শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

রাতের আঁধারে আওয়ামীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ সাবেক সেনা কর্মকর্তার

নরসিংদীর বৃহত্তম উপজেলা রায়পুরার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ স্কুল মাঠে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের লোকজনকে দেওয়া হচ্ছে এ প্রশিক্ষণ। রাতের অন্ধকারে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, সায়দাবাদ স্কুলে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর […]

রাতের আঁধারে আওয়ামীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ সাবেক সেনা কর্মকর্তার

রাতের আঁধারে আওয়ামীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ সাবেক সেনা কর্মকর্তার

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৫, ১০:৫২

নরসিংদীর বৃহত্তম উপজেলা রায়পুরার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ স্কুল মাঠে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের লোকজনকে দেওয়া হচ্ছে এ প্রশিক্ষণ। রাতের অন্ধকারে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, সায়দাবাদ স্কুলে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জসিম উদ্দিন এবং নজরুল ইসলাম।

সূত্র জানায়, সপ্তাহের প্রায় প্রতি রাতেই চলে এ প্রশিক্ষণ। বিশেষ করে রাত যখন গভীর হয় তখনই সরব হয় নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময় গুলি, আগ্নেয়াস্ত্র পরিচালনা ও ককটেলের শব্দে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নিরীহ মানুষের বাড়িতে চাঁদাবাজি, জমি দখল ও বাড়িঘরে লুটপাটের কারণে সায়দাবাদ গ্রামটি ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। নতুন করে অস্ত্রের প্রশিক্ষণের কারণে তাদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ চরাঞ্চলে সংঘর্ষ টিকিয়ে রাখতে গোপনে বিভিন্ন স্থানে চলে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হানিফ মাস্টার ও এরশাদ নামে দুই ব্যক্তি কিছুদিন পরপর এ এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পাশাপাশি হানিফ মাস্টারের ছায়াতলে থেকে রায়পুরার চরাঞ্চল শ্রীনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সায়দাবাদ গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম এলাকায় আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে ৫ আগস্টের পর নিজ নামে গড়ে তোলেন সন্ত্রাসী বাহিনী। গত বছরের ২২ আগস্ট এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শাহ আলম বাহিনীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন প্রতিপক্ষ এরশাদ গ্রুপের এক গৃহবধূ ও নবম শ্রেণির ছাত্রসহ ছয়জন।

সূত্রের দেওয়া তথ্যমতে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকা দখলসহ নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসার খবর প্রচার হতে থাকলে সায়দাবাদ গ্রামে শাহ আলম বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পায় বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। আর এতেই নিয়মিত অস্ত্র হাতে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করে আওয়ামী লীগ নেতা ও শাহ আলম বাহিনীর প্রধান শাহ আলম, যুবলীগের কথিত ডা. জসিম উদ্দিন, ইকবাল, সালাউদ্দিন, যুবলীগের ইউনুস, শিপন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের রহিম, সেলিম, হারুন, আরমান, ছাত্রলীগের রনি, মাহফুজ, বাবুসহ ৪০-৫০ জন। এসব ব্যক্তি প্রশিক্ষণ নিয়ে নাশকতা চালাতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, গত বছর নরসিংদী কারাগার ভেঙে আসামি পলাতক ও অস্ত্র লুটের সঙ্গে জড়িত কিছু আসামি এ এলাকায় থাকতে পারে। তাদের মাধ্যমে কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্র এ এলাকায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ অবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানিসহ নিরীহ মানুষের জানমালের ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করছেন তারা। এজন্য যৌথবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ওসি মো. আদিল মাহমুদ জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। কয়েকজনের হাতে অস্ত্রের ছবির বিষয়ে তিনি বলেন, চর এলাকার সব জায়গায় অস্ত্র রয়েছে। সায়দাবাদ, শ্রীনগর, বাঁশগাড়ী, চানপুরসহ কোন জায়গায় অস্ত্র নাই, বলেন? আবার কিছু উদ্ধারও হচ্ছে।’

রায়পুরা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বায়েজিদ বিন মনসুর জানান, ওই এলাকায় বিবদমান দুটি গ্রুপ রয়েছে, যারা কিছুদিন পরপরই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তারা গোপনে অনেক কিছুই করতে পারে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে। এলাকাটি বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ব্যাপকসংখ্যক পুলিশ নিয়ে অভিযান চালাতে হয়। পুলিশ সুপারের নির্দেশক্রমে আমরা সেখানে অভিযান চালাই এবং কিছু অস্ত্র ও আসামি ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মো. কলিমুল্লাহ হক জানান, অস্ত্র প্রশিক্ষণের কোনো তথ্য এ পর্যন্ত জানা নেই। আর অস্ত্রের যে ছবি দেওয়া হয়েছে, তা ওই স্থানের কি না, সঠিক ধরা মুশকিল। তবে অস্ত্রধারীরা ওই এলাকার কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারা ওই এলাকার লোক হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি  নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম […]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সেনবাগ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা অফিস কক্ষে প্রবেশের পর দুটি স্টিলের আলমিরা ও একটি ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।