বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষক সংকটে অচল নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ

আবু তাহের,ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের অধীনস্থ পরিসংখ্যান বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে নানান সংকটে ভুগছে। শিক্ষক সংকট, স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম চালু না থাকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাবে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে স্নাতক পর্যায়ের পাঁচটি শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬২ জন। অথচ শিক্ষক […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৬ আগস্ট ২০২৫, ২১:৫৯

আবু তাহের,ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের অধীনস্থ পরিসংখ্যান বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে নানান সংকটে ভুগছে। শিক্ষক সংকট, স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম চালু না থাকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাবে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে স্নাতক পর্যায়ের পাঁচটি শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬২ জন। অথচ শিক্ষক আছেন মাত্র ৪ জন। এর মধ্যে একজন শিক্ষক শিক্ষাছুটিতে থাকায় কার্যত ৩ জন শিক্ষক দিয়ে পুরো বিভাগ চালাতে হচ্ছে। ফলে পাঠদান, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমে ব্যাপক সংকট তৈরি হয়েছে।

ইতিমধ্যেই শিক্ষার্থীরা সেশনজটের মুখে পড়েছেন। ইউজিসির নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও এখানে ৫৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছেন মাত্র ১ জন শিক্ষক।

এছাড়া বিভাগে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম চালু না থাকায় ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তারা বাধ্য হয়ে বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংকটও প্রকট। পুরো বিভাগে একজন কর্মকর্তা ও একজন কর্মচারী দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। সেমিনার লাইব্রেরিতে কোনো লাইব্রেরিয়ান না থাকায় শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরি ব্যবহার করতে পারছেন না।

একইভাবে দুটি কম্পিউটার ল্যাবে নেই কোনো ল্যাব এটেনডেন্ট বা ল্যাব ডেমনস্ট্রেটর। সফটওয়্যার ও কম্পিউটার সংক্রান্ত সমস্যায় শিক্ষার্থীদের নিজেরাই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নূর হোসাইন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে আমাদের বিভাগ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। মাত্র তিনজন শিক্ষক দিয়ে পাঁচটি ব্যাচ সামলানো সম্ভব নয়। বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে ক্লাস নেওয়া হলেও পাঠ্যক্রমে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

শিক্ষক সংকটের কারণে মাস্টার্স প্রোগ্রামও চালু করা যাচ্ছে না। আমরা বারবার আশ্বাস পেলেও এখনো নিয়োগের কোনো অগ্রগতি হয়নি। দ্রুত সমাধান না হলে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।”

একই বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন রনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি ভয়াবহ। কর্মচারী না থাকায় লাইব্রেরি ব্যবহার করতে পারছি না। ল্যাবে সফটওয়্যার ইনস্টল না থাকায় পরীক্ষায় সমস্যা হচ্ছে। ল্যাব ডেমনস্ট্রেটর থাকলে অন্তত এ ধরনের সমস্যায় পড়তে হতো না। আমরা দ্রুত সমস্যার সমাধান চাই।”

পরিসংখ্যান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোছাঃ তাওয়াবুন্নাহার বলেন, “একজন শিক্ষকের ৭/৮টি কোর্স পড়াতে হচ্ছে। এতে বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষক সংকটের কারণে স্নাতকোত্তর চালু করাও সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি কর্মচারী সংকটের কারণে ল্যাব, লাইব্রেরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকেও শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।”

এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা রবিবার (২৪ আগস্ট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা বিষয়টি ইতোমধ্যে ইউজিসিকে একাধিকবার জানিয়েছি। শুধু পরিসংখ্যান বিভাগ নয়, আরও কয়েকটি বিভাগে একই সমস্যা রয়েছে। সামনে ইউজিসির সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি পুনরায় উত্থাপন করা হবে। আশা করি দ্রুতই সমাধান আসবে।”

উল্লেখ্য, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ […]

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:৩৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হামলায় রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব ও শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে একদল ছাত্রদল নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে যান। তাদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় সেখানে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে কয়েকজন সাংবাদিককে হলের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে দ্য ডেইলি স্টার ও আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আহত হন। আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথায় আঘাত লাগে। অন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে তাদের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বলে জানা গেছে। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য ঘিরে রাকিবুল নামের একজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।

আহসান হাবীব অভিযোগ করেন, ওই মন্তব্যে তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করা হয়েছে। অন্যদিকে রাকিবুল দাবি করেন, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছিল। পরে দুজনই ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

এ পরিস্থিতির মধ্যে রোববার বিকেলে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী অবস্থান নেন। তাদের কারও কারও হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। এরপর উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং একপর্যায়ে হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে জানানো হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।