মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

আট মাসেই শতকোটি টাকা হাতিয়েছেন শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই খোকন

গত বছরের এপ্রিলের আগে বরিশালের কেউ চিনত না খোকন সেরনিয়াবাতকে। বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে কে পাবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তা নিয়ে যখন চলছিল আলোচনা-হঠাৎ করে নৌকার মাঝি হিসাবে কেন্দ্র থেকে ঘোষিত হয় তার নাম। অনেকটাই হতবাক হয়ে পড়েন বরিশালের মানুষ। কে এই খোকন সেরনিয়াবাত তা জানতে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন […]

নিউজ ডেস্ক

২১ আগস্ট ২০২৪, ০৩:৪২

গত বছরের এপ্রিলের আগে বরিশালের কেউ চিনত না খোকন সেরনিয়াবাতকে। বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে কে পাবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তা নিয়ে যখন চলছিল আলোচনা-হঠাৎ করে নৌকার মাঝি হিসাবে কেন্দ্র থেকে ঘোষিত হয় তার নাম। অনেকটাই হতবাক হয়ে পড়েন বরিশালের মানুষ। কে এই খোকন সেরনিয়াবাত তা জানতে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন সবাই। পরে জানা যায়, দলের প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর একমাত্র ভাই ও শহিদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের ছোট ছেলে এই খোকন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই।

দলীয় রাজনীতিতে কোনো অবদান না থাকলেও শেখ পরিবারের কোটায় ওই বছরের ১২ জুন অনুষ্ঠিত প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে জয়ী হন খোকন। মেয়রের দায়িত্ব নেন ১৪ নভেম্বর। মাত্র সাড়ে ৮ মাস ছিলেন এ দায়িত্বে। এ সময়েই নগর ভবনের ঠিকাদারির পার্সেন্টেজ নেওয়াসহ বিভিন্ন উপায়ে প্রায় শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনার ভাই হিসাবে প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষকে তটস্থ করে রেখেছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত তার কথায় উঠতে আর বসতে হতো বরিশালের প্রায় সবাইকে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর সাবেক মেয়র তারই ভাতিজা সাদিক আব্দুল্লাহর সময়ে বরাদ্দ দেওয়া নগরীর ১৮টি হাটবাজারের ইজারা বাতিল করেন খোকন। তার লোকজন দখল করে নেয় নগরীর দুটি বাস টার্মিনালসহ সব লঞ্চঘাট ও বালুমহালসহ অন্যান্য স্থাপনা। সেখান থেকে আয় হওয়া অর্থের ভাগ নিতে শুরু করেন তিনি।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে নগর ভবনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পরও টানা ৮ মাস বন্ধ রাখা হয় বরিশাল নগরীর সব প্রকার ভবন এবং স্থাপনা নির্মাণের প্ল্যান অনুমোদন। পরে ১-২টা করে প্ল্যান ছাড়া শুরু হলেও ৬ তলার বেশি উচ্চতার ভবনের প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষমতা নিজের হাতে রেখে দেন খোকন। কি কারণে তিনি এটা নিজের হাতে রেখেছেন তা সহজেই অনুমেয়। ৬ তলার নিচের ভবনের প্ল্যান অনুমোদনেও নির্দিষ্ট অঙ্কের উৎকোচ দিতে হতো তার নির্ধারিত লোককে। নির্বাচনের সময় সব প্রকার অযৌক্তিক কর বাতিলের ঘোষণা দিলেও দায়িত্ব নেওয়ার পর সেগুলো প্রত্যাহার তো দূর, বরঞ্চ নতুন করে পানির লাইন স্থাপনসহ বিভিন্ন খাতে কর বাড়ান খোকন। ট্রেড লাইসেন্স, সাইন বোর্ড রাজস্বসহ প্রায় সব খাতে টাকার অঙ্ক বাড়িয়ে দেন তিনি। ফলে বাড়তি করের কবলে পড়েন নগরবাসী। এমনকি ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরও অজ্ঞাত স্থান থেকে ২৮ জুলাই প্রায় ২ কোটি টাকার চেক স্বাক্ষর করেন খোকন। কোভিড প্রকল্পের ওই টাকা অতি সম্প্রতি এসেছিল নগর ভবনে। ২ কোটি টাকার চেক ছাড়ার বিনিময়ে পার্সেন্টেজ বাবদ টাকা নেন ২০ লাখ।’ চলতি বছরের মার্চে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ এবং সংস্কার কাজের ২৬৭ কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করে সিটি করপোরেশন। আগে ভাগেই ঠিক হয়ে থাকা ঠিকাদারদের কার্যাদেশ দেওয়া হয় পরের মাস এপ্রিলে। ১৮ গ্রুপের ওই কাজ পাওয়াদের তালিকায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বর্তমান উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফের শ্যালক বরিশালের বিতর্কিত ঠিকাদার মাহফুজ খানের নামও রয়েছে। ১৮ গ্রুপের কাজের মধ্যে তিনি একাই পান ৬ গ্রুপের কাজ। কাজ পাওয়া একাধিক ঠিকাদার  জানান, ‘টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই আমাদের সঙ্গে কাজের ব্যাপারে সবকিছু ফাইনাল করে নেন খোকন সেরনিয়াবাত। টেন্ডার মূল্যের বিপরীতে শতকরা ১০ ভাগ টাকা তাকে অগ্রিম দিয়ে কাজ নিতে হয় আমাদের।’

শুধু এই ২৬৭ কোটি টাকার ঠিকাদারিই নয়, গত সাড়ে ৮ মাসে নগর ভবনে যতগুলো ঠিকাদারি কাজের টেন্ডার কিংবা মৌখিক নির্দেশ হয়েছে, তার সবগুলোর ক্ষেত্রেই নির্ধারিত ১০ পার্সেন্ট হিসাবে টাকা দিতে হয়েছে খোকন সেরনিয়াবাতকে।

দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই আয় বাণিজ্যের খাতগুলোতে হাত দিতে শুরু করেন খোকন সেরনিয়াবাত। ভাগাভাগিতে বনিবনা না হওয়ায় নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে সরিয়ে দেন বাস মালিক গ্রুপের তৎকালীন সভাপতি আফতাব হোসেনকে। বসান নিজের লোক ছাত্রলীগের সাবেক নেতা অসীম দেওয়ানকে। এই অসীম দেওয়ান ছিলেন খোকনের আয় বাণিজ্যের ক্যাশিয়ার। নগর ভবনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বরিশাল নগরে বিসিসি’র নিয়ন্ত্রণাধীন মোট ১৮টি হাটবাজার রয়েছে। সঠিক নিয়মে টেন্ডার হলে এসব হাটবাজার থেকে বছরে ২০ কোটি টাকা ইজারা মূল্য আয় করা সম্ভব। কিন্তু নিজের আয় ঠিক রাখতে মাত্র ১ কোটি টাকায় হাটবাজারগুলো নিজের লোকজনের মধ্যে বণ্টন করে দেন খোকন। বিনিময়ে নেন মোটা অঙ্কের টাকা। এসব বাজার থেকে ওঠা প্রতিদিনের টাকার হিসাব নিতেন অসীম দেওয়ান। তারপর নির্ধারিত অঙ্ক পৌঁছে যেত সদ্য সাবেক মেয়রের বাসায়।’

বিআইডব্লিউটিএর একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই বরিশাল লঞ্চঘাটসহ নদী বন্দরে থাকা আমাদের প্রায় সব ঘাট দখল করে নেয় খোকন সেরনিয়াবাতের লোকজন। পরে অনেকটা বাধ্য হয়ে সরাসরি রাজস্ব আদায় দেখিয়ে তাদের হাতে ঘাট পরিচালনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হই আমরা। চলতি বছরের জুনে হাসিবুল ইসলাম নামে একজন একতলা লঞ্চ ঘাটের ইজারা পেলেও তাকে ঘাট বুঝিয়ে দিতে পারিনি।’ বরিশাল স্পিডবোট ঘাটের একাধিক বোট চালক বলেন, ‘এই ঘাট থেকে খোকন সেরনিয়াবাতের নামে নিয়মিত ওঠানো হত মোটা অঙ্কের চাঁদা। না দিলে বোট চালাতে না দেয়ার হুমকি দিত।’

বরিশাল নগরের দুটি বাস টার্মিনাল থেকেও মাসে ২৫ থেকে ৩০ লাখ করে টাকা নিতেন খোকন সেরনিয়াবাত। বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিবার গাড়ি ছাড়ার বিপরীতে ৬০ টাকা করে আদায় করত তার লোকজন। এভাবে দুটি টার্মিনাল থেকে আয় হতো প্রায় ১৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া মালিক সমিতির নিয়ন্ত্রণে থাকা বিএমএফ পরিবহণের আয়ের টাকাও দিতে হতো থাকে। এই খাতেও মাসে ৬-৭ লাখ টাকা পেতেন তিনি। দূরপাল্লার নতুন কোনো পরিবহণ এলে বরিশালের ওপর দিয়ে চলার বিনিময়ে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা দিতে হতো খোকন সেরনিয়াবাতকে।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এমন কোনো খাত নেই যেখান থেকে টাকা দিতে হতো না তাকে। এমনকি সাবেক মেয়র মরহুম শওকত হোসেন হিরনসহ তার ঘনিষ্ঠদের মালিকানাধীন ‘বরিশাল প্ল্যানেট পার্ক’র চুক্তি নবায়নেও উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পার্কের পরিচালনা পরিষদের একজন বলেন, ‘নবায়ন প্রশ্নে করপোরেশনের ফি প্রায় ১০ লাখ টাকা ছাড়াও আলাদাভাবে ৪০ লাখ টাকা দিতে হয়েছে।’

এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য খোকন সেরনিয়াবাতের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. রুবেলের নম্বরে ফোন দিলে রিং হলেও তিনি তা ধরেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

 

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৫

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৩

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।