রবিউল আলম, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়ে ন্যায়বিচার ও প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ভুক্তভোগীর পার্শ্ববর্তী ‘বিসমিল্লাহ কম্পিউটার’-এর মালিক জাকির হোসেনের সাথে কিছুদিন পূর্বে একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করতে গেলে জাকির হোসেন উগ্র আচরণ শুরু করেন এবং মারধরের উদ্দেশ্যে দোকান থেকে লোহার লাঠি বা স্ট্যান্ড নিয়ে তেড়ে আসেন।
পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাদের সরিয়ে দিয়ে ঝগড়া থামায় এবং যাওয়ার সময় জাকির হোসেন দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
এর ধারাবাহিকতায় জাকির হোসেন তার স্ত্রী আছিয়া খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন এবং ভুক্তভোগীপক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ দেওয়া হয়।
কোতোয়ালী থানার এসআই সুমনের উদ্যোগে সালিশ বৈঠক হলেও জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী তা না মেনে অন্যায়ভাবে জরিমানা দাবি করেন। তারা মিথ্যা অভিযোগ তোলেন যে, ভুক্তভোগীরা জাকিরের স্ত্রীকে মারধর ও দোকান ভাঙচুর করেছেন, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সালিশের মধ্যেই জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী এসআই সুমনের নির্দেশ অমান্য করে আছিয়া খাতুনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান এবং টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে একটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানোয়াট মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করান।
ওই রিপোর্টে মাথায় কুপিয়ে জখমের মিথ্যা দাবি করা হলেও বাস্তবে সেরকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি। পরবর্তীতে এই ভুয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞ আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়, যার মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে সামাজিকভাবে হয়রানি ও বড় ধরনের ক্ষতি করার চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, অভিযুক্ত জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও থানায় বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন নারীর সাথে কেলেঙ্কারি ছাড়াও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন কাজের কথা বলে টাকা নিয়ে তা আত্মসাৎ করার অসংখ্য অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে।
এমন একজন প্রতারক ও কুচক্রী ব্যক্তি নিজের ফায়দা লুটতে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করছেন বলে দাবি করা হয়।
উক্ত মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের উচ্চ মহলের নিকট সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এর প্রতিকার ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।