মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

এখন আর আমার খোঁজ নেওয়ার কেউ রইল না, শহীদ হান্নানের মা

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মৈশামুড়া গ্রামের বড় বাড়ির আমিন মিয়ার ছেলে শহীদ হান্নান। গত বছরের ২০ জুলাই রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কাজ থেকে বাসায় ফেরার পথে পুলিশের গুলিতে আহত হন তিনি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ওই সময় তার স্ত্রী ছিলেন সন্তান সম্ভবা। মৃত্যুর দুই মাস পর জন্ম নেয় হান্নানের […]

এখন আর আমার খোঁজ নেওয়ার কেউ রইল না, শহীদ হান্নানের মা

এখন আর আমার খোঁজ নেওয়ার কেউ রইল না, শহীদ হান্নানের মা

নিউজ ডেস্ক

২৭ জুলাই ২০২৫, ১২:০৫

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মৈশামুড়া গ্রামের বড় বাড়ির আমিন মিয়ার ছেলে শহীদ হান্নান। গত বছরের ২০ জুলাই রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কাজ থেকে বাসায় ফেরার পথে পুলিশের গুলিতে আহত হন তিনি।

পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ওই সময় তার স্ত্রী ছিলেন সন্তান সম্ভবা। মৃত্যুর দুই মাস পর জন্ম নেয় হান্নানের একমাত্র কন্যা সন্তান উম্মে হানি। জন্মের পর থেকে সে মায়ের সঙ্গে নানা বাড়িতেই বড় হচ্ছে। বাবার মুখ দেখার সৌভাগ্য হয়নি তার।
শহীদ হান্নান জন্মগ্রহণ করেন ১৯৯২ সালের ৩০ জানুয়ারি। বাবা আমিন মিয়া (৯৫) ও মা রাশিদা বেগমের (৭৫) ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। ভাইদের মধ্যে বিল্লাল হোসেন (৫৫), ইমান হোসেন (৪৯), রফিক (৪৩), মান্নান (৪০) ও একমাত্র বোন বিউটি (৩৭)। বোন বিবাহিত ও গৃহিণী। ভাইদের চারজনই ঢাকার বিভিন্ন বেকারিতে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন। হান্নান পড়াশোনা করেছেন মৈশামুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত।

২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি হান্নান বিয়ে করেন বিবি হাওয়া মুক্তাকে (২০)। শ্বশুর ওমানপ্রবাসী মো. স্বপন (৫২) ও শাশুড়ি নাজমা বেগম (৪৫) গৃহিণী। মুক্তাদের গ্রামের বাড়ি একই উপজেলার কাশিমপুর উটনী গ্রামে। মুক্তার বড় বোন সুমাইয়া (২৫) বিবাহিত, ছোট বোন নুসরাত (১৫) নবম শ্রেণিতে পড়ে ও একমাত্র ভাই আহমেদ নাবিল (১০) মাদরাসায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র।

হান্নান ও তার ভাই রফিক ঢাকার মধ্য বাড্ডার পূর্বাঞ্চলের ৯ নম্বর রোডের ‘আপনজন বেকারি’তে বিক্রয়কর্মী ছিলেন। প্রথমে রফিক কাজ শুরু করেন, এরপর চার বছর আগে হান্নান যোগ দেন। বেকারির পাশে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় চারজন মিলে ভাড়া থাকতেন, সবাই একই প্রতিষ্ঠানের কর্মী।

হান্নানের বড় ভাই রফিক বলেন, প্রতিদিন ভোরে হান্নান আমার আগেই কাজে যেত। ঘটনার দিন ১৮ জুলাই ভোর সাড়ে ৬টায় হান্নান কাজে যায়। আমি আগে কাজ শেষ করে বাসায় এসে ঘুমাচ্ছিলাম। সকাল ১০টার দিকে তার রুমমেট রনি ফোন করে জানায়, বাড্ডা থানার সামনের ফুটওভারব্রিজের নিচে হান্নান গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাকে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই ভোর সাড়ে ৪টায় তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও বলেন, হান্নানের নাভির নিচে ডান পাশে গুলি লেগে অপর দিক দিয়ে বের হয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং কয়েক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়।

রফিকের স্ত্রী জান্নাত বলেন, হান্নান খুবই দানশীল ছিলেন। বিয়ের আগ থেকেই তার আয়ের একটি অংশ গরিবদের দান করতেন, যদিও তার মাসিক বেতন ছিল ২০-২৫ হাজার টাকা।

বড় ভাই ইমান হোসেন বলেন, হান্নানের নাভির নিচে গুলি লেগে রক্তক্ষরণ হয়। তাকে ঢাকা মেডিকেলে ৮ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। মৃত্যুর পর সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ চাঁদপুরে আনা হয় এবং বাড়ির পাশের মসজিদের সামনে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আমি প্রথমে ঢাকায় কাজ নেই এবং পরে ভাইদের একই কাজে যুক্ত করি। হান্নানের স্বপ্ন ছিল নিজের একটি ঘর বানানোর, কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ভাই হত্যার বিচার চেয়ে গত বছরের ২৪ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করি। আদালত ২ সেপ্টেম্বর বাড্ডা থানাকে মামলা রুজু করতে নির্দেশ দেন। মামলায় পুলিশের আইজিপিসহ ৮ কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।

বাবা আমিন মিয়া বলেন, শেষবার ছেলেকে দেখেছি গত কোরবানির ঈদে। সে ঢাকা থেকে গরু কিনে এনেছিল। সবার মধ্যে সেই ছিল সবচেয়ে আদরের সন্তান। আমার অসুস্থতা ও ওষুধের খরচ সব সে দিত।

মা রাশিদা বেগম বলেন, শেষবার ছেলের সঙ্গে কথা হয় ১৭ জুলাই। সে ফোন করে বাড়ির মাটি কাটার কাজের খবর নেয়। সবার খোঁজখবর নেয়। এখন আর আমার খোঁজ নেওয়ার কেউ রইল না। কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ছেলে শহীদ হওয়ার পর তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে থাকে। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই নানা রোগে আক্রান্ত। সরকারিভাবে কোনো সহায়তা পাইনি। প্রতি মাসে দুজনের ওষুধে ১০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়।

হান্নানের স্ত্রী মুক্তা বলেন, ১৮ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সর্বশেষ কথা হয়। তখন তিনি বেকারি থেকে বাসায় যাচ্ছিলেন। পরে জা জান্নাত বেগম থেকে জানতে পারি তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মৃত্যুর আগে তিনি জানতেন আমাদের কন্যা সন্তান হবে। তিনি বলেছিলেন মেয়েকে হাফিজিয়া মাদরাসায় পড়াতে হবে। আমি একা মেয়েকে বড় করতে পারব না। সরকারের সহযোগিতা দরকার। স্বামীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

চাচা আব্দুল মতিন বলেন, ভাতিজা হান্নান সামাজিকভাবে সক্রিয় ছিল, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য ছিল। মৃত্যুর পর মামলার কাজে আমি সহযোগিতা করেছি। হাজীগঞ্জের বিএনপি নেতা প্রকৌশলী মমিনুল হক আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত হান্নানের পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রথমে ২০ হাজার টাকা, পরে ২ লাখ টাকা, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা, বিএনপি নেতা প্রকৌশলী মমিনুল হকের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা, জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে ৫ লাখ টাকা এবং সর্বশেষ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র পেয়েছে।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।