শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

টাঙ্গাইলে অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ হচ্ছে অসংখ্য বহুতল ভবন

আব্দুল্লাহ আল মামুন, টাঙ্গাইলঃ টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে অনুমোদনহীন অসংখ্য ভবন নির্মাণে বিপর্যস্তের পথে প্রাণ প্রকৃতি। এ কারনে ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কাও সৃষ্টি হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে সুউচ্চ ভবন নির্মাণের (বিসি) কমিটির অকার্যকারিতা এবং পৌর প্রশাসনের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনার ফলে জণদুর্ভোগ বাড়ছে। সাধারণ মানুষের বৈধভাবে ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনে নানাবিধ জটিলতা ও ভোগান্তির ফলে বৈধভাবে নকশা […]

এডিটর

১১ আগস্ট ২০২৫, ২২:৫৫

আব্দুল্লাহ আল মামুন, টাঙ্গাইলঃ

টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে অনুমোদনহীন অসংখ্য ভবন নির্মাণে বিপর্যস্তের পথে প্রাণ প্রকৃতি। এ কারনে ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কাও সৃষ্টি হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে সুউচ্চ ভবন নির্মাণের (বিসি) কমিটির অকার্যকারিতা এবং পৌর প্রশাসনের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনার ফলে জণদুর্ভোগ বাড়ছে। সাধারণ মানুষের বৈধভাবে ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনে নানাবিধ জটিলতা ও ভোগান্তির ফলে বৈধভাবে নকশা অনুমোদন হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা যায়, বিগত প্রায় তিন বছরে বিসি কমিটি নানান জটিলতার কারনে একটি সুউচ্চ ভবনেরও অনুমোদন দেয়নি।

পৌর কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) নির্মাণ বিধিমালা ১৯৫২, ১৯৯৬, ২০২০ অনুসারে ৭ তলা বা ৭৫ ফুটের অধিক উচ্চতা বিশিষ্ট ভবনের নকশা অনুমোদন দিতে পারে না। পৌরসভার নগর পরিকল্পনাবিদ মোঃ শহিদুল ইসলাম ও একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সুউচ্চ ভবনের প্ল্যান পাস হয়েছে মাত্র ৩০টি। তবে অনুমোদনহীন সহস্রাধিক ভবন নির্মাণ কাজ চলছে বলেও তারা নিশ্চিত করেন। নামে বেনামে নিজস্ব জায়গায় ও সরকারি জায়গা, খাল ও নদী দখল করে নকশা অনুমোদনহীন সহস্রাধিক ভবন নির্মাণের কাজ দৃশ্যমান। যেখানে মানা হচ্ছে না ইমারত নির্মাণ বিধিমালা।

ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড এর বিভিন্ন আইন, যেমন: অগ্নি প্রতিরোধ ও নিরাপদ আইন ২০০৩, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫, প্রাকৃতিক জলাধার আইন ২০১০, বেসরকারি আবাসিক প্রকল্প ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা ২০২৩, মহাসড়ক আইন ২০২১, পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ২০২৩, ভূমি সংক্রান্ত আইন এবং অন্যান্য প্রচলিত আইন বিধিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে না। সকল ধরনের নকশার ক্ষেত্রে বিএনবিসি ২০২০ মোতাবেক ইলেকট্রিক্যাল ও প্লাম্বিং অনুমোদন নেয়া হচ্ছে না। নিজের ইচ্ছামত বিল্ডিং নির্মাণ করা হচ্ছে, সাইট প্ল্যান, বিল্ডিং প্ল্যান, সার্ভিস প্লান, স্পেসিফিকেশন এবং সেটব্যাগের ধার ধারা হচ্ছে না।

যার ফলশ্রুতিতে জেলা শহর দিন দিন বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে। গড়ে উঠছে অপরিকল্পিত নগরায়ন। এতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এছাড়াও বিভিন্ন বিল্ডিংয়ে গড়ে উঠছে ফুডজোন, রেস্তোরাঁ, রেস্টুরেন্ট, বিপনি বিতান, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও শোরুম। গতানুগতিক ভবনগুলোতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে ক্লিনিক ও বডি মেসেজ পার্লার। বহুতল ভবনের রূটটবে বাহারি রকমের জমজমাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠছে। ফলশ্রুতিতে ঘটতে পারে অগ্নিকাণ্ড’সহ যে সহজে কোন ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা।

প্রশাসনের নাকের ডগায় এভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও, দায়িত্বপ্রাপ্ত দায়িত্বহীন কর্মকর্তাদের কারণে হুমকির মুখে বৃহত্তম জেলা টাঙ্গাইল। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোকে অবগত করলেও অদৃশ্য কারণে তারা নীরব ভূমিকায় রয়েছে। দেশের তিনটি প্রধান ভূমিকম্প বলয়ের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক ফল্ট হচ্ছে টাঙ্গাইলের ‘মধুপুর ফল্ট’।

গবেষকদের মতে এটি তরমুজের ফালির মতো অসংখ্য প্লেটে বিভক্ত। এ ফল্ট থেকে যদি ভূমিকম্প হয় তবে সেটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও ঢাকা’সহ আশপাশের জেলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ ভূমিকম্পের আশঙ্কার মধ্যেই অপরিকল্পিতভাবে টাঙ্গাইলে গড়ে উঠছে অসংখ্য বহুতল ভবন। এতে ঝুঁকি বাড়ছে টাঙ্গাইল জেলার। সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় ১২, ১৪ থেকে ১৮ তলা পর্যন্ত অসংখ্য ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। ইতোমধ্যে অনেক বহুতল ভবন নির্মাণ হয়েছে। এসব বহুতল ভবন একাধিক ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের যৌথ মালিকানায় গড়ে উঠছে।

এসব ভবন নির্মাণে ৫০০০ স্কয়ার ফিট অথবা ৭৫ ফিটের ঊর্ধ্বে ভবনগুলো অনুমোদনের কাজ করে গণপূর্ত বিভাগ। পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন দেয় বিসি কমিটি। ভবনের ভার বহনের ক্ষমতা যাচাই’সহ এর স্থাপত্য, কাঠামোগত, বৈদ্যুতিক, মেকানিক্যাল, প্লাম্বিং, পরিবেশের ছাড়পত্র ও অগ্নিনিরাপত্তার নকশা অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু অধিকাংশ ভবনের এগুলোর অনুমোদন নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। বেশির ভাগ ভবন গা ঘেঁষে নির্মিত হচ্ছে। গণপূর্ত বিভাগ টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভুরাম পাল বলেন, ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর এর পর থেকে বিসি কমিটি এ পর্যন্ত জেলায় কোন বহুতল ভবনের অনুমোদন দেয়নি।

তবে অসংখ্য অনুমোদনহীন বিল্ডিং নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। অনেক আবেদনও জমা পড়েছে। যারা বিধি মোতাবেক করছেন না তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পৌরসভার একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ভবনের প্ল্যান পাস হয়েছে মাত্র ৩০টি। আবেদন জমা পড়েছে ৫৫০টি। তবে অসংখ্য ভবন নির্মাণ কাজ চলছে বলেও তারা জানান। টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক বলেন, ‘শহরের বেশির ভাগ বহুতল ভবন যথাযথভাবে নির্মাণ করা হয়নি। আমাদের অবগত ছাড়াই অনেক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সেফটি প্ল্যানও ঠিক

মত করা হয়নি। ইতোমধ্যে যেগুলো করা হয়েছে প্ল্যানের মধ্যে দুটি সিঁড়ি উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে অনেক ভবন একটি সিঁড়ি দিয়ে নির্মাণ কাজ করেছে।

যে সব অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ হচ্ছে তাদের কাজ বন্ধ রাখার জন্য একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কাজ বন্ধ না রাখলে সেগুলো ভাঙার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেগুলো কার্যকর হচ্ছে না। টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক শিহাব রায়হান বলেন, ‘যে সব অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ হচ্ছে তাদের কাজ বন্ধ রাখার জন্য একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কাজ বন্ধ না রাখলে সেগুলো ভাঙার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন বলেন, সড়ক মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘেঁষে কিছু বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে। কোন কোন বিল্ডিং সরকারি জায়গা দখল করে রাস্তাতেও উঠে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও কোন কাজ হচ্ছে না। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের লোক দেখানো দায়সারা নির্দেশনাও বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নুর মোহাম্মদ রাজ্য বলেন, প্লান পাশের জন্য অন্যান্য জেলার চেয়ে টাঙ্গাইলে পৌরসভার ফি বেশি থাকায় এবং মিষ্টির খরচ যোগ হওয়ায়, বৈধভাবে কাগজপত্র পেতে হিমশিম খাচ্ছে জনগণ। এ কারণেই নিরুপায় হয়ে, অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজসে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অনুমোদনহীন ভবনের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সচেতন মানুষজন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি  নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম […]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সেনবাগ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা অফিস কক্ষে প্রবেশের পর দুটি স্টিলের আলমিরা ও একটি ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।