সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

সীমান্তে রক্তঝরা এক দশক: বিএসএফের গুলিতে ৩০৫ বাংলাদেশি নিহত, মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে উদ্বেগ

সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:     ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলি ও নির্যাতনে ৩০৫ জন বাংলাদেশি নিহত এবং ২৮২ জন আহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা সীমান্তে নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের নাজুক চিত্র ফুটে তুলেছে ।   এইচআরএসএসের […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২০ এপ্রিল ২০২৫, ১৩:৪৯

সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:    

২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলি ও নির্যাতনে ৩০৫ জন বাংলাদেশি নিহত এবং ২৮২ জন আহত হয়েছেন।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা সীমান্তে নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের নাজুক চিত্র ফুটে তুলেছে ।  

এইচআরএসএসের তথ্যানুযায়ী, গত দশকে সর্বোচ্চ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ২০২০ সালে (৫১ জন নিহত), এরপর ২০১৫ (৪৩ জন) এবং ২০১৯ সালে (৪২ জন)। নিচের টেবিলে বছরে হতাহতের বিস্তারিত চিত্র: 

 | বছর  | নিহত | আহত

|——–|——-|——-|

| ২০১৫ | ৪৩  | ৫৪  |

| ২০১৬ | ২৮  | ২৮  |

| ২০১৭ | ৩০  | ৩৭  |

| ২০১৮ | ১৫  | ১২  |

| ২০১৯ | ৪২  | ২৫  |

| ২০২০ | ৫১  | ২৫  |

| ২০২১ | ১৭  | ১৪  |

| ২০২২ | ২৩  | ৩১  |

| ২০২৩ | ৩০  | ৩১  |

| ২০২৪ | ২৬  | ২৫  |  

২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসেই ইতিমধ্যে ৪ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হওয়ার খবর নথিভুক্ত হয়েছে।  

হত্যাকাণ্ডের পিছনে কারণ

১. শ্যুট-অন-সাইট নীতি: বিএসএফের বিতর্কিত “দেখামাত্র গুলি” নীতি প্রধান কারণ। এই নীতির অজুহাতে নিরস্ত্র কৃষক, গবাদি পশু ব্যবসায়ী এবং সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

২. চোরাচালান ও অর্থনৈতিক সংকট: ৯০% হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিরা গরু পাচার বা দারিদ্র্যের কারণে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

৩. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা: ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সীমান্ত পারাপারের চেষ্টা বেড়ে যাওয়ায় বিএসএফের কঠোরতা বৃদ্ধি পায়।

৪. জবাবদিহিতার অভাব: বিএসএফ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, যা তাদের স্বেচ্ছাচারিতাকে উৎসাহিত করে।  

ভৌগোলিক বৈষম্য ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল

রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ: সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এখানে। ২০২০-২০২৪ সালে রংপুরে ৬১ জন নিহত হন।  

লালমনিরহাট জেলা: গত পাঁচ বছরে ১৯ জন নিহত হওয়ায় এটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেলা।  

অরক্ষিত সীমান্ত: যেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই (যেমন যশোরের বেনাপোল), সেখানে হামলার ঘটনা বেশি।  

দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও ব্যর্থতা

২০১৮ সালের চুক্তিতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পতাকা বৈঠক ও কূটনৈতিক আলোচনা সত্ত্বেও বিএসএফের গুলিবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। 

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) মতে, ২০০৯-২০২৪ সালে ৬০৭ জন বাংলাদেশি বিএসএফের হাতে প্রাণ হারান।  

মানবাধিকার সংস্থার প্রতিক্রিয়া ও সুপারিশ এইচআরএসএস: সব হত্যাকাণ্ডের স্বাধীন তদন্ত ও আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়েরের আহ্বান।  

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ: বিএসএফের “অত্যধিক বলপ্রয়োগ” নীতির নিন্দা এবং ভারতের আইনের শাসন নিশ্চিত করার দাবি। 

বিশেষজ্ঞ মতামত: সীমান্তে অহিংস পদ্ধতি (যেমন রাবার বুলেট) প্রয়োগ এবং স্থানীয় জনগণের সাথে সমন্বয় বাড়ানোর পরামর্শ।  

সম্ভাব্য সমাধানের পথ

১. শ্যুট-অন-সাইট নীতি বাতিল: নিরস্ত্র নাগরিকদের লক্ষ্য করে গুলি বন্ধ করতে হবে।  

২. দ্বিপক্ষীয় তদন্ত কমিটি গঠন: প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা।  

৩. সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন: কাঁটাতারের বেড়া ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে নজরদারি বৃদ্ধি।  

৪. আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা: জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপ কাম্য।  

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যাকাণ্ড কেবল সংখ্যায় নয়, মানবিক ও কূটনৈতিক সংকট হিসেবেও উদ্বেগজনক। দুই দেশের সরকারের জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে এই রক্তপাত বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

প্রতিটি প্রাণহানির পেছনে যে মানবিক ট্র্যাজেডি লুকিয়ে আছে, তা বিবেচনায় এনে ন্যায়বিচার ও স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।