শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

বর্ণাঢ্য আয়োজনে গবিতে শপথ গ্রহণ ও নবীনবরণ সম্পন্ন 

সানজিদা খানম ঊর্মি, গবি প্রতিনিধি: সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের পাদদেশে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ও শপথ বাক্য পাঠের মধ্য দিয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) ২০২৫ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সেশনের নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবীন শিক্ষার্থীদের শপথবাক্য পাঠ করান বিশ্ববিদ্যালয়ের […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৭ আগস্ট ২০২৫, ২২:১১

সানজিদা খানম ঊর্মি, গবি প্রতিনিধি:

সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের পাদদেশে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ও শপথ বাক্য পাঠের মধ্য দিয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) ২০২৫ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সেশনের নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবীন শিক্ষার্থীদের শপথবাক্য পাঠ করান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন। শপথ গ্রহণ শেষে সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ ভবনের অডিটোরিয়ামে নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ এবং মাইলস্টোন ট্রাজেডি স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরীর জীবনকাল এবং গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর নির্মিত ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এসময় ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করা হয় নবাগত শিক্ষার্থীদের।

নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে স্বাগত বক্তব্যে কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: ফজলুল করিম বলেন, ‘ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী সমাজে একটি আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য লড়ে গেছেন। জ্ঞানের মাধ্যমে সমাজকে পরিবর্তন করার লক্ষে তৈরি করেছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়।

আপনারা তারই আদর্শের বাহক। শিক্ষার মাধ্যমে সমাজকে পরিবর্তন করার প্রত্যয়ে এগিয়ে যেতে হবে। সবুজে ঘেরা এই ক্যাম্পাসকে মাইলফলক করে তুলতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনে যুক্ত হয়ে মানসিক বিকাশের মাধ্যমে মনকে সুন্দর করে তুলবে। সমাজ ও দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবে এই প্রত্যাশা।’

ফলিত গনিত বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী ফয়জুননেছা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘এই নতুন ক্যাম্পাস, নতুন পরিবেশ, নতুন বন্ধু। এক স্বপ্ন নিয়ে এসেছি সুন্দর যাত্রা শুরু করতে। শিক্ষক-অগ্রজ সবাইকে ধন্যবাদ জানাই, যারা আমাদের এতো সুন্দর করে বরণ করে নিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়টুকু জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আমরা নবীনরা শুধু বইয়ের জ্ঞানই নয় শিখবো কীভাবে মানব সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবো, কীভাবো আর্দশবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠা যায়। শিক্ষক এবং অগ্রজদের সহযোগিতায় আমরা লক্ষ্য পূরণে প্রত্যয়ী।’

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরিটাস অধ্যাপক ও গবি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ড.  সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী নবাগত শিক্ষার্থীদের অভিবাদন জানিয়ল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল আদর্শ হলো একসাথে চলা ও অজানাকে জানার প্রয়াস।

এখানে একা নয়, সবাই মিলে কাজ করাই শিক্ষা। এই প্রতিষ্ঠান ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরীর অনুপ্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত, যার লক্ষ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতান্ত্রিক সমাজ গঠন—যেখানে সকলের সমান অধিকার ও সুযোগ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় কারো ব্যক্তিগত নয়, এটি জনগণের।

জ্ঞান সামাজিক মালিকানা, যা মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়া উচিত। কিন্তু পুঁজিবাদী ব্যবস্থা এই জ্ঞানকে ব্যবহার করছে ধ্বংস ও মুনাফার জন্য। তাই তরুণদের উচিত জ্ঞানচর্চা, ইতিহাস জানা ও মনুষ্যত্ব গড়ে তোলা—যাতে গড়ে ওঠে একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক সমাজ।

তিনি আরও বলেন, ‘গণ বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের, কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়। জ্ঞান ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি সামাজিক মালিকানা এবং মানুষের কল্যাণে ব্যবহারের জন্য। কিন্তু পুঁজিবাদী ব্যবস্থা জ্ঞান ও বিজ্ঞানকে মুনাফা, যুদ্ধ, ও ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করছে—যেমন পারমাণবিক বোমা বা জলবায়ু বিপর্যয়। আজকের পৃথিবীর বড় সমস্যা হলো পুঁজিবাদী উন্নয়ন ও ব্যক্তি মালিকানা। এর বিকল্প হলো সামাজিক উন্নয়ন, যেখানে জ্ঞান মানবিকতা গঠনের হাতিয়ার হয়।’

নবাগত শিক্ষার্থীদের স্বাগত এবং অতিথিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘আগামী ৪ বছর এই ক্যাম্পাসে আপনাদের সুন্দর সময় অতিবাহিত হোক তা আমাদের একান্ত কাম্য। গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ পুরুষ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রত্যয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি স্বল্প খরচে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে তাই তার দেখানো পথেই চলতে হবে। এই চারটি বছর আপনাদের বাকী জীবনের পাথেয়। প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করে দেশের কাজে নিজেদের বিলিয়ে দিতে হবে।

জ্ঞান অর্জনের সকল ব্যবস্থাই বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে। এখানে ভালো মন্দ উভয়ই আছে। ভালোকে বেছে নিয়ে মন্দকে বর্জন করতে হবে। আপনাদের ভবিষ্যৎ জীবন সুন্দর হোক এই কামনা করি।’

নবীন বরণের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা নাচ, গান, কবিতা পরিবেশন করেন।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো: ওহিদুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, কর্মকর্তা-কর্মচারি, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। […]

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১:১৪

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, তারা পূর্বে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ডিভিএম এবং অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রি বাতিল করে তাদের বি.এস.সি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ১৭৩১৮/২০২৫ মামলার রায়ে পৃথকভাবে ডিভিএম ও বি.এসসি এএইচ (অনার্স) ডিগ্রি বাতিলের সিদ্ধান্তকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হয় এবং স্বতন্ত্র কোর্সসমূহ সমান্তরালভাবে চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। রায়ের আলোকে শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় পূর্বের ডিভিএম ডিগ্রি দাবি জানায়।

এ বিষয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সৈকত হাসান বলেন, “আমাদের যখন কম্বাইন্ড ডিগ্রির আওতায় আনা হয়েছিল, তখন জানানো হয়েছিল যে সারা দেশে একক কম্বাইন্ড ডিগ্রি বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি বাস্তবায়ন করা হবে।

কিন্তু বাস্তবে তা আর কার্যকর হয়নি। এখন হাইকোর্টের রায় আমাদের পূর্বের ডিগ্রি ডিভিএম-এ ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে। যেহেতু ডিভিএম একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রি, তাই আমরা আমাদের মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন অনুযায়ী ডিভিএম ডিগ্রি পুনঃবাস্তবায়ন চাই।”

এ সময় অপর আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “ডিভিএম ডিসিপ্লিনে প্রত্যাবর্তনের পেছনে একাডেমিক ও পেশাগত কয়েকটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে ডিগ্রির স্বীকৃতি, পেশাগত নিবন্ধন ও উচ্চশিক্ষায় সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানো ,ক্রেডিট সমন্বয় বা প্রশাসনিক রূপান্তরজনিত কারণে সেশন জট কিংবা একাডেমিক বিভ্রান্তি দূর করা, মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন ও একাডেমিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখা এবং পেশাগত পরিচয় ও কর্মজীবনের পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা।”

শিক্ষার্থীরা তাদের আবেদনকে আইনসম্মত ও একাডেমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও প্রশাসনিক সমাধান প্রত্যাশা করেছেন। আদালতের রায় যথাযথ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাদের ডিভিএম ডিসিপ্লিনে পুনঃঅন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সদয় বিবেচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।