শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

দুই মাসব্যাপী প্ল্যান্ট ডক্টর কোর্স সম্পন্ন

শেকৃবি প্রতিনিধি: আধুনিক কৃষিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ই-কৃষি ক্লিনিক আয়োজিত দুই মাসব্যাপী প্ল্যান্ট ডক্টর কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪:৩০টায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কনফারেন্স রুমে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কোর্সের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এ অনুষ্ঠানে বিশেষ ভূমিকা রাখে ইস্পাহানি এগ্রো লিমিটেড। সমাপনী অনুষ্ঠানের আগে দুপুর ২টায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য ফিল্ড […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ২১:০৯

শেকৃবি প্রতিনিধি:

আধুনিক কৃষিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ই-কৃষি ক্লিনিক আয়োজিত দুই মাসব্যাপী প্ল্যান্ট ডক্টর কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪:৩০টায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কনফারেন্স রুমে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কোর্সের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এ অনুষ্ঠানে বিশেষ ভূমিকা রাখে ইস্পাহানি এগ্রো লিমিটেড।

সমাপনী অনুষ্ঠানের আগে দুপুর ২টায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য ফিল্ড ট্যুর আয়োজন করা হয়, যেখানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ঢাকা কৃষি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের (এটিআই) শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এতে শিক্ষার্থীরা মাঠ পর্যায়ে উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব, নিরাপদ কৃষি চর্চা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেকৃবির প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ই-কৃষি ক্লিনিকের এডভাইজার ও শেকৃবির উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আবু নোমান ফারুক আহম্মেদ, ইস্পাহানি এগ্রো লিমিটেডের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক তৌহিদ ইসলাম এবং ই-কৃষি ক্লিনিকের চীফ অপারেটিং অফিসার কৃষিবিদ আফরা নাওয়ার।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ই-কৃষি ক্লিনিকের চীফ এডভাইজার ও শেকৃবির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোঃ সোলায়মান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কৃষিবিদ মোঃ মেরাজ হোসেন।

অনুষ্ঠানে ই-কৃষি ক্লিনিকের চীফ এডভাইজার ড. সোলায়মান এবং এডভাইজার অধ্যাপক আবু নোমান ফারুক আহম্মেদকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া শেকৃবির অনামিকা আক্তারকে ‘বেস্ট ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসাডর’ হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. বেলাল হোসেন বলেন,

“কৃষিতে ইন্টার্নশিপ অত্যন্ত জরুরি। ই-কৃষি ক্লিনিক সে অভাব পূরণের চেষ্টা করছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আমরা ইন্টার্নশিপ চালুর উদ্যোগ নিয়েছি, আশা করি শীঘ্রই এটি বাস্তবায়ন করা হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে ড. সোলায়মান বলেন,

“তরুণরা চাকরি করবে নাকি চাকরি দেবে, সে সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। ই-কৃষি ক্লিনিকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষ করে তুলছে এবং অন্যদের জন্য সুযোগ তৈরি করছে, যা কৃষি খাতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ।”

ই-কৃষি ক্লিনিকের কো-ফাউন্ডার কৃষিবিদ মোঃ মমিন সরকার জানান, “দক্ষ কৃষিবিদ গড়ে তুলতে বড় বাধা হলো ইন্টার্নশিপের অভাব। এতে শিক্ষার্থীরা চাকরির ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে এবং কৃষক পর্যায়েও পর্যাপ্ত সেবা পৌঁছাচ্ছে না। তাই পাবলিক ও প্রাইভেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং এটিআই শিক্ষার্থীদের জন্য এ কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই দুই মাসব্যাপী কোর্সে ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ কোর্সে ১৪টি ফসল, বালাইনাশক ব্যবস্থাপনা, সার প্রয়োগ, গ্লোবাল গ্যাপ ও নিরাপদ কৃষি চর্চা নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ১২ জন দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।”

কৃষিতে ইন্টার্নশিপের অভাবের কারণে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা তাদের কর্পোরেট চাকরি ও মাঠ পর্যায়ের বাস্তব কাজ উভয় ক্ষেত্রেই পিছিয়ে দিচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ‘প্ল্যান্ট ডক্টর কোর্স’ চালু করা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা অনলাইন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সরাসরি মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে একদল তরুণ কৃষিবিদের নেতৃত্বে ‘ফসল আপনার, দায়িত্ব আমাদের’ স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ই-কৃষি ক্লিনিক। নিরাপদ কৃষি চর্চা ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে এ প্রতিষ্ঠান। প্ল্যান্ট ডক্টর কোর্সসহ নানাবিধ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে ই-কৃষি ক্লিনিক।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।