিছুর পরও প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুর বালিকা বিদ্যানিকেতন মাঠে লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দীর্ঘ ১২ বছর পর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনকে ঘিরে এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এর আগে ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর সম্মেলন ছাড়াই পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
এ্যানি বলেন, গত ১৭ বছরের আন্দোলন সংগ্রামের কারণে জেলা বিএনপিকে সংগঠিত করার সময় পাননি। তিনি জেলার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশজুড়ে চলছিল হাসিনার বিরুদ্ধে একদফার আন্দোলন। সেই সময়ে চন্দ্রগঞ্জসহ বিভিন্ন ইউনিটে বিএনপির বহু নেতা-কর্মী গুম-খুনের শিকার হন, রক্তাক্ত হয় লক্ষ্মীপুর পৌরসভা। তবুও এলাকাবাসী একে অপরকে ছেড়ে যায়নি।
তিনি আরও বলেন, “আমার বাড়ি কিংবা সাবু মিয়ার বাড়িতে হামলা হয়েছে। তবুও পালিয়ে যাইনি। বহু এসপি, বহু ডিসির রক্তচক্ষু দেখেছি। গডফাদার তাহের বাহিনীর হুমকিও আমাদের কাছে সাধারণ ছিল। সব সময় বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় মাথা উঁচু করে নেতৃত্ব দিয়েছি।”
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান লিটন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, সহ-সাংগঠনিক
সম্পাদক হারুনুর রশিদ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, যুগ্ম-আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, জেলা বিএনপির সদস্য নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া, আইনজীবী ফোরামের সভাপতি হাফিজুর রহমান ও শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি আবুল হাশেম।