বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

সৎ মা ইস্যুতে ফেঁসে যাচ্ছেন অভিনেত্রী শাওন

অভিনেত্রী শাওনের সৎ-মা নিশি ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা, বলপ্রয়োগ করে টাকা আদায় ও ভীতি প্রদর্শনের অপরাধে করা মামলায় অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। এই মামলায় আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে ১৯ মার্চ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ। অব্যাহতি চাওয়া আসামিদের মধ্যে নিশি ইসলাম ছাড়াও তার সাবেক স্বামী আল মাহফুজ খান রয়েছেন। পাশাপাশি আসামিদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে […]

সৎ মা ইস্যুতে ফেঁসে যাচ্ছেন অভিনেত্রী শাওন

সৎ মা ইস্যুতে ফেঁসে যাচ্ছেন অভিনেত্রী শাওন

নিউজ ডেস্ক

১৫ জুন ২০২৫, ১১:১৩

অভিনেত্রী শাওনের সৎ-মা নিশি ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা, বলপ্রয়োগ করে টাকা আদায় ও ভীতি প্রদর্শনের অপরাধে করা মামলায় অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। এই মামলায় আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে ১৯ মার্চ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ। অব্যাহতি চাওয়া আসামিদের মধ্যে নিশি ইসলাম ছাড়াও তার সাবেক স্বামী আল মাহফুজ খান রয়েছেন। পাশাপাশি আসামিদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা করায় মামলার বাদী অভিনেত্রী শাওনের বোন মাহিন আফরোজ শিঞ্জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাড্ডা থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) কাজী ইকবাল হোসেন বলেন, মামলাটি সার্বিক তদন্তকালে প্রাপ্ত তথ্য, সাক্ষ্যপ্রমাণ, আনুষঙ্গিক কাগজপত্র পর্যালোচনা এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় দেখা যায় যে, এ মামলার এজাহারনামীয় আসামি মোছা. নিশি ইসলাম এবং আল মাহফুজ খানের বিরুদ্ধে বাদীর আনীত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে।

তদন্তে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে, আমি বিবাদীদের মামলার দায় হতে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানাই। সেই সঙ্গে বাদিনী মাহিন আফরোজ শিঞ্জন হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা করায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানাচ্ছি।

আদালতের বাড্ডা থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই জারি হোসেন বলেন, এ মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। বাদীর প্রতি নোটিশ ইস্যু করেছেন আদালত। ১০ জুলাই মামলার পরবর্তী তারিখ ঠিক করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনের বোন মাহিন আফরোজ শিঞ্জন বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় এ মামলাটি করেন। মামলায় নিশি ইসলাম ও আল মাহফুজ খানকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে মাহিন আফরোজ শিঞ্জন বলেন, তার বাবা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী একজন সুপরিচিত ব্যবসায়ী। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে নিশি ইসলাম (২৯) ও আল মাহফুজ খান (২৪) নামের দুই ব্যক্তি তার বাবার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগ শুরু করেন। তারা নিজেদের ভাই-বোন পরিচয় দিয়ে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে এবং বিভিন্ন সময় দেখা করার নাম করে তার বাবাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান।

পরে ২১ ফেব্রুয়ারি দুই ব্যক্তি উত্তর বাড্ডার পদ্মা গার্ডেন এলাকার একটি বাসায় তার বাবাকে ডেকে নেন। ওই সময় নিশি ইসলাম তার বাবাকে জোর করে বিয়েতে রাজি করান এবং হুমকি দেন, বিয়ে না করলে সমাজে অপমানজনক মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেবে। ভয়ে এবং সামাজিক সম্মানের কথা ভেবে ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হন। সেদিনই একটি রেজিস্ট্রার বইয়ের মতো কাগজে জোর করে স্বাক্ষরও করানো হয়।

পরবর্তীতে বাদী খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, নিশি ইসলাম ও আল মাহাফুজ আসলে স্বামী-স্ত্রী এবং একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। তারা বিভিন্ন সময় সমাজের সম্মানিত ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের টার্গেট করে মিথ্যা পরিচয়ে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলে এবং পরে বিয়ে ও মান-সম্মানের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে। এ মামলায় পুলিশ নিশি ইসলামকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করে।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, নিশি ইসলাম ও আল মাহফুজ খান পূর্বে সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী থাকলেও তাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় ২৩ সালের ৫ মে তাদের স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়। অপরদিকে ভিকটিম ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী স্বেচ্ছায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ইচ্ছে পোষণ করলে ম্যারেজ মিডিয়ার মাধ্যমে নিশি ইসলামের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুবাধে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। তারা উভয়ের সম্মতিক্রমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুযায়ী হাস্যোজ্জ্বল পরিবেশে ২০২৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পরস্পর নিকাহনামায় স্বাক্ষর করেন এবং উচ্চ আওয়াজে ‘আলহামদুলিল্লাহ কবুল’ বলে বিবাহের কাজ সম্পন্ন করেন।

এছাড়া মামলার এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী বিকাশ স্টেটমেন্ট পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, বাদিনীর অভিযোগের তথ্যানুযায়ী বিবাদীরা ইঞ্জি. মোহাম্মদ আলীকে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে চাঁদা দাবি ও ১ লাখ টাকা চাঁদা গ্রহণের বিষয়টির সত্যতাও প্রমাণিত হয়নি।

এ মামলার সাক্ষী মান্নাক আফরোজ সেঁজুতি বাদীর বোন এবং সাক্ষী হাসানুজ্জামান বাদীর বন্ধু হওয়ায় তারা বাদীর কাছ থেকে শোনা তথ্যের ভিত্তিতে এজাহারের পক্ষে জবানবন্দি প্রদান করলেও, প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য ও প্রাপ্ত ডকুমেন্ট বিশ্লেষণে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হয়েছে বলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই কাজী ইকবাল হোসেন বলেন, এ বাদীর অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি।

এ বিষয়ে মামলার বাদী অভিনেত্রী শাওনের বোন মাহিন আফরোজ শিঞ্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটা একটা কোর্ট প্রসিডিউর। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করতে চাচ্ছি না। মামলায় চার্জশিট দিয়েছে নাকি ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছে এটা আদালত আমাদের বলবে, আদালতের সঙ্গে এটা আমাদের বিষয়। সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।

এদিকে এ ঘটনায় চলতি বছরের ১৩ মার্চ ভুক্তভোগী নিশি ইসলাম হত্যাচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে শাওনসহ ১২ জনকে আসামি করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ২২ এপ্রিল উভয়পক্ষকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য সমন জারি করেছিলেন।

এ মামলার আসামিরা হলেন-মেহের আফরোজ শাওনের বাবা ইঞ্জিনিয়ার মো. আলী, মেহের আফরোজ শাওন, তার বোন মাহিন আফরোজ শিঞ্জন ও সেঁজুতি, শিঞ্জনের স্বামী সাব্বির, এডিসি নাজমুল, সুব্রত দাস, মাইনুল হোসেন, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ, পুলিশ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, উপ-পরিদর্শক শাহ আলম ও মো. আলীর ভাগনে মোখলেছুর রহমান মিল্টন।

পুলিশ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ও উপ-পরিদর্শক শাহ আলম ২২ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন এবং বাকি দশ আসামি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

পরবর্তীতে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ মামলার আসামি অভিনেত্রী ও গায়িকা মেহের আফরোজ শাওন, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদসহ ১২ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। ১ জুলাই এ মামলার পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।

মামলার বাদী নিশি ইসলাম বলেন, আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে, জেল খাটানো হয়েছে। আমি তাদের সবার শাস্তি দাবি করি।

বিষয়ঃ

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।