রাবি প্রতিনিধি: এম এ আতিকুর
‘দুই মাস কেন, দুই বছরেও রাকসু হবে না, যদি আরেকটি বিপ্লব না হয়’—এমন মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্তরিক হলে নভেম্বর মাসের মধ্যেই পরবর্তী রাকসু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব। এ জন্য নির্বাচনের রোডম্যাপ ও তফসিল ঘোষণার পাশাপাশি সিনেটে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের শপথ আয়োজনের দাবি জানান তিনি।
রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সালাহউদ্দিন আম্মার।
তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অতীত অভিজ্ঞতা থেকে আশঙ্কা হচ্ছে, নির্বাচন দুই মাস পিছিয়ে গেলে ভবিষ্যতে নতুন করে রাকসু নির্বাচন আয়োজনের পথ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
আম্মার বলেন, দীর্ঘ ৩১ বছর পর গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা রাকসু পেয়েছেন। বর্তমান সংসদের কার্যক্রম সফল হয়েছে নাকি ব্যর্থ, তা মূল্যায়নের জন্য আরেকটি রাকসু নির্বাচন প্রয়োজন। নতুন সংসদ গঠিত হলে আগের ও পরের দুই কমিটির কার্যক্রম তুলনা করে সফলতা-ব্যর্থতা নিরূপণ করা সম্ভব হবে।
পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান কমিটির চতুর্থ ও ষষ্ঠ অধিবেশনে নির্বাচন আয়োজন এবং সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ষষ্ঠ অধিবেশনে নির্বাচনসংক্রান্ত প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম তদারকির জন্য উপাচার্যকে সাময়িক দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষের কাছে নির্বাচনের তফসিল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তাঁর কোনো এখতিয়ার নেই। এতে নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব কার ওপর, তা নিয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষার কারণে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আম্মার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভর্তি পরীক্ষার সময় নির্বাচন আয়োজনের ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তবে ভর্তি পরীক্ষা ও রাকসু নির্বাচন সম্পূর্ণ আলাদা প্রক্রিয়া। একটির কারণে অন্যটি স্থগিত রাখার যৌক্তিকতা নেই। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা প্রয়োজন ছিল।
সিনেট ছাত্র প্রতিনিধিদের শপথের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁদের শপথের ব্যবস্থা করা হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বিভিন্ন কারণে তা পিছিয়ে যাচ্ছে। ফলে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এখনো সিনেটে তাঁদের দায়িত্ব পালন শুরু করতে পারেননি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাবেক জিএস বলেন, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হলে নভেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন সম্ভব। প্রশাসন সদিচ্ছার পরিচয় না দিলে শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে পরবর্তী রাকসু নির্বাচন আদায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেন তিনি।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দল-মতনির্বিশেষে নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান আম্মার। রাজপথে প্রতিবাদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি কিংবা নীরব সমর্থনের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীরা এ দাবির পক্ষে ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ থাকলে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, দখলদারত্ব ও আসন-বাণিজ্যের মতো অনিয়ম পুনরায় ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতি এড়াতে শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে সাংবাদিকদেরও ভূমিকা রাখতে হবে।