বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

হারানোর পথে আপনার অমূল্য আমানত

আপনার জীবনে যে সম্পর্কটি চলে আসছে, তা নিয়ে আজ কিছু কথা বলতে চাই। হয়ত আপনি খুব বড় এক দ্বিধা- দ্বন্দ্বের মধ্যে আছেন। আপনি ভাবছেন, যদি এই সম্পর্কটি ভেঙে দেন, তাহলে তার মন ভেঙে যাবে, এবং আপনি তাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করলেও বারবার তার আকুতি এবং আবেগপূর্ণ কথাগুলো আপনার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। সে হয়ত আপনাকে […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জানুয়ারী ২০২৫, ১৯:২৬

আপনার জীবনে যে সম্পর্কটি চলে আসছে, তা নিয়ে আজ কিছু কথা বলতে চাই। হয়ত আপনি খুব বড় এক দ্বিধা- দ্বন্দ্বের মধ্যে আছেন। আপনি ভাবছেন, যদি এই সম্পর্কটি ভেঙে দেন, তাহলে তার মন ভেঙে যাবে, এবং আপনি তাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করলেও বারবার তার আকুতি এবং আবেগপূর্ণ কথাগুলো আপনার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। সে হয়ত আপনাকে বলেছিল, আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না, আমাকে কখনো ছেড়ে যেও না। আপনি একদিকে তার মন ভেঙে যাওয়ার চিন্তা করছেন, আর অন্যদিকে আপনি জানেন, এই সম্পর্কটি আদতে হারাম, যা আপনার ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে যায় না।

তবে আমি চাই, আপনি একটু ভেবে দেখুন। আপনি তার বাঁচা-মরা নিয়ে চিন্তা করছেন, কিন্তু আপনি কি কখনো এই বিষয়টি ভেবেছেন যে, আপনি যে রবের অনুগ্রহে বেঁচে আছেন, তার জন্য আপনার কতটা কৃতজ্ঞতা রয়েছে? আপনি তাকে ছেড়ে দিতে চিন্তিত, অথচ আপনি জানেন, তার মন রক্ষা করতে গিয়ে আপনি নিজের রবের মন ভেঙে দিচ্ছেন। আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, আপনি আপনার রবের আমানতকে কীভাবে খেয়ানত করছেন?

আপনি জানেন, আপনার দিবারাত্রির পাহারায় যে ফেরেশতাগুলি নিয়োজিত, তারা আপনার অসংগত আচরণের জন্য আপনাকে অভিশাপ দিতে থাকে। আপনি যখন হারাম সম্পর্কের মাঝে বিশ্বাস রক্ষা নিয়ে চিন্তা করেন, তখন ভুলে যাবেন না, সেই এক অদৃশ্য রবের উপর বিশ্বাস রেখেই আপনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন, এবং আপনাকে হালাল ও হারামের সীমানা বুঝিয়েছেন। এখন আপনি কীভাবে তাঁর আদেশের বিরুদ্ধে গিয়ে এই সম্পর্কটি ধরে রাখতে পারেন?

এখন কিছু বিষয়ে গভীরভাবে ভাবুন। আপনি নিজেই আপনার রবের আমানত। আপনি কি কখনো ভেবেছেন, কীভাবে নিজের আমানতকে হারাম সম্পর্কের জন্য খেয়ানত করছেন? কীভাবে আপনি নিজের আবেগের কাছে হারিয়ে গিয়ে, আল্লাহর ভালোবাসাকে উপেক্ষা করছেন? অথচ আল্লাহ তায়ালা আপনাকে আশরাফুল মাখলুকাত বানিয়েছেন—এটা কি আপনি অনুভব করেন না? আল্লাহ তায়ালা যদি চান, তো আপনাকে তিনি অন্য কোনো প্রাণীও বানাতে পারতেন। কিন্তু তিনি আপনাকে সুন্দর রূপ, বিবেক, বুদ্ধি দিয়েছেন, আপনাকে সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে তৈরি করেছেন।

যদি আপনি সত্যিই অনুভব করতে পারেন, আল্লাহ তায়ালা আপনাকে কতটা ভালোবাসেন, তাহলে এখনই সময় এসেছে, এমন হারাম সম্পর্কের সীমা টেনে দেয়াল তুলে দিয়ে, আপনার রবের দিকে ফিরে আসার। কখনো ভাববেন না, ওই মানুষের অভিশাপ আপনার জীবনে নেমে আসবে। আপনি যদি আপনার জীবনের মালিক—আল্লাহ তায়ালাকে সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হন, তবে আপনি দেখবেন, পুরো পৃথিবী আপনার পায়ের তলায় পড়বে। যে সম্পর্কের ভিত্তি হারামের ওপর, তার বিশ্বাস রক্ষা করার চিন্তা করাও হারাম ।

মনে রাখুন, আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ ছাড়া পৃথিবীতে কিছুই সম্ভব নয়। মানুষের কাছে যদি ক্ষমা না মেলে, আল্লাহ তায়ালা কিন্তু কখনোই আপনাকে একা ছেড়ে দেবেন না। তাঁর ভালোবাসা, দয়া, এবং রহমত কখনো বন্ধ হয় না। আপনি যদি আল্লাহর পথে ফিরে আসেন, তিনি আপনাকে এক মুহূর্তের জন্যও একা ছেড়ে দিবেন না।

প্রিয় ভাই/বোন, আল্লাহর পথে ফিরে আসুন এবং আপনার জীবনের উদ্দেশ্য নতুন করে খুঁজে নিন। আপনার সম্পর্ক আল্লাহর সাথে মজবুত করুন, আর জান্নাতের পথে চলুন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে তাঁর সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন।
আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক অমূল্য হাদিস দিয়েছেন, যা আমাদের জন্য এক মহান গাইডলাইন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের জিহ্বা ও লজ্জাস্থান হেফাজত করবে, আমি তার জান্নাতের জিম্মাদার হবো।
আল্লাহ আমাদের হেদায়েত দিন, আমাদের সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে গ্রহণ করার তৌফিক দান করুন, ও আমাদের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ দেখান।

ইসলাম ও জীবন

সৌদিতে চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা শুরু

সৌদি আরবে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশটির সরকার পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলেছে, চাঁদের দেখা মেলায় কাল বুধবার প্রথম রোজা হবে। ‘হারামাইন’ নামে ওয়েবসাইট থেকে বলা হয়েছে, “সৌদি আরবে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্ধচন্দ্রের দেখা মিলেছে। ফলে আজ রাত থেকে ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র রমজান মাস শুরু।” “তারা […]

সৌদিতে চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা শুরু

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৮

সৌদি আরবে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশটির সরকার পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলেছে, চাঁদের দেখা মেলায় কাল বুধবার প্রথম রোজা হবে।

‘হারামাইন’ নামে ওয়েবসাইট থেকে বলা হয়েছে, “সৌদি আরবে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্ধচন্দ্রের দেখা মিলেছে। ফলে আজ রাত থেকে ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র রমজান মাস শুরু।”

“তারা আরও বলেছে, মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সিয়াম, কিয়াম এবং ইবাদত কবুল করুক। এবং তিনি যেন আমাদের এই বরকতময় মাসের মূল্যবান মুহূর্তগুলোকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের কাজে ব্যয় করার তাওফিক দান করেন। আমীন।”

ইসলাম ও জীবন

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারির পর এবার বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। হিটলারের প্রশংসা, ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্রবাদী প্রচারণার অভিযোগে আজহারিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পরেই অস্ট্রেলিয়া সরকার শায়খ আহমদুল্লাহর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা […]

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

নিউজ ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৯

জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারির পর এবার বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

হিটলারের প্রশংসা, ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্রবাদী প্রচারণার অভিযোগে আজহারিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পরেই অস্ট্রেলিয়া সরকার শায়খ আহমদুল্লাহর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নিলো।

খবরে জানা গেছে, সিডনি বিমানবন্দর দিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তার ভিসা বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে।

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলেথওয়েট এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইহুদিবিদ্বেষী বা ইসলামোফোবিক বক্তব্যকারীদের প্রতি অস্টেলিয়া সরকারের কোনো সহনশীলতা নেই।

এ ছাড়া ডেইলি টেলিগ্রাফ শায়খ আহমদুল্লাহর ভিসা বাতিলের খবর নিয়ে প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, শায়খ আহমদুল্লাহ অতীতে ইহুদিদের ঘৃণ্য বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার জন্য ইহুদিদের দায়ী করেন।

(আইপিডিসি)-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে শায়খ আহমদুল্লাহ সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। সফরের অংশ হিসেবে তিনি প্রথমে মেলবোর্নে পৌঁছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দেন।

মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া
তার ৩ এপ্রিল মেলবোর্নের আল-তাকওয়া কলেজ, ৪ এপ্রিল সিডনির ডায়মন্ড ভেন্যুতে প্রধান কনভেনশন, ৬ এপ্রিল ক্যানবেরার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, ১০ এপ্রিল অ্যাডিলেডের উডভিল টাউন হল এবং ১১ এপ্রিল পার্থে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার কথা ছিল।

তবে এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার আগেই আজহারির মতো তাকেও অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে হলো।

ইসলাম ও জীবন

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ, ইসলামের প্রথম বিজয়

রমজানের নীরব আকাশের নিচে ইতিহাসের কিছু দিন এমন আছে, যেগুলো কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, বরং একটি জাতির আত্মপরিচয়ের দীপ্ত অধ্যায়। মুসলিম ইতিহাসে তেমনই এক দিন বদর দিবস। মরুপ্রান্তরের এক অনাড়ম্বর ভূমিতে সংঘটিত সেই ঘটনাটি কেবল একটি যুদ্ধের কাহিনি নয়, এটি ঈমানের দৃঢ়তা, নৈতিক সাহস এবং আল্লাহর উপর অবিচল আস্থার এক অনন্য দলিল। হিজরি দ্বিতীয় […]

নিউজ ডেস্ক

০৭ মার্চ ২০২৬, ১৩:২২

রমজানের নীরব আকাশের নিচে ইতিহাসের কিছু দিন এমন আছে, যেগুলো কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, বরং একটি জাতির আত্মপরিচয়ের দীপ্ত অধ্যায়।

মুসলিম ইতিহাসে তেমনই এক দিন বদর দিবস। মরুপ্রান্তরের এক অনাড়ম্বর ভূমিতে সংঘটিত সেই ঘটনাটি কেবল একটি যুদ্ধের কাহিনি নয়, এটি ঈমানের দৃঢ়তা, নৈতিক সাহস এবং আল্লাহর উপর অবিচল আস্থার এক অনন্য দলিল।

হিজরি দ্বিতীয় সনের ১৭ রমজান। আরবের উত্তপ্ত বালুকাময় ভূমিতে মদিনা থেকে অগ্রসর হচ্ছিলেন নবী করিম সা. এবং তার অল্পসংখ্যক সাহাবি। তাদের সংখ্যা মাত্র তিন শতাধিক ইতিহাসে যাদের পরিচয় বদরী সাহাবি নামে অমর হয়ে আছে।

অপরদিকে মক্কার কুরাইশরা এসেছিল প্রায় এক হাজার যোদ্ধার সুসজ্জিত বাহিনী নিয়ে। অস্ত্র, অশ্বারোহী শক্তি এবং সামরিক প্রস্তুতিতে তারা ছিল বহুগুণ শক্তিশালী। কিন্তু সেই অসম বাস্তবতার মাঝেও মুসলমানদের হৃদয়ে ছিল এক অদৃশ্য শক্তি ঈমানের দীপ্তি এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরতা।

মদিনা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রান্তর এ এসে মুখোমুখি দাঁড়ায় দুই শক্তি একদিকে অহংকার ও ক্ষমতার প্রাচুর্য, অন্যদিকে সত্য ও বিশ্বাসের অটল প্রত্যয়। ইসলামের ইতিহাসে এই দিনটিকে বলা হয়েছে ইয়াওমুল ফুরকান সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যের দিন।

যুদ্ধের প্রাক্কালে নবী মুহাম্মদ সা. গভীর আকুতিতে আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছিলেন। ইতিহাসের বর্ণনায় আছে, তিনি দু’হাত উঁচু করে প্রার্থনা করেছিলেন যদি এই ক্ষুদ্র দলটি আজ পরাজিত হয়, তবে পৃথিবীতে আল্লাহর ইবাদতকারী আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। সেই মুহূর্তে তার দোয়ার আবেগ, সাহাবিদের অটল আস্থা এবং মরুর নিস্তব্ধতার ভেতর এক আধ্যাত্মিক আবহ সৃষ্টি হয়েছিল, যা মুসলিম চেতনার ইতিহাসে এক অনন্য দৃশ্য হয়ে আছে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সেই দিনটির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আল্লাহ তো বদরের যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করেছিলেন, অথচ তোমরা ছিলে দুর্বল।”

এই আয়াত শুধু একটি বিজয়ের স্মৃতি নয়, এটি মুসলিম সভ্যতার এক গভীর দার্শনিক সত্যকে তুলে ধরে মানবিক শক্তির সীমাবদ্ধতার ওপরে আছে ঈমানের শক্তি এবং আল্লাহর সাহায্য। ইসলামী ঐতিহ্যে বলা হয়, সেই যুদ্ধে ফেরেশতাদের সহায়তা নেমে এসেছিল, যা বদরের বিজয়কে কেবল সামরিক সাফল্য নয়, বরং আধ্যাত্মিক জয়ের প্রতীক করে তুলেছে।

বদরের বিজয় মুসলিম সমাজের জন্য ছিল এক ঐতিহাসিক মোড়। মক্কায় দীর্ঘ নির্যাতন ও বঞ্চনার ইতিহাস পেরিয়ে মদিনায় নবগঠিত মুসলিম সমাজ তখনো ছিল নাজুক অবস্থায়। কিন্তু এই বিজয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। আরবের রাজনৈতিক বাস্তবতায় মুসলমানদের উপস্থিতি তখন আর উপেক্ষা করার মতো ছিল না। বদরের মরুপ্রান্তরেই যেন ইতিহাস প্রথমবারের মতো ঘোষণা করেছিল একটি নতুন সভ্যতার সূচনা হয়েছে।

তবে বদরের প্রকৃত মাহাত্ম্য কেবল বিজয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুদ্ধশেষে নবী করিম সা. বন্দিদের প্রতি যে মানবিক আচরণ প্রদর্শন করেছিলেন, তা ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

অনেক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল শিক্ষাদানের বিনিময়ে যা প্রমাণ করে, ইসলামের নৈতিকতা যুদ্ধের উত্তেজনাকেও অতিক্রম করে মানবতার মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেয়।

আজও রমজানের দিনগুলো যখন ফিরে আসে, মুসলিম হৃদয়ে বদর দিবস নতুন করে জেগে ওঠে। এটি কেবল অতীতের একটি যুদ্ধকে স্মরণ করা নয়, বরং একটি আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করা যেখানে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস, ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগ এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা একত্রে ইতিহাস রচনা করে।

বদরের মরুপ্রান্তরে যে আলোকরেখা উদিত হয়েছিল, তা পরবর্তীকালে সমগ্র আরব উপদ্বীপ পেরিয়ে বিশ্বসভ্যতার দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে। সেই আলো আজও মুসলিম উম্মাহকে স্মরণ করিয়ে দেয় সংখ্যা নয়, সম্পদ নয়, বরং ঈমান, আদর্শ এবং নৈতিক দৃঢ়তাই ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনের প্রকৃত শক্তি।

বদর তাই কেবল অতীতের একটি ঘটনা নয়, এটি মুসলিম চেতনার এক চিরন্তন প্রতীক যেখানে মরুর নীরবতার মধ্যেই প্রথমবারের মতো উচ্চারিত হয়েছিল এক নতুন ইতিহাসের সূচনা।

লেখক: শিক্ষার্থী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো, মিশর