সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

ড. ইউনূসের বড় সাফল্য দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রণ, জনমনে আশার সঞ্চার

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাত মাসের মধ্যে দুটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য জনগণের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। একদিকে অনিয়ন্ত্রিত দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, যা মাহে রমজানের শুরু থেকেই কার্যকর হয়েছে। অন্যদিকে, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর মাধ্যমে পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখে দেওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনের পর থেকে দেশের […]

ড. ইউনূসের বড় সাফল্য দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রণ, জনমনে আশার সঞ্চার

ছবি: সংগৃহিত

নিউজ ডেস্ক

০৫ মার্চ ২০২৫, ২৩:৫১

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাত মাসের মধ্যে দুটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য জনগণের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। একদিকে অনিয়ন্ত্রিত দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, যা মাহে রমজানের শুরু থেকেই কার্যকর হয়েছে। অন্যদিকে, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর মাধ্যমে পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখে দেওয়া হয়েছে।

দুই সপ্তাহ আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনের পর থেকে দেশের জেলা প্রশাসকরা নিজ নিজ জেলায় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছেন। এ অভিযান দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং জনজীবনে স্বস্তি ফেরানোর ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ভূমিকা রেখেছে। বাজার তদারকির পাশাপাশি চালানো হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত, আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনী পরিচালনা করছে ‘ডেভিল হান্ট’ অপারেশন।

তিন দিনের জেলা প্রশাসক সম্মেলন শেষে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের প্রথম দুইটি চ্যালেঞ্জকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন—রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই দুই ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ দৃশ্যমান সফলতা এনেছে।

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট রমজানের বাজারকে অস্থিতিশীল করার মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। পাশাপাশি, চুরি-ডাকাতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করেছিল তারা। অন্তর্বর্তী সরকার জেলা প্রশাসক সম্মেলনে এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেয়, যার পর জেলা প্রশাসকরা দেশব্যাপী দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক অভিযান শুরু করেন এবং এখনও তা অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম জানান, আড়তদার ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের আইন শক্তিশালী, না কি মজুতদার ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী—এই চ্যালেঞ্জ আমরা নিতে চাই। রমজানের আগে ব্যবসায়ীদের চার দফা বৈঠকে সতর্ক করেছি। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হয়েছে। তাই বাণিজ্যিক রাজধানী খাতুনগঞ্জে অভিযান চালানো হয়েছে। ব্যবসায়ীরা ঘোষণা দিয়েছেন, ১৬০ টাকা দরে তারা সয়াবিন তেল বিক্রি করবেন। সিন্ডিকেটের কেউ পার পাবে না, প্রয়োজনে আইনের আওতায় এনে জেলে পাঠানো হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এ পর্যন্ত ৪০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছি, রমজানে আরও ৪০০টি পরিচালনার পরিকল্পনা আছে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।”

প্রধান উপদেষ্টার দিকনির্দেশনায় অনুপ্রাণিত হয়ে জেলা প্রশাসকরা কঠোরভাবে মাঠ প্রশাসন পরিচালনা করছেন। সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “সরকারকে যদি একটি দল হিসেবে দেখা হয়, তাহলে এটি একটি টিম। আমি প্রধান অতিথি নই, এই টিমের একজন লিডার বা ক্যাপ্টেন। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারাই নিজ নিজ জেলায় সরকারের প্রতিনিধি।”

একজন জেলা প্রশাসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা জেলার দায়িত্ব পালন করলেও প্রশাসনের মধ্যম স্তরের কর্মকর্তা। কিন্তু বিশ্বের কাছে সমাদৃত একজন নোবেল বিজয়ী ও অর্থনীতির অধ্যাপককে আমাদের দেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে পাওয়া আমাদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। তার সম্মান রক্ষায় আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রমজান মাসের বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া, চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে। ডিসি সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আড়তদার ও মজুতদার সিন্ডিকেট ধ্বংস, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে স্পষ্ট ভাষায় রাষ্ট্র সংস্কার ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে জনগণের চাহিদার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।” বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারা এবং নীতিনির্ধারকরা সংস্কার, বৈষম্যের অবসান, জাতীয় ঐক্য, দুর্নীতিমুক্ত সমাজব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

জেলা প্রশাসকরা মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছিল। তবে প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও শক্ত অবস্থানের ফলে সেই চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে।

সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস। সংস্থাটির সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, “সরকারের কঠোর পদক্ষেপ ইতিবাচক। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে, যা আগামী দিনে বাংলাদেশকে স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে নেবে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে বাংলাদেশের মর্যাদা বিশ্ব দরবারে আরও উঁচুতে উঠবে।”

ইতোমধ্যে সরকারের নানা উদ্যোগের মধ্যে পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন বাতিল, জুলাই শহীদদের স্বীকৃতি প্রদান ও জুলাই যোদ্ধাদের মর্যাদা নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম পর্বের কার্যক্রম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সামনের দিনে সরকার যদি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়, তবে জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও টেকসই হবে।

খবর বাসস

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।