ফয়সাল আহমাদ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের শ্রীপুরে এসএসসি পরীক্ষায় কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব অবহেলার কারণে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ৭৩ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হবার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনা ঘটেছে শ্রীপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে।
জানা যায়, ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার কারিগড়ি বোর্ডের ভোকেশনাল শাখার পরীক্ষা শ্রীপুর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় এ্যাপারেল ম্যান্যুফেকচারিং বেসিক-২ এবং ড্রেসমেকিং বিষয়ে ৭৩ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
শ্রীপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ২২ জন, জৈনাবাজার আদর্শ কারিগড়ি স্কুলের ১২ জন, পেলাইদ আদর্শ বিদ্যালয়ের ২০জন, তেলিহাটি উচ্চবিদ্যালয়ের ১২ জন,শ্রীপুর কারিগড়ি স্কুলের ৭ জন।
রবিবার(১৩ জুলাই) সকাল থেকে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীরা শ্রীপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান করছে।
পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, আমরা সকলে ভালো পরীক্ষা দিয়েছি। গত দশ জুলাই পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখি আমাদের সকল বিষয়ে ভালো রেজাল্ট হয়েছে। এক মাত্র এ্যাপারেল ম্যান্যুফেকচারিং বেসিক-২ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছি।
এবিষয়ে লিখিত পরীক্ষা হয় ৬০ নম্বরের। ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর ৪০। আমরা সকলে লিখিত পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেয়েছি। ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের জন্য আমরা অকৃতকার্য হয়েছি।
পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তানজিল,তামান্না,অনি ও সুমনা সহ পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলে, আমরা সঠিক ভাবে পরীক্ষা দিয়েছি। রেজাল্ট হবার পর দেখি আমরা ফেল। আমরা পদার্থ, রসায়ন এবং গণিতে ভালো নাম্বার পেয়েছি তাহলে ব্যবহারিকে কিভাবে ফেল করলাম? পরীক্ষার কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব অবহেলার কারণে আমাদের ফল বিপর্যয় হয়েছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।
এক পরীক্ষার্থীর মা অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে ফেল করার কারণে ঘরে দরজাবন্ধ করে আত্নহত্যার চেষ্টা করেছে। আজকে যদি আমার মেয়ে মারা যেত তাহলে তো আমি মেয়ে হারাইতাম। তাদের ভুলের কারণে আজকে আমার মেয়ের এ অবস্থা। এখন মেয়েকে নিয়ে টেনশনে আছি।
তিনি আরো বলেন, ফল প্রকাশের পর থেকে আমরা কেন্দ্র সচিবের সাথে যোগাযোগ করে ও কোন প্রতিকার পাইনি।
পেলাইদ আদর্শ কারিগরি স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট মো. কামরুল হাসান জানান, পরীক্ষার রেজাল্ট দেখে আমি হতবাক হয়েছি। আমার স্কুলের ২০ জন পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তাদের ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর জমা দেয়া হয়নি। পরীক্ষা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে এমনটি ঘটেছে বলে আমি মনে করি।
শ্রীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব শাহানাজ পারভীন টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পরীক্ষার্থীদের কাছে কোন টাকা চাওয়া হয়নি। ব্যবহারিক নম্বর পাঠানো হয়েছে। বোর্ডের সার্ভারে সমস্যার কারণে হয়তো নম্বর জমা হয়নি। আমরা বোর্ডে যোগাযোগ করেছি। বিষয়টি সমাধান হতে পাড়ে।
শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জানার পর পরই বোর্ডে লোক পাঠানো হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখছি কেন্দ্রে কারো দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে কিনা। যদি থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।