বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

এখন আর আমার খোঁজ নেওয়ার কেউ রইল না, শহীদ হান্নানের মা

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মৈশামুড়া গ্রামের বড় বাড়ির আমিন মিয়ার ছেলে শহীদ হান্নান। গত বছরের ২০ জুলাই রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কাজ থেকে বাসায় ফেরার পথে পুলিশের গুলিতে আহত হন তিনি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ওই সময় তার স্ত্রী ছিলেন সন্তান সম্ভবা। মৃত্যুর দুই মাস পর জন্ম নেয় হান্নানের […]

এখন আর আমার খোঁজ নেওয়ার কেউ রইল না, শহীদ হান্নানের মা

এখন আর আমার খোঁজ নেওয়ার কেউ রইল না, শহীদ হান্নানের মা

নিউজ ডেস্ক

২৭ জুলাই ২০২৫, ১২:০৫

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মৈশামুড়া গ্রামের বড় বাড়ির আমিন মিয়ার ছেলে শহীদ হান্নান। গত বছরের ২০ জুলাই রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কাজ থেকে বাসায় ফেরার পথে পুলিশের গুলিতে আহত হন তিনি।

পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ওই সময় তার স্ত্রী ছিলেন সন্তান সম্ভবা। মৃত্যুর দুই মাস পর জন্ম নেয় হান্নানের একমাত্র কন্যা সন্তান উম্মে হানি। জন্মের পর থেকে সে মায়ের সঙ্গে নানা বাড়িতেই বড় হচ্ছে। বাবার মুখ দেখার সৌভাগ্য হয়নি তার।
শহীদ হান্নান জন্মগ্রহণ করেন ১৯৯২ সালের ৩০ জানুয়ারি। বাবা আমিন মিয়া (৯৫) ও মা রাশিদা বেগমের (৭৫) ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। ভাইদের মধ্যে বিল্লাল হোসেন (৫৫), ইমান হোসেন (৪৯), রফিক (৪৩), মান্নান (৪০) ও একমাত্র বোন বিউটি (৩৭)। বোন বিবাহিত ও গৃহিণী। ভাইদের চারজনই ঢাকার বিভিন্ন বেকারিতে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন। হান্নান পড়াশোনা করেছেন মৈশামুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত।

২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি হান্নান বিয়ে করেন বিবি হাওয়া মুক্তাকে (২০)। শ্বশুর ওমানপ্রবাসী মো. স্বপন (৫২) ও শাশুড়ি নাজমা বেগম (৪৫) গৃহিণী। মুক্তাদের গ্রামের বাড়ি একই উপজেলার কাশিমপুর উটনী গ্রামে। মুক্তার বড় বোন সুমাইয়া (২৫) বিবাহিত, ছোট বোন নুসরাত (১৫) নবম শ্রেণিতে পড়ে ও একমাত্র ভাই আহমেদ নাবিল (১০) মাদরাসায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র।

হান্নান ও তার ভাই রফিক ঢাকার মধ্য বাড্ডার পূর্বাঞ্চলের ৯ নম্বর রোডের ‘আপনজন বেকারি’তে বিক্রয়কর্মী ছিলেন। প্রথমে রফিক কাজ শুরু করেন, এরপর চার বছর আগে হান্নান যোগ দেন। বেকারির পাশে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় চারজন মিলে ভাড়া থাকতেন, সবাই একই প্রতিষ্ঠানের কর্মী।

হান্নানের বড় ভাই রফিক বলেন, প্রতিদিন ভোরে হান্নান আমার আগেই কাজে যেত। ঘটনার দিন ১৮ জুলাই ভোর সাড়ে ৬টায় হান্নান কাজে যায়। আমি আগে কাজ শেষ করে বাসায় এসে ঘুমাচ্ছিলাম। সকাল ১০টার দিকে তার রুমমেট রনি ফোন করে জানায়, বাড্ডা থানার সামনের ফুটওভারব্রিজের নিচে হান্নান গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাকে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই ভোর সাড়ে ৪টায় তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও বলেন, হান্নানের নাভির নিচে ডান পাশে গুলি লেগে অপর দিক দিয়ে বের হয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং কয়েক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়।

রফিকের স্ত্রী জান্নাত বলেন, হান্নান খুবই দানশীল ছিলেন। বিয়ের আগ থেকেই তার আয়ের একটি অংশ গরিবদের দান করতেন, যদিও তার মাসিক বেতন ছিল ২০-২৫ হাজার টাকা।

বড় ভাই ইমান হোসেন বলেন, হান্নানের নাভির নিচে গুলি লেগে রক্তক্ষরণ হয়। তাকে ঢাকা মেডিকেলে ৮ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। মৃত্যুর পর সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ চাঁদপুরে আনা হয় এবং বাড়ির পাশের মসজিদের সামনে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আমি প্রথমে ঢাকায় কাজ নেই এবং পরে ভাইদের একই কাজে যুক্ত করি। হান্নানের স্বপ্ন ছিল নিজের একটি ঘর বানানোর, কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ভাই হত্যার বিচার চেয়ে গত বছরের ২৪ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করি। আদালত ২ সেপ্টেম্বর বাড্ডা থানাকে মামলা রুজু করতে নির্দেশ দেন। মামলায় পুলিশের আইজিপিসহ ৮ কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।

বাবা আমিন মিয়া বলেন, শেষবার ছেলেকে দেখেছি গত কোরবানির ঈদে। সে ঢাকা থেকে গরু কিনে এনেছিল। সবার মধ্যে সেই ছিল সবচেয়ে আদরের সন্তান। আমার অসুস্থতা ও ওষুধের খরচ সব সে দিত।

মা রাশিদা বেগম বলেন, শেষবার ছেলের সঙ্গে কথা হয় ১৭ জুলাই। সে ফোন করে বাড়ির মাটি কাটার কাজের খবর নেয়। সবার খোঁজখবর নেয়। এখন আর আমার খোঁজ নেওয়ার কেউ রইল না। কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ছেলে শহীদ হওয়ার পর তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে থাকে। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই নানা রোগে আক্রান্ত। সরকারিভাবে কোনো সহায়তা পাইনি। প্রতি মাসে দুজনের ওষুধে ১০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়।

হান্নানের স্ত্রী মুক্তা বলেন, ১৮ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সর্বশেষ কথা হয়। তখন তিনি বেকারি থেকে বাসায় যাচ্ছিলেন। পরে জা জান্নাত বেগম থেকে জানতে পারি তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মৃত্যুর আগে তিনি জানতেন আমাদের কন্যা সন্তান হবে। তিনি বলেছিলেন মেয়েকে হাফিজিয়া মাদরাসায় পড়াতে হবে। আমি একা মেয়েকে বড় করতে পারব না। সরকারের সহযোগিতা দরকার। স্বামীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

চাচা আব্দুল মতিন বলেন, ভাতিজা হান্নান সামাজিকভাবে সক্রিয় ছিল, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য ছিল। মৃত্যুর পর মামলার কাজে আমি সহযোগিতা করেছি। হাজীগঞ্জের বিএনপি নেতা প্রকৌশলী মমিনুল হক আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত হান্নানের পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রথমে ২০ হাজার টাকা, পরে ২ লাখ টাকা, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা, বিএনপি নেতা প্রকৌশলী মমিনুল হকের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা, জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে ৫ লাখ টাকা এবং সর্বশেষ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র পেয়েছে।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।