রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

আদালত কে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দখলের চেষ্টা ড. মকবুল খান, তদন্তে ইউজিসি

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (ইইউবি)-এর বিতর্কিত সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান ড. মকবুল আহমেদ খান-এর বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে বিশ্ববিদ্যালয় দখলের অভিযোগ উঠেছে। নারী কেলেঙ্কারি, অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে জর্জরিত হয়ে গত ২৬ অক্টোবর ২০২৪ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন তিনি। সম্প্রতি ড. মকবুল আহমেদ খান অভিযোগ করেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড অবৈধভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে […]

এডিটর

১০ আগস্ট ২০২৫, ১৮:৪৪

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (ইইউবি)-এর বিতর্কিত সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান ড. মকবুল আহমেদ খান-এর বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে বিশ্ববিদ্যালয় দখলের অভিযোগ উঠেছে। নারী কেলেঙ্কারি, অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে জর্জরিত হয়ে গত ২৬ অক্টোবর ২০২৪ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন তিনি।

সম্প্রতি ড. মকবুল আহমেদ খান অভিযোগ করেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড অবৈধভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে এবং নতুন ট্রাস্টি বোর্ড অবৈধ উপায়ে উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দিয়েছে। তবে অভিযোগে তিনি সরাসরি তার ছেলে আহমেদ ফরহাদ খান-এর নাম উল্লেখ না করলেও, ফরহাদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তার বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগ জালিয়াতি, মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বলছে বাবা ও ছেলের মধ্যে তৈরি হওয়া বিরোধে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্ষতি না হয় সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ড জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (NSI) তদন্তের মাধ্যমে যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (RJSC)” কর্তৃক অনুমোদন পাওয়ার পড়েও বাবা কীভাবে অবৈধ উপায় অবলম্বন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে? বিশ্ববিদ্যালয় বিশৃঙ্খলা সহ সকল অভিযোগের বিষয় খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানতে চাইলে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যদের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। আমাদের লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়টি যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়।

ভিসি নিয়োগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভিসি নিয়োগে একটি প্যানেল হবে, যেটি ট্রাস্টি বোর্ড থেকে অনুমোদিত হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে সেখান থেকে আমাদের চিঠি দেবে। উপাচার্য প্যানেল বৈধ ট্রাস্টি বোর্ড অনুমোদন করেছে কিনা, এগুলো সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চেয়ে পাঠিয়েছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার জুবায়ের এনামুল করিম বলেন, আগের ভিসির মেয়াদ শেষ হওয়ায়, বে-সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এর ৩১ ধারা অনুযায়ী সকল নিয়ম মেনে অধ্যাপক ড. গোলাম মোর্তজা কে ভিসি হিসেবে সুপারিশ করা হয় বোর্ড অফ ট্রাস্টিস এর সাধারণ সভায়। এবং পরবর্তীতে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে ইউজিসির সহায়তা চেয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ ফরহাদ খান বলেন, আমার বাবা নিজেই পদত্যাগ করেন এবং (বিওটি) সিদ্ধান্তে আমাকে চেয়ারম্যান বানানো হয়। এখন আমার বাবা কিভাবে এটা অবৈধ বলে দাবী করতে পারে? আমার বাবা একটি কুচক্রী মহল দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। তাকে অনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এবং তিনি অবৈধ উপায়ে ইউনিভার্সিটি দখলের চেষ্টায় ষড়যন্ত্র করছে বলে যানান ছেলে।

তিনি আরোও বলেন, ২০২৫ সালের ২৫ জুন ইইউবি’র উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলিম দাদের মেয়াদ শেষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা যেন ব্যাহত না হয় সেজন্য ১৬ জুলাই একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ড. গোলাম মরতুজাকে ভারপ্রাপ্ত ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মরতুজা বলেন, বে-সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি নিয়োগের বিধান অনুযায়ী আমি ভারপ্রাপ্ত ভিসি হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছি। এবং তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত মিথ্যা অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অবসরপ্রাপ্ত মেজর আমিনুল রহমান বলেন, বৈধ নিয়োগ কে অবৈধ বলে অভিযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করে বিশ্ববিদ্যালয় দখলের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ড. মকবুল আহমেদ খান। আইনের বিধান অনুযায়ী, উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সুপারিশে আচার্য বা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে জন্য অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মরতুজা কে সুপারিশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আরও বলেন, ড. মকবুল আহমেদ খান এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যা ২০২২ সালের ইউজিসি (UGC)-এর তদন্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, ড. মকবুল আহমেদ খান তাঁর স্বেচ্ছায় দাখিলকৃত পদত্যাগকে ‘বেআইনি দাবি করে একটি টাইটেল স্যুট দায়ের করেন, যেখানে তিনি বর্তমান বোর্ড অব ট্রাস্টি-কে অবৈধ ঘোষণা চেয়ে এবং তাদের কার্যক্রমে বাধা প্রদানের লক্ষ্যে (নিষেধাজ্ঞা) Injunction প্রার্থনা করেন। উক্ত নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন (Injunction Application) প্রথমে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজকর্তৃক খারিজ হয়। পরবর্তীতে, তিনি বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে মিছ আপিল দায়ের করলে সেখানেও মিছ আপিলটি বিজ্ঞ জেলা জজকর্তৃক খারিজ হয়ে যায়। বিজ্ঞ জেলা জজ উক্ত মিছ আপিলটি খারিজ মর্মে নিম্নোক্ত পর্যবেক্ষণ প্রদান করেন।

যেহেতু, ২৬.১০.২০২৪ ইং তারিখে সাধারণ সভার মাধ্যমে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং ২৯.০১.২০২৫ ইং তারিখে আরজেএসসি (RJSC) কর্তৃক নতুন ট্রাস্টি বোর্ড অনুমোদন সম্পন্ন হয়েছে, এবং ড. মকবুল আহমেদ খান পূর্বেই পদত্যাগ করেছেন, তাই উক্ত নিষেধাজ্ঞা-এর আবেদন অকার্যকর।

সর্বশেষ মামলার বিবাদী পক্ষের উকিল বলেন, ড. মকবুল আহমেদ খান বিজ্ঞ জেলা জজ আদালত কর্তৃক তার মিছ আপিলটি খারিজ হয়ে যাওয়ায় উক্ত আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নিকট একটি সিভিল রিভিশন দায়ের করেন। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত মামলায় ড. মকবুল আহমেদ খান কে কোনো অনুকূল আদেশ দেননি বরং একটি স্থিতাবস্থা-এর আদেশ (Status Quo Order) প্রদান করেন। পরবর্তীতে, মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ-এর মাননীয় চেম্বার জজ উক্ত স্থিতাবস্থা-এর আদেশ (Status Quo Order) স্থগিত (Stay) করেন। সর্বশেষ, ড. মকবুল আহমেদ খান মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ-এর মাননীয় চেম্বার জজ কর্তৃক প্রদত্ত স্থগিতাদেশ (Stay Order) বাতিলের জন্য একটি আবেদন (Vacating Application) পেশ করেন, যা মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে ফুল বেঞ্চ (Full Bench) শুনানির পর খারিজ হয়ে যায়। বর্তমানে উপরি-উক্ত সিভিল রিভিশন মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অতএব, ড. মকবুল আহমেদ খান-এর পদত্যাগ, বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের গঠন ইত্যাদি আদালতের বিচারাধীন বিষয় তথা sub-judice matter হিসেবে গণ্য।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মকবুল আহমেদ খান বলেন, সেই সময় আমার সাথে কিছু ছাত্রের ঝামেলা ছিলো তারা তখন জোর পূর্বক আমাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে। আমি নিজ ইচ্ছায় পদত্যাগ করিনি। ভিডিও ব্যাপারে তিনি বলেন এগুলো এডিট করা।

২০১০ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৩১ ধারার ৬ উপধারায় বলা হয়েছে, এই ধারার অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত কোনও ভাইস-চ্যান্সেলর কোনও কারণে তার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর সাময়িকভাবে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করবেন; তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের পদ শূন্য থাকলে, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার সাময়িকভাবে ভাইস-চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু ইইউবির প্রো-ভাইস-চ্যান্সেল পদ শূন্য থাকায় এবং সাবেক ট্রেজারার মোশাররফ হোসেন সরকার এর মেয়াদ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ এ শেষ হওয়ায় তাকে ও ভারপ্রাপ্ত ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখতে নিয়ম মেনে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মরতুজা কে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে ইউজিসি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম তালুকদারকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সুলতান মাহমুদ এবং একই বিভাগের সহকারী পরিচালক পারভেজ গাজী।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ […]

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৬

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যালোচনা করেই নির্ধারিত সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করা হয়েছিল।

তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে আকস্মিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকায় ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় সেগুলো বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় বন্যা বা প্রশাসনিক কারণে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ইতোমধ্যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তাই আন্দোলনের পরিবর্তে সবাইকে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।